• ই-পেপার

বছরজুড়ে ভুগিয়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুৎ খাতে আসছে বড় প্রণোদনা

আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করসুবিধা বৈদ্যুতিক গাড়িতেও করসুবিধা, রেজিস্টেশন নবায়নের ক্ষেত্রেও অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে নানা পরিকল্পনা সরকারের

সজীব আহমেদ
জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুৎ খাতে আসছে বড় প্রণোদনা

জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, আমদানিনির্ভরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একগুচ্ছ কর ও শুল্কসুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সব ধরনের বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) রেজিস্টেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে এবং ইলেকট্রিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক গাড়ি খাতে বিশেষ প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র।

সংশ্লিষ্ট্ররা জানিয়েছেন, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ডিসি কেবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককর দিতে হয়। নতুন বাজেটে এসব পণ্যের করহার কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আয়কর অব্যাহতির সুযোগ রাখা হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন, নেট মিটারিং অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ বিক্রির ক্ষেত্রে পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) থাকলে করসুবিধা পাওয়া যাবে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎশিল্পের বিকাশে রেয়াতি সুবিধা : নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস, সৌর বিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এই খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করা হচ্ছে। এই খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে আগামী নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশে এই খাতসংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ পণ্যসমূহের রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। 

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় কমবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর এলএনজি, কয়লা, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করছে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে দেখছেন।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উচ্চ শুল্ক ও করহার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান বাধা। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইভি আমদানির ওপর বিদ্যমান প্রায় ৯০ শতাংশ করহার কমানোর চিন্তাও করছে সরকার। পাশাপাশি দেশে ইভি উৎপাদন উৎসাহিত করতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়, ভ্যাট রেয়াত এবং আয়কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে সরকার যে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত যুক্তিসংগত এবং সময়োপযোগী। এসব সুবিধা খাতটির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) জন্য প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্তও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক পরিচালনায় ব্যবহৃত আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘অপেক্স মডেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আর্থিক সুবিধা ও সাশ্রয়ের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে, সেগুলোও খাতটির অগ্রগতিতে সহায়ক হবে। কর ও শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরাসরি প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক উদ্যোগ। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রণোদনার চিন্তা-ভাবনা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

রুফটপ সোলার প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘অতীতে অনেক স্থানে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মানগত সমস্যা দেখা গেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফা আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই। কর ও শুল্কসুবিধা দেওয়া হলে শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়বে, বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে। বড় আকারের সৌর প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও পেমেন্ট সিকিউরিটি, নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা এবং অর্থায়ন ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ঐতিহাসিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। আগামী বাজেটে ‘সবুজ রাজস্বনীতি’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসার ত্বরান্বিত হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের কিছু উপাদানে শুল্ক কমানো ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং গ্রিড অবকাঠামোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপর এখনো উচ্চ করহার বহাল রয়েছে। অন্যদিকে এলএনজি আমদানিতে তুলনামূলক কম শুল্ক বিদ্যমান থাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পাচ্ছে না।’

গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত কর ও শুল্কসুবিধা বাস্তবায়িত হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার সম্প্র্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না

আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি থাকলেও তা বাড়ানো হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী দুই করবর্ষের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা র্নিধারণ করে গেছে। সেটাই বহাল রাখা হতে পারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব রাখতে পারেন।

তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করমুক্ত থাকার পরের তিন লাখ টাকার ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ হারে। এর পরের চার লাখ আয়ের ওপর গুনতে হবে আরো ১৫ শতাংশ কর। আগে করমুক্ত সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও পরের এক লাখ টাকার ওপর কর দিতে হতো পাঁচ শতাংশ হারে। তার পরের চার লাখের ওপর করহার ছিল ১০ শতাংশ। ধীরে ধীরে ওপরের স্লাবে এই হার আরো বাড়ানো হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি থাকলেও এই হারে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

আগামী বাজেটে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা র্নিধারণ করা হয়েছে। এরপর তিন লাখ টাকা আয়ের ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ হারে। পরের চার লাখ টাকা আয়ের ওপর সরকারকে কর দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে। আরো পাঁচ লাখ টাকা আয় থাকলে করের হার বেড়ে হবে ২০ শতাংশ। এই আয় অতিক্রম করলে করের হার হবে ২৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে সীমা হবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর পরের দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে সরকারের কোষাগারে। কারো আয় এরচেয়েও বেশি হলে তিনি কর দেবেন ৩৫ শতাংশ হারে।

এ ছাড়া ২০৩০-৩১ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালেও করের স্ল্যাবের খুব একটা পরিবর্তন নেই। এর পরের তিন লাখ টাকা আয়ের ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ হারে। পরের চার লাখ টাকা আয়ের ওপর সরকারকে কর দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে। আরো পাঁচ লাখ টাকা আয় থাকলে করের হার বেড়ে হবে ২০ শতাংশ। এই আয় অতিক্রম করলে করের হার হবে ২৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে সীমা হবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর পরের দুই কোটি ৬৩ লাখ ৫০ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে সরকারের কোষাগারে। কারো আয় এরচেয়েও বেশি হলে তিনি কর দেবেন ৩৫ শতাংশ হারে।

সঞ্চয়পত্রে দ্বিগুণ কর, কমছে রেয়াত

আগে কর দিলে প্রণোদনা, দেরিতে জরিমানা মোটরযানে বাড়বে করের পরিমাণ বিলাসী গাড়ির অগ্রিম আয়কর দ্বিগুণ ভিন্ন মোড়কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কর না দিলে খোলা যাবে না ব্যাংক হিসাব হেলিকপ্টারে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম কর খুচরা বিক্রেতাও আসবেন করের আওতায়

মো. জাহিদুল ইসলাম
সঞ্চয়পত্রে দ্বিগুণ কর, কমছে রেয়াত

সম্পদশালী মানুষের সম্পদে বাড়ানো হচ্ছে না করের হার। তবে আইনের মারপ্যাঁচে গরিব-মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সম্বল সঞ্চয়পত্রে দ্বিগুণ হারে কর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাজেটে। এতে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের মালিককে তাঁর সুদ আয়ের ওপর অন্তত ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আগে একই পরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে তিনি ৫ শতাংশ হারে কর দিতেন। সেই হিসাবে তাঁকে আগের তুলনায় দ্বিগুণ হারে কর দিতে হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ঘোষণা আসবে। আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাব রাখবেন।

বর্তমানে ১০ লাখ টাকার পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে মুনাফা পাওয়ার সময় মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হয়। এর চেয়ে বেশি অঙ্কের সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার ১০ শতাংশ। আয়কর আইন অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা যে পরিমাণ টাকা মুনাফা হিসেবে পান, তা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ এই মুনাফার ওপর আর কোনো কর দিতে হয় না।

নতুন বাজেটে মুনাফার ওপর আয় ক্রেতার চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই আয়ের ওপর আবার কর দিতে হবে তাঁর নির্ধারিত আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী। আগে উৎসে কর হিসেবে যে টাকা কেটে রাখা হতো, এখন তা অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সাধারণত সিসিভেদে গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর কেটে নেওয়া হয়। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় তা প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। এবার একই পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতাদের সঞ্চয়পত্রের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয় সমন্বয় করতে হবে।

ধরা যাক, একজন করদাতার পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। তিনি প্রতি তিন মাসে ১৪ হাজার ৩৬ টাকা সুদ বাবদ আয় করেন। এই টাকার বিপরীতে তাঁর কাছ থেকে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয় ৭৩৮ টাকা ৭৫ পয়সা। একই হারে সুুদ পেলে বছর শেষে তাঁর আয় ৫৬ হাজার ১৪৫ টাকা। বছর শেষে তাঁর কাছ থেকে কেটে নেওয়া করের পরিমাণ দুই হাজার ৯৫৫ টাকা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তিনি যখন রিটার্ন দেবেন, তাঁকে এই আয়ের বিপরীতে আর কোনো ধরনের কর দিতে হয় না। কারণ সঞ্চয়পত্রের আয় চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু বর্তমান নিয়মে এই করহার ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ হবে। কারণ সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ আয় চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই করকে অগ্রিম আয়কর হিসেবে ধরা হবে। সেই হিসাবে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার দেওয়া দুই হাজার ৯৫৫ টাকা কর হবে অগ্রিম আয়কর। অন্যদিকে আগামী করবর্ষে করদাতাদের জন্য সর্বনিু স্ল্যাব ১০ শতাংশ। তাই সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার যদি করযোগ্য আয় তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে তাঁকে কর দিতে হবে ১০ শতাংশ হারে। এর চেয়ে বেশি হলে তাঁর কর আরো বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ শতাংশে।

কর রেয়াত কমছে : সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগে করদাতারা কর রেয়াত পান। মোট আয়ের ৩ শতাংশ, মোট অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকাÑএর মধ্যে যেটি কম, সেটি রেয়াত হিসেবে চূড়ান্ত কর থেকে বাদ দেওয়া হয়। আগামী বছর অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১০ শতাংশ ও সর্বোচ্চ সীমা সাড়ে সাত লাখ টাকা করা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে পাঁচ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা। অবশ্য বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের খাত একই থাকছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করলেও কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যাবে। ডিপিএসের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকার ওপর এই করছাড় দেওয়া আছে।

আগে কর দিলে প্রণোদনা, দেরিতে জরিমানা : এখন ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়। এবারের বাজেটে করা হয়েছে ভিন্ন নিয়ম। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ প্রণোদনা। তবে তা ২৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিলে প্রণোদনা পাওয়া যাবে না, অতিরিক্ত করও দিতে হবে না। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে ২ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। তবে তা তিন হাজার টাকার বেশি হবে না। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। তবে এর সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ হাজার টাকা। নতুন করদাতাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ জুন।

মোটরযানে বাড়বে করের পরিমাণ : এসি ডবলডেকার/স্লিপার বাসে অগ্রিম কর দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। ২০ টন বা তার বেশি পেলোড ক্যাপাসিটির ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভার, লরি বা ট্যাংক লরি, ক্রেন, এক্সকাভেটর, ড্রেজার, রোলার, কংক্রিট মিক্সচারসহ সব হেভি মোটর ভেহিকল বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা।

খরচ বাড়বে ইটভাটায় : এক লাখ আট হাজার ঘনফুট আয়তনের কম ইটভাটার জন্য অগ্রিম আয়কর ছিল ৮০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হবে এক লাখ টাকা। এক লাখ আট হাজারের বেশি তবে এক লাখ ২৪ হাজার ঘনফুট আয়তনের কম ইটভাটার জন্য অগ্রিম আয়কর ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হবে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক লাখ ২৪ হাজারের বেশি ঘনফুট আয়তনের বেশি ইটভাটার জন্য অগ্রিম আয়কর ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হবে দুই লাখ টাকা। এর চেয়ে বেশি আয়তনের ইটভাটার ক্ষেত্রে আগে অগ্রিম আয়কর ছিল দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন তা তিন লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিলাসী গাড়ির অগ্রিম আয়কর দ্বিগুণ : এখন সাড়ে তিন হাজার সিসির একটি গাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। তবে আগামী বাজেটে এই গাড়ির জন্য দিতে হবে চার লাখ টাকা। সাড়ে চার হাজার সিসির ক্ষেত্রে এই করের অঙ্ক দাঁড়াবে পাঁচ লাখ টাকা। তিন হাজার সিসির বেশি তবে সাড়ে তিন হাজার সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারিত আছে। আগামী বাজেটে এই হার আরো বেড়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। আড়াই হাজার সিসির বেশি তবে তিন হাজার সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক লাখ ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারিত আছে। আগামী বাজেটে এই হার বেড়ে আড়াই লাখ টাকা হতে পারে। দুই হাজার ৫০০ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে করহারের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ ছাড়া মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে আগে কর ছিল ৩০ হাজার টাকা। এখন মাইক্রোবাস ও ডবল কেবিন পিকআপের জন্য গুনতে হবে ৪০ হাজার টাকা।

বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করছাড় : আগের নিয়মে সিসির সঙ্গে কিলোওয়াটের হিসাবের জটিলতায় বৈদ্যুতিক গাড়িতে অনেক বেশি হারে অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হতো। ১৭৫ কিলোওয়াটের গাড়িতে অগ্রিম করের পরিমাণ ছিল দুই লাখ টাকা। এবারের বাজেটে এর পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারের বাজেটে ২০০ কিলোওয়াটের নিচে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য অগ্রিম কর ২৫ হাজার টাকা। ২০০ কিলোওয়াটের বেশি তবে ৩০০ কিলোওয়াটের কম হলে ৫০ হাজার টাকা। ৩০০ কিলোওয়াটের বেশি তবে ৪০০ কিলোওয়াটের কম হলে ৭৫ হাজার টাকা। ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি হলে এক লাখ টাকা।

ভিন্ন মোড়কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ : বরাবরের মতো আগামী বাজেটেও থাকছে প্রশ্নহীন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। তবে এবার কিছুটা বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে দলিলমূল্য কম হলে তিনি অপ্রদর্শিত টাকার ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত হারে আয়কর দেবেন। আগে এই হার ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়ের প্রকৃত মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি অপ্রদর্শিত অঙ্কের ওপর মূলধনী মুনাফার জন্য প্রযোজ্য হারে কর দেবেন।

তবে করদাতার ঘোষণার আগে আয়কর আইনের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম নেওয়া হলে অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর দিতে হবে। এ ছাড়া করদাতার ঘোষণার আগে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের কোনো আদালতে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হলে বা কোনো মামলা চলমান থাকলে এই সুবিধা পাবেন না।

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা : নতুন করে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (পিএসআর) দেওয়ার ক্ষেত্র বাড়ানো হয়েছে। ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের নিবন্ধন-মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নের সময় পিএসআর দিতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলেও লাগবে পিএসআর। তবে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট, নো-ফ্রিল্র অ্যাকাউন্ট ও টিআইএন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তদের পিএসআর লাগবে না।

রপ্তানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর কমল : রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাত মূলত এই প্রণোদনার বড় সুবিধাভোগী। একদিকে ভর্তুকির আদলে প্রণোদনা দিয়ে অন্যদিকে এর বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। এবারের বাজেটে এই হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।

কিডনি, হৃদরোগ, চক্ষু চিকিৎসায় স্বস্তি আনছে নতুন বাজেট

প্রতি ডায়ালিসিসে খরচ কমবে ৮০০ টাকা হার্টের স্টেন্টের দাম কমবে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চোখের লেন্সের দাম কমবে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে শুল্ক-ভ্যাট মওকুফ

শিমুল মাহমুদ
কিডনি, হৃদরোগ, চক্ষু চিকিৎসায় স্বস্তি আনছে নতুন বাজেট

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য খাতে একাধিক কর ও শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কিডনি রোগী, হৃদরোগী, চক্ষুরোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদনও উৎসাহিত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হবে। এবারের বাজেটে ডায়ালিসিস ফিল্টার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে হেমোডায়ালিসিসে ব্যবহৃত ব্লাড টিউবিং সেটের ওপর আরোপিত ৭.৫ শতাংশ আগাম করও মওকুফের প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতি ডায়ালিসিসে রোগীদের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ডায়ালিসিসের খরচ বহন করতে গিয়ে ৯২ শতাংশ পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। প্রায় ২০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডায়ালিসিসও নিতে পারেন না।

হৃদরোগ ও চক্ষু চিকিৎসার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে আমদানি করা হার্টের রিং বা স্টেন্ট এবং চোখের ইনট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে আরোপিত ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে একটি স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং একটি ইনট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতিশিল্পের বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালসহ জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগাম কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওষুধশিল্পের বিকাশে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনের জন্য নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ওষুধশিল্পের আরো ১৭টি কাঁচামালে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতে দেশীয় ওষুধশিল্প আরো শক্তিশালী হবে এবং ওষুধের উৎপাদন ব্যয় কমবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও একাধিক সুবিধা রাখা হয়েছে। তাদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি পণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এবারের বাজেটে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলস আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হবে। একই সঙ্গে সিগারেটের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবৃদ্ধি এবং তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাজেট প্রসঙ্গে গতকাল স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি জানান, দেশের সব মানুষকে ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা কমাবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে অন্তত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নারী। চিকিৎসক সংকট দূর করতে বড় পরিসরে নতুন ডাক্তার নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বছরজুড়ে ভুগিয়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি | কালের কণ্ঠ