জাতীয় সংসদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর মিছিল ও প্রতিবাদকে একজন নারী সংসদ সদস্য ‘মবোক্রেসি’ বলায় অধিবেশনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে একজন নারী সদস্য এমন মন্তব্য করেছেন। তার করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মবোক্রেসি শব্দটিকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য যথেষ্ট সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উনি ওনার বক্তব্যের মাঝে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী যে প্রতিবাদ মিছিল করেছে সেটাকে তিনি মবোক্রেসি বলেছেন, আমি এই শব্দটিকে আপনার মাধ্যমে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সদস্য এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। আপনার যখন বাজেটে বলার টার্ন আসবে তখন এটার ভালোভাবে জবাব দেবেন। এখন এটা এক্সপাঞ্জ করার মতো কোনো কিছুই না।’
এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও এই শব্দটির অর্থ ভালো নয় উল্লেখ করে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘আসলে মবোক্রেসি শব্দটা কোনো ভালো মিনিং ক্যারি করে না। ডেফিনিটলি এটা একটা অবজেকশনেবল শব্দ এবং আমার ধারণা তিনি খেয়াল করলে এটা বলতেন না। বেখেয়ালে বলে ফেলেছেন।’
অতীতেও এমন প্রতিবাদ হয়েছে উল্লেখ করে সেসব প্রতিবাদও মবোক্রেসি কি না, এমন প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই ধরনের বাজেটের প্রতিক্রিয়া আমরাই করিনি প্রথম, এর আগে সেভারেল টাইমস বিএনপিও করেছে, অনেকেই করেছে। তাইলে কি সবকিছুই মবোক্রেসি ছিল? আমার মনে হয় যে, এই শব্দটা এখানে বেমানান এবং এটা এক্সপাঞ্জ করাই উচিত।’
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরে আবারও স্পিকার বলেন, ‘এই শব্দটি অশ্লীল কোনো শব্দ নয়।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন ‘মাননীয় সদস্য মবোক্রেসি এখন একটা কমন টার্ম হয়ে গেছে। সবার বক্তৃতাতেই এটা শোনা যায়। তো এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। মবোক্রেসি এটা অসংসদীয় কোনো কিছু বলে আমি মনে করি না। আপনারাও এই বক্তব্য ইউজ করতে পারেন। রাজনীতিতে এটা নিন্দনীয়, ডেমোক্রেসির বিরুদ্ধে, কিন্তু এটা এখনো অশ্লীল একটা শব্দ না।’




