• ই-পেপার

চলল মেট্রো রেল : এ শুধু স্বপ্ন নয়, সত্যি

লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে ঢাকাতেও লোডশেডিং হবে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে লিকেজ দেখা দেওয়ায় সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

তবে কোন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিবৃতিতে তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় সংকট উল্লেখ করে তিনি সংসদের মাধ্যমে জনগণ ও বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের প্রকোপও কমে আসবে।

লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার

ট্রেড লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনে, আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার
সংগৃহীত ছবি

দেশে ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যেখানে গড়ে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে, সেখানে ভবিষ্যতে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১৪ দিন। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা হবে এবং সেবাগুলোকে দ্রুত ও ডিজিটাল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ব্যবসা শুরু থেকে কার্যক্রমে যেতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। আমরা সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। লক্ষ্য হচ্ছে, একটি নতুন কম্পানি যেন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।’

তবে সব ধরনের লাইসেন্স ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার লাইসেন্সসহ কিছু ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন হয়। এজন্য এসব সেবায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

ট্রেড লাইসেন্স হবে অনলাইনে
ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সরাসরি যেতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালে আবেদন ও ফি জমা দিলেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি জমা হবে।’

এছাড়া যৌথ মূলধনি কম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক দপ্তর (আরজেএসসি), শেয়ার হস্তান্তর এবং কম্পানি অবসায়ন প্রক্রিয়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির ওপর জোর
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে মুক্তাদির বলেন, এবারের বাজেট তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বাজেটকে ‘স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা বৃদ্ধি।’ তিনি জানান, মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো গেলে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

লজিস্টিক ব্যয় কমানোর তাগিদ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের বড় ব্যবধান কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

জ্বালানি সংকটে আটকে শিল্প বিনিয়োগ
জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।

তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সার কারখানার জন্য পৃথক এলএনজি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

চামড়া ও পাটে নতুন সম্ভাবনা
চামড়া ও পাট খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ রপ্তানির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) উন্নয়নের মাধ্যমে চামড়া খাতের রপ্তানি ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

এ ছাড়া গবেষণা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাট খাতকেও আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষদিকে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাজেট ও নীতিগত সংস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।’

ফখরুল ভাই আমার ওপর একটু মাইন্ড করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ফখরুল ভাই আমার ওপর একটু মাইন্ড করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে বলেছিলাম, ইসলামী ব্যাংকও ইসলাম না, আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম না, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম না। ফখরুল ভাই আমার ওপর একটু মাইন্ড করেছেন। এর জন্য আমি আজকে এটাকে নূরুল ইসলাম বলছি।’

রবিবার (২৮ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কালকে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বললেন, আজকাল ফতোয়া নেওয়ার জন্য হাটহাজারী, পটিয়া এবং লালবাগে যেতে হবে না। কোথায় যেতে হবে—সংসদে। কার কাছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। কয় মুফতি-টুফতি আর লাগবে না, আরেকটা কী যেন বলেছেন, ডট ডট দিয়েও বলেছেন...। আমি তো কখনো বলি নাই, জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামী দল না। এটা আপনারা নিজেরা নিজেরা টেনে এনেছেন। তবে আপনারা কী রকম ইসলামী দল, সেটা একটু বলব।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম জামায়াতে ইসলামী মানে ইসলাম না। ইসলাম ডিফারেন্ট জিনিস। কিন্তু আপনি কালকে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামী দল এবং জামাআতে ইসলামীকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। মাননীয় স্পিকার, ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম জামাআতে ইসলামীর জন্মই হয়েছে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী তখন ব্রিটিশ-ভারতের লাহোরে ইসলামিয়া পার্কে একটা সম্মেলনের মাধ্যমে এর জন্ম। ১০০ বছর তো নাই, এখন ৮৪ বছর। ১০০ বছর হতে হতে আমি বাঁচব বলে মনে হয় না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে একটা শাখা হয়েছিল। আপনাদেরটা তো অনেকটা আন্তর্জাতিক সংগঠনের মতো, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ—কয়েক দিন আগে আপনারা বাংলাদেশ শব্দটা আগে এনেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা তো ইতিহাস বলছে বলেছেন, ১৯৪৭-এর সময়ে আপনারা পাকিস্তান চাননি। এটা ঐতিহাসিকভাবে ভুল হতে পারে। এখন ১৯৭১-এ ফের আপনারা বাংলাদেশ চাননি। আবার ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুমোদন করলে আপনারা আবার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ শাখা নামে শুরু করলেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যমুনার অন্দরে আর কিনারে হওয়া ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত হওয়া দরকার। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই তদন্ত হতে পারে। আজ রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়কালেরও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। যে তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে সবাই মিলে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এরপর অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। গত কয়েকদিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি রিপোর্ট দিয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই পত্রিকা বা রিপোর্টটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবুও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই এই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তার সবকিছুই দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত।’ বর্তমান সরকারের ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো ধরনের অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। সেই সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগাপ্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।’  পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আমলের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে সরকার ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে।  বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে মিলিয়ে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই জুলাই সনদে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘ 

এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অফ নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার বাজেট দেওয়ার আগে পরে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।’

বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিৎসের তত্ত্বের আলোকেই বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মাল্টি-পোলার বিশ্বে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ এসময়  সকলের সহায়তায় এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলল মেট্রো রেল : এ শুধু স্বপ্ন নয়, সত্যি | কালের কণ্ঠ