• ই-পেপার

পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকর খেলা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নকাজে বহিরাগত ঠিকাদারদের আধিপত্য এবং কাজ বারবার হাতবদলের কারণে গ্রামীণ অবকাঠামোর মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিদ্যমান ক্রয়বিধি (পিপিআর) পর্যালোচনা করে স্থানীয় যোগ্য ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি উত্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। এসব ঠিকাদার নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।

সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কাজগুলো একাধিকবার হাতবদল হওয়া। মূল ঠিকাদার কাজ নিয়ে পরে স্থানীয় পর্যায়ে অন্যদের কাছে ছেড়ে দেন। এতে মাঝপথে বিপুল অর্থ চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কম বাজেটে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হয়। ফলে কাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার প্রয়োজন সম্পর্কে বেশি অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহিতার কারণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এলজিইডির কাজ সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসারে সম্পন্ন করা হয়। পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারেন। তবে উন্মুক্ত দরপত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের যেকোনো প্রান্তের ঠিকাদার অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

পরে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদার কাগজে-কলমে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজ পাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে একাধিক ধাপে কাজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। দাম কমতে কমতে শেষ পর্যায়ে যে ঠিকাদার কাজ করেন, তিনি বাধ্য হয়ে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করেন। এর ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যার বিষয়ে সরকার পুরোপুরি অবগত। কাজের হাতবদল এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা যাতে ন্যায্যভাবে কাজ পান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে বিদ্যমান পিপিআর পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে এ সব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য আইডি ও পেজ, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের প্রধান, তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলো আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না, সেটি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলছে। নতুন আইনে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়গুলোও আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে মেটার মতো প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার সুযোগ নেই। ফলে বিটিআরসি বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরোধ পাঠালেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনে সেই সুযোগ এখনো নেই।’

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট নিষ্পত্তির জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে এখনো ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।

তিনি জানান, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ সংসদের চলতি অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

৫ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
৫ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বিগত সরকারের ভুল নীতির ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘বিগত ৫ বছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের সঙ্গে।’ এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরো পড়ুন
বিচার ও আইন অঙ্গনের সফলতাই নিশ্চিত করবে নাগরিক স্বস্তি

বিচার ও আইন অঙ্গনের সফলতাই নিশ্চিত করবে নাগরিক স্বস্তি

 

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন
১০০ দিনের অপরাধের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

১০০ দিনের অপরাধের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

 

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল এবং রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ এ খাত থেকে অর্জিত হয়।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।

জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি তিন বছর ধরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ঘরে আটকে আছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের পর প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায়নি। এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা কমেছে এবং খাতটির সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আরো পড়ুন
দেবের গাল টিপে দিলেন শুভেন্দু, মহাকাব্যিক দলবদলের মহানায়কও তিনি

দেবের গাল টিপে দিলেন শুভেন্দু, মহাকাব্যিক দলবদলের মহানায়কও তিনি

 

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। বর্তমান বিবেচনায় তা সন্তোষজনক।

মন্ত্রী আরো বলেন, কোথাও সংরক্ষিত চামড়া বিক্রি না হলে সংসদ সদস্যরা জানালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা বিক্রির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে সরকার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ও ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্যের মধ্যে ঠিক কোন পণ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে, সেটা পিনপয়েন্ট করা গবেষণার বিষয়।

১০০ দিনের অপরাধের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক
১০০ দিনের অপরাধের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র তুলে ধরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা গত তিন মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধির অধীনে দেওয়া নোটিশের ওপর ২ মিনিটের বক্তব্যে রুমিন ফারহানা এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসার জন্য অপেক্ষা করছি। কী আর করা, তার অনুপস্থিতিতেই বলতে হচ্ছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এই সময়ে ৪৭৬টি খুন, ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি, চুরির ঘটনা ২,২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩,৪৯৬টি।

রুমিন বলেন, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১ জন। আমাদের এই পরিসংখ্যানটি স্পষ্ট করে দেয়, বাংলাদেশে গত তিন মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কী। আমি বলেছিলাম যে, এই সরকারের অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা এই দুটো বিষয়ে যারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন তাদের ওপরে নির্ভর করবে ৫০ ভাগ এবং বাকি ৫০ ভাগ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপরে, যে এই সরকারটি কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন, আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে আমার পক্ষে সহজ হতো আরো স্পষ্ট করে বলা যে, এই সরকারের সফলতার ৫০ ভাগ দায় অর্থ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে।

পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকর খেলা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের | কালের কণ্ঠ