• ই-পেপার

সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি

প্রতি সাড়ে ৬ মিনিটে একজনের মৃত্যু ঘটছে করোনায়

সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল—মনে করে বিজিবি

বিবিসি বাংলা
সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল—মনে করে বিজিবি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় গত কিছুদিন ধরেই 'পুশ ইন' বা 'পুশ ব্যাক' নিয়ে উত্তেজনা চলছে। বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বারবার পতাকা বৈঠক, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা তো ঘটেছেই। একাধিকবার ধাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইন করানোর একটি প্যার্টান খুঁজে বের করেছে বিজিবি কর্মকর্তারা। পুশ ইনের আগে ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটিকে 'সিগন্যাল' ধরে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি কর্মকর্তারা।

বিজিবির রবাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মে মাসের শেষদিক থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাক উত্তেজনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর সীমান্ত সড়ক রয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন জায়গায় গেট রয়েছে। সীমান্ত সড়ক দিয়ে রাতে বড় গাড়িতে করে মানুষ নিয়ে গিয়ে, লাইট বন্ধ করে, কোনো একটি গেট খুলে দিয়ে মানুষ বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় তারা।"

প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রেই বিএসএফের এই পুশ ইন করার প্যাটার্ন বা ঘটনাপ্রবাহটা একইরকম জানিয়ে তিনি বলেন "প্রতিটি পুশ ইনের আগেই ওই এলাকায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, এটি সবচেয়ে বড় সিগন্যাল।" 

মে মাসের শেষদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সংলগ্ন সীমান্তের ভারত অংশে কয়েকশো মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবির। এ ঘটনার পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সব অঞ্চলেই নজরদারি বৃদ্ধি করে বিজিবি।

ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেয় বিজিবি। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসানের দাবি, সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ এই নজরদারি আর টহলের কাজে বিজিবিকে সহায়তা না করলে 'পুশ ইন' ঠেকানো সম্ভব হতো না বিজিবির পক্ষে।

তিনি জানান, স্থানীয় স্কুলে, মসজিদে, এলাকার বাজারে গিয়ে বিজিবি নিয়মিত মাইকিং করে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জানানো হয়, সীমান্তে সেসব লক্ষণগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে পুশ ইন হতে পারে।

গত ৩ জুন বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে একজন চৌকিদারের কাছ থেকে পুশ ইনের তথ্য পায় বিজিবি। চৌকিদার জানান, বিজিবি কয়েকদিন আগে থেকে তাকে সীমান্তের লাইট বন্ধ হওয়া বা রাতে সীমান্তের ওপারে গাড়ি চলাচলের শব্দ শুনলে সতর্ক থাকার জন্য বলে।

বিজিবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি বিএসএফ। তবে বিজিবির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠকে তারা একাধিকবার এই পুশ ইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে বলছেন বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

অনলাইন ডেস্ক
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মগবাজারে হাসপাতালটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল।

তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মগবাজার শাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা আমরা সঠিকভাবে পালন করব। এক্ষেত্রে রোগীদের কোনো প্রকার ক্ষতি যে না হয়; সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি এবং খেয়াল রাখব, ইনশাআল্লাহ।

হাসপাতালটির পরিচালক বলেছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করব। আশা করব, জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখতে আমাদের অনুমতি দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে ওয়ার্ডে যে ছয়টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে; সেই ওয়ার্ড আমরা বন্ধ রেখেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ওয়ার্ডের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করব।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের যে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। সে কাজে রোগীদের যাতে কোনো প্রকারের ক্ষতি না হয়। আমরা সে বিষয়ে খেয়াল রাখছি। তাদের পাশে আমরা সবসময়ই ছিলাম এবং এখনো আছি।

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেট-পরবর্তী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন, অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিক্ষা মন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী. মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
 

স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছি : নুরুননাহার নিম্নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছি : নুরুননাহার নিম্নি

আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে ক্যাম্প ৪ থেকে চূড়ান্ত সামিটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিছুদূর যেতেই তুষারঝড় শুরু হয়। গগলসের ফাঁক দিয়ে চোখে তুষারের কণা ঢুকে গেল। এর মধ্যেই ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে পড়ি সেই বিপত্তিতে। লাকপার সহায়তায় বিপদ মাড়িয়ে  সূর্যোদয় দেখতে দেখতে এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে যাই। কত শ দিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের ফল। এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে দেখি। আমি পেরেছি, আমার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছি।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এভারেস্ট জয়ের গল্প এভাবে বর্ণনা করেছিলেন সদ্য এভারেস্ট-জয়ী বাংলাদেশি নুরুননাহার নিম্নি।

তার এভারেস্ট জয় উপলক্ষে পতাকা-প্রত্যর্পণ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন–বাংলাদেশে নেপালি দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ললিতা সিলওয়াল, বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী শিরীন পারভিন হক, পূবালী ব্যাংক পিএলসির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফারজিন আহমেদ ও এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত।

নুরুননাহার নিম্নি বলেন, ২২ মে সকালে ক্যাম্প ৩ থেকে বের হয়ে ক্যাম্প ৪-এর উদ্দেশে রওনা দিই। পুরো পথই খাড়া চড়াই। ভয়ংকর তুষারঝড়ের কবলে পড়ে যাই। কোনোভাবেই দাঁড়ানো যাচ্ছে না। দৃঢ় মনোবল থাকা সত্ত্বেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেদিন ক্যাম্প ২-এ ফিরে আসতে হয়।

আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দুই দিন পর আবার যাত্রা শুরু করি। খাড়া পথ, মাঝে মাঝে রোপে ঝুলে পানি ও চকোলেট খেয়ে শক্তি বজায় রাখছি। আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ৭ হাজার ৮০০ মিটার ওপরে ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছে যাই ২৬ মে। 

প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতার ক্যাম্প-৪। এটি ডেথ জোন নামে পরিচিত। তীব্র বাতাসে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ক্যাম্পজুড়ে ঝড়ের তাণ্ডবের চিহ্ন। ছেঁড়া তাঁবু, ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার, চুলা, খাবার—সব কিছু এলোমেলো পড়ে আছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্প-৪ যেন ময়লার বিশাল এক স্তূপ। গাইড জানায় ক্যাম্প-৪ নাকি প্রায় সব সময়ই এমন ময়লা থাকে, নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। উত্তর শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। 

কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাইনাল সামিটের জন্য রওনা দিই। আবহাওয়া পরিষ্কার, বাতাসও থেমে গেছে। গাইডসহ এগিয়ে চলছি। একসময় হিলারি স্টেপে পৌঁছে গেলাম। এর কিছুক্ষণ পর কাঙ্ক্ষিত এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে গেলাম। 

তার মতে, এ যাত্রা ছিল খুবই দুঃসাহসিক। প্রচণ্ড বাতাসের তীব্রতার কারণে চূড়ায় সরাসরি দাঁড়াতে পারেননি। চূড়াটি শুধু ছুঁয়ে দেখেছি। স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখেছি।

এর আগে নিম্নি ভারতে পর্বতারোহণ বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ৬ হাজার মিটারের একটি ও ৭ হাজার মিটারের একটি পর্বত আরোহণ করেছেন।

প্রতি সাড়ে ৬ মিনিটে একজনের মৃত্যু ঘটছে করোনায় | কালের কণ্ঠ