• ই-পেপার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আলোচনা

ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের

বয়স্কদের জন্য ট্রেনের ভাড়া ফ্রি, মেট্রো রেলে ২৫ শতাংশ ছাড়

অনলাইন ডেস্ক
বয়স্কদের জন্য ট্রেনের ভাড়া ফ্রি, মেট্রো রেলে ২৫ শতাংশ ছাড়
ছবি: কালের কণ্ঠ

৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ ফ্রি এবং মেট্রো রেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী জানান, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সব নাগরিককে জীবনচক্রভিত্তিক পদ্ধতিতে সুরক্ষার আওতায় আনা। যাতে দারিদ্র্য হ্রাস পায়, বৈষম্য কমে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এই কাঠামোর মূল দর্শন হলো অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন।

তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে সরকার বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’, যার কার্যক্রম সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী ব্যাক্তি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।

তিনি আরো জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং এর বিপরীতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করছি। এছাড়াও বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত রাখা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে বাড়ানো হবে এবং মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা করা হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতার সংখ্যা ১ লাখ উন্নীত করা হবে এবং স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হবে।

তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়বে, হাতছাড়া হবে বাড়তি রাজস্বের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়বে, হাতছাড়া হবে বাড়তি রাজস্বের সুযোগ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট দশ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট কার্যকর হলে এই স্তরে সিগারেটের দাম বাড়বে মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা ১০.২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম ব্যাপকভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যে কমদামি সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বাড়বে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে এবং যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪.২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ (১৩.৫১ শতাংশ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া সিগারেট কর কাঠামোয় কোনো সংস্কার না করায় বর্ধিত দামের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কম্পানির পকেটে চলে যাবে এবং বাড়তি মুনাফা তামাক ব্যবসা প্রসারে ব্যবহৃত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

প্রজ্ঞা-আত্মা’র মতে, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন অর্থাৎ বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য আরেক দফায় সস্তা ও সহজলভ্য হবে এবং নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বাজেটে দশ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং দশ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। ফলে জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং নিকোটিন পাউচ আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং তামাক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ মনিটর করার জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরো বেশি সস্তা এবং সহজলভ্য হবে। তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।

‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হবে আগামী ৭ বছরে

অনলাইন ডেস্ক
‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হবে আগামী ৭ বছরে
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এই প্রস্তাব রাখেন। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট। আর এর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ হাজার ৫ শত ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত প্রকল্পে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে; চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সুবিধা ভোগ করবে। এ ছাড়া আমাদের সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এসংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ দশমিক ২৫ কোটি টাকা।

বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যাবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ততা প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ৫ বছরে ২০,হাজার কিলোমিটার “নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় আবগারি শুল্ক দিতে হবে না

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় আবগারি শুল্ক দিতে হবে না

ব্যাংকে জমা রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা বাড়াচ্ছে সরকার। এ ছাড়া একটি লোন হিসাবের বিপরীতে শুধুমাত্র একবারই আবগারি শুল্ক কাটার বিধান হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক অব্যাহতি রয়েছে। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বস্তি প্রদানের স্বার্থে অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ ছাড়া একটি লোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে শুধুমাত্র একবারই আবগারি শুল্ক কর্তন করার বিধান প্রণয়নের প্রস্তাব করছি।’