kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষীকে হত্যা: জামিন মিলেনি আসামির

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২০:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষীকে হত্যা: জামিন মিলেনি আসামির

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চারনেতা হত্যা (জেলহত্যা) মামলার অন্যতম সাক্ষী কমোডর গোলাম রাব্বানী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কেইপিজেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরীকে জামিন দেননি আপিল বিভাগ। তবে ওই আসামি যদি অসুস্থ থাকেন তবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ওই আসামির জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। জামিন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

কমোডর গোলাম রাব্বানী হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে মো. সেলিম, মো. হাশেম ও আবুল মালেক সোহেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আবু নাসের চৌধুরী ও হুমায়ূন কবির চৌধুরীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও মনছুর আলমকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত ৫ জন হাইকোর্টে আপিল করেন। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তদের সাজা বাড়াতে এবং খালাস পাওয়া সাইফুলের খালাসের রায় পুনর্বিবেচনা করতে বাদীপক্ষ পৃথক আবেদন করে। এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আবু নাসের চৌধুরী ও হুমায়ূন কবির চৌধুরীর সাজা বাড়িয়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. সেলিমের সাজা বহাল রাখা হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামি সোহেল ওরফে আব্দুল মালেককে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া মো. সাইফুল ইসলামের ক্ষেত্রে নতুন করে বিচার করতে বলা হয়। জামিনে থাকা ওই চার আসামি আবু নাসের চৌধুরী, হুমায়ূন কবির চৌধুরী, মো. সেলিম ও সাইফুল ইসলামকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হুমায়ুন কবির এরই মধ্যে মারা যান। এরপর ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর আবু নাসের চৌধুরী ও মো. সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তারা কারাবন্দী। কিন্তু সাইফুল আত্মসমর্পন না করে পালিয়ে যায়।

কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (কেইপিজেড) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত কমোডর (অব.) গোলাম রাব্বানী ২০০৪ সালে ১১ এপ্রিল গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় কেইপিজেডের সাবেক পরিচালক আবু নাসের চৌধুরী ও কর্মচারী হুমায়ূন কবির চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় সেদিনই মামলা (হত্যাচেস্টা) করেন কেইপিজেড-এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ইমতাজুল ইসলাম। কিন্তু ওই বছরের ২৪ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোলাম রাব্বানী। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে একইবছরের ২৮ আগস্ট আবু নাসের চৌধুরী, হুমায়ূন কবির চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম ওরফে বিলাই সাইফুল, মনছুর আলম, মো. সেলিম, সোহেল ওরফে আব্দুল মালেক ও মো. হাশেমকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা