• ই-পেপার

করোনায় আক্রান্ত সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম

জামায়াতকে প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন?

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছেন ৭১ সালে।’

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য আদ্-দ্বীন নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করায়, সত্য। মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, নাকি অস্বীকার করবেন? করতে পারেন না। আনতে হবে।’

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের গাফিলতি, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে একই দিনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার বিবরণ দেন স্বাস্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে সব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কিভাবে বাণিজ্যিক বেকারি কারখানা ও বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ গড়ে তোলা হয়েছে, তা সংসদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত মে মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম অবহেলা এবং অসতর্কতার কারণে ছয়টি মায়ের বুক খালি হয়েছে। হাইপারক্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যখন শিশুগুলোর হাত-পা কাঁপছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কোনো সচল জানালা ছিল না এবং ছিল না কোনো জরুরি অক্সিজেন সাপোর্ট। ১৬ থেকে ১৭ জন মা যখন তাদের সন্তানদের বাঁচানোর জন্য চত্বরে কাঁদতে কাঁদতে ছোটাছুটি করছিলেন, তখন সেখানে কোনো অন-ডিউটি ডাক্তার পাওয়া যায়নি, এমনকি নার্সরাও ডাকলে সাড়া দেননি।’

তিনি বলেন, ‘কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে করতে নিরীহ শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’ ঘটনার পরদিনই নিজে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এই গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পেয়েছেন বলে সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম ঘটনার পরও হাসপাতালের মালিকপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বা সান্ত্বনা দেওয়ার ন্যূনতম নৈতিক সৌজন্যতা দেখায়নি।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে : শিল্পমন্ত্রী
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। সংগৃহীত ছবি

দেশে গত ১২-১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হয়েছে। যারা আগে থেকেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, তারাই মূলত আরো বড় হয়েছেন। আর এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল গ্যাসের অপ্রতুলতা।’

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০-১৫ বছরে সেই অনুপাত ড্রাস্টিক্যালি (তীব্রভাবে) কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু হাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ার একটি প্রধান রেসিপি এবং আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি। যার ফলে ১৫-২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে আয় বৈষম্য অনেক বেড়েছে।’

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইনকাম ডিসপারিটির স্কেল শূন্য থেকে এক পর্যন্ত। সূচক যত ওপরের দিকে যায়, বৈষম্য তত বাড়ে। আমাদের এখানে এই বৈষম্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।’ 

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া—এমনকি ভারত-পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২৫ শতাংশ। আমরা এটাকে আরো বাড়াতে চাই। কারণ অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ গতিশীল রাখতে এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।’

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ব্রড-বেইজড (সুদূরপ্রসারী) প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরো পার্ক করা হবে।’

গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কম জ্বালানি কনজিউম করা শিল্পের দিকে বেশি নজর দেব। আর বর্তমানে যেসব কল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংকট সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।’

এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি : আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে মন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উইম্যান অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম।

এর আগে এ দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের আয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা। রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেন তারা। 

মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ২১ জন এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৬ জন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, এসব শিক্ষার্থী সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশন এবং সংসদ অধিবেশন কক্ষে সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। রবিবার (২৮ জুন) উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং নরওয়ের সাবেক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এরিক সোলহেইম।

তার সঙ্গে ছিলেন প্রোক্লাইমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাভিন কুমার কান্দাসামি। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় কার্বন বাজার, জলবায়ু অর্থায়ন, বায়োচার এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা একজন আন্তর্জাতিক জলবায়ু উদ্যোক্তা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন ক্রেডিট, সবুজ বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

করোনায় আক্রান্ত সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম | কালের কণ্ঠ