• ই-পেপার

'গাজীপুর সিটি মেয়রের ঘোষণা প্রত্যাহার না করলে ব্যবস্থা'

৫৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
৫৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে।

তিনি বলেন, দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত গুটিকয়েক প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই বেশি ঘনীভূত। শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কাঠামোগত নির্ভরশীলতার কারণেই এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।  

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জাতীয় সংসদে মন্ত্রীর উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল ঘাটতির মূল কারণ হলো- চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের উচ্চ আমদানি। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। 

বাণিজ্য ঘাটতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হলেও এর বিপরীতে তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য এবং ভোগ্যপণ্যের বিপুল আমদানির কারণে এই বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেশ চোখে পড়ার মতো, যা মূলত এই অঞ্চল থেকে মধ্যবর্তী পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাকে নির্দেশ করে। এই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই ঘাটতি ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। 

এছাড়া, এই অঞ্চলের অন্য দুটি দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, যার পরিমাণ যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন এবং ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে। এর মধ্যে কাতারের সঙ্গে ঘাটতি ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। 

পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯.৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। 

দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার।

ইউরোপ ও ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে, রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। 

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যার পর রয়েছে আর্জেন্টিনা ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার। 

আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর সঙ্গে সামগ্রিক বাণিজ্যের আকার তুলনামূলক ছোট হলেও ঘাটতির চিত্রটি বেশ বিস্তৃত। আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সঙ্গে ৫১১ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার, বেনিনের সঙ্গে ৪৬৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার, ক্যামেরুনের সঙ্গে ২৭২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার, মালির সঙ্গে ২৪৭ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার, বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে ১৯৫ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার, মোজাম্বিকের সঙ্গে ৯৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং নাইজেরিয়ার সঙ্গে ৯১ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। 

এ ছাড়া, ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারে।

১৬ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা, ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১৬ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা, ঝড়ের শঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্রবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নির্বাচিত সরকারেই আস্থা আইএমএফের

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মেরূকরণ জট খুলছে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার

অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচিত সরকারেই আস্থা আইএমএফের

প্রায় দুই বছরের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার ফল  ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে সরকার। এর অংশ হিসেবে এডিবি বাজেট সহায়তা দিয়েছে এক বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের নতুন একটি ঋণচুক্তির জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এ মাসেই। যার একটি বড় অংশ দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে কাজে লাগানো হবে। এদিকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের যে অবনতি ছিল সেটাও অনেকটা কেটে গেছে। জাইকা, ইএসএইড, ইউএনডিপি, আইডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন করে ঋণ ও সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। এবার ২০২৬-২৭ বাজেটে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাজে মালয়েশিয়া ও চীন সফল করছেন। যা দেশের কূটনৈতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে ভেঙে পড়ে আর্থিক কাঠামো। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেটা টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কারের মনোযোগী হয় সরকার। এর ফলে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তিন মাসের ব্যবধানেই। বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। তবে বর্তমান সরকার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অর্থনীতিতে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এতে অবশ্য সরকার অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণও করতে পেরেছে। এখন দরকার দূরদর্শী পরিকল্পনা। যা দেশকে সত্যিকারের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এ ধরনের সহায়তা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হলো সংস্কার বাস্তবায়ন। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা কার্যকর সংস্কার এনে দেশ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাই। দেশের জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখে ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। এতে তরুণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির আলোচনা শুরু : ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচিত সরকার ছাড়া চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির বাকি দুই কিস্তির অর্থ ছাড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল আইএমএফ। ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংস্থাটি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে। ওই পুরোনো ঋণের অবশিষ্ট কিস্তির সঙ্গে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির প্রস্তাব দেয় নির্বাচিত সরকারকে।

জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে।

এডিবি দিয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার : চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)। এই অর্থ প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। গড়ে মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরলে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ মানদণ্ড (কমপক্ষে তিন মাস) ছাড়িয়ে গেছে।

অতীতে রিজার্ভ চাপের মুখে পড়ে ব্যবহারযোগ্য অংশ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল। সেই সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে দেড় বিলিয়ন ডলার : চলতি মাসেই তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার অনুমোদন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চাপে পড়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। এই তহবিলের মধ্যে, র‌্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) উইন্ডোর আওতায় চলমান প্রকল্প ঋণ থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্নির্ধারণ (রিপারপাস) করা হবে। সার আমদানি ও খাদ্য সহায়তার জন্য দেওয়া হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন ডিসি এবং ঢাকা উভয় স্থানেই কয়েক দফা আলোচনার পর এই বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করবে চীন : চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে ইতিবাচক খবর পাবে বাংলাদেশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে আছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর।

অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। এর বাইরে অন্য যেকোনো উপযুক্ত স্থানে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে উড়াল মহাসড়ক, ঢাকার জন্য সাবওয়ে ও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ আসতে পারে। এক সমীক্ষায় রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করবেন না

অনলাইন ডেস্ক
দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করবেন না

দীর্ঘ কুড়ি বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে রাষ্ট্রপরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংযম, কৃচ্ছ্রসাধন, পরমতসহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। বিভেদ, হানাহানি, ক্ষমতার দাপটের বদলে তিনি মার্জিত, বিনয়ী এবং পরিশীলিত সরকার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় সব ক্ষেত্রে অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রথমদিন থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল বহর কমিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সাধারণ রুচিশীল আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অপচয় বন্ধে নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যখন দুপুরের খাবার খরচ দশ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে তখন অনেক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের আপ্যায়ন ব্যয় চলছে আগের মতোই। একটি মন্ত্রণালয়ে দুপুরের খাবার আসছে পাঁচ তারকা হোটেল থেকে। এ ধরনের ঘটনা বিব্রতকর। প্রধানমন্ত্রীর দেশ পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত।

প্রধানমন্ত্রী নিজে বিদেশ সফরে সংযমের নীতি অবলম্বন করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মালয়েশিয়া। সেখানে তিনি যান ছোট একটি টিম নিয়ে। শুধু এ সফরে যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই সফরসঙ্গী করা হয়। একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করছেন। অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে, বিশেষ করে ইউনূস আমলের সঙ্গে তুলনা করলে এটা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ইউনূস যেখানে বিমান ভর্তি করে তাঁর স্তাবক এবং লটবহর নিয়ে বিদেশ সফরের নামে প্রমোদ ভ্রমণ করতেন তারেক রহমান সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় এবং লোকবল নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করছেন, এসব বিদেশ সফরে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর নয়- এ নীতি কি বিএনপি সরকারের সবাই মানছেন? না। অনেকেই মশা নিধনের কৌশল দেখতে ফ্লোরিডা যাওয়ার বায়না ধরছেন। অনেকেই লিফট দেখতে বিদেশ যেতে চাইছেন। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত এদের লাগাম টেনে ধরতে পেরেছেন। কিন্তু এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দেয়। সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী দলের নেতারা কাজ করছেন না। এটি সরকারের জন্য অস্বস্তির।

শুধু বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নয়, দেশের ভিতরে বিভিন্ন সফরেও তারেক রহমান পুরোনো রীতি মাত্র তিন মাসে ভেঙে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার বাইরের সফর মানেই হেলিকপ্টার, গাড়ির বহর, দীর্ঘদিনের এই রীতি পাল্টে দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বিলাসবহুল হেলিকপ্টারে নয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে। কিছুদিন আগে যা ছিল কল্পনার বাইরে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো ত্যাগী পরীক্ষিত নেতারা প্রধানমন্ত্রীর মতোই সাধারণ বিমানে ঢাকার বাইরে যাতায়াত করলেও কিছু নব্য নেতা এখনো ক্ষমতার বিলাসী জীবনযাপনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। এখনো তাঁরা এলাকায় যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে। এটা দলের জন্য বিব্রতকর।

প্রধানমন্ত্রী নামকরণের পুরোনো সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে এসেছেন। এ জন্য তিনি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের নাম তাঁর মায়ের নামে করার একটি প্রস্তাব তারেক রহমান নাকচ করে দেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল শিক্ষণীয় ঘটনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দর্শন কি বুঝতে পারছেন বিএনপির মন্ত্রীরা? একজন প্রতিমন্ত্রী তাঁর ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নাম রেখে বিএনপি মন্ত্রিসভাকেই বিব্রত করেন। এনিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ওই নাম বাতিল করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের মতো ছোট্ট ইস্যুতে এরকম বিতর্ক হবে কেন? কেন এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। একজন প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর কাছে কী এতটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশা করতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী? মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের কাজ হলো ভালো কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া, প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা। কিন্তু তাদের কারণে যদি প্রধানমন্ত্রীকে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটা কতটা যৌক্তিক?

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি একাধিকবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখাচ্ছেন। সরকারের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি কী অনুসরণ করছেন সরকারের সবাই? একজন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সত্য খবর প্রকাশের পর একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, ওই সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তারে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী যখন গণমাধ্যমকে ইউনূস জামানার ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্ত করতে কাজ করছেন। সংবাদমাধ্যমে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তখন এ ধরনের একটি ঘটনা পুরো উদ্যোগ ভেস্তে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও এক বছর আগে জানিয়েছিলেন অন্তত ৪ হাজার নেতা-কর্মীকে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এসব অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি একজন এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু সরকারের নয় বিএনপির ইমেজ ক্ষুণ্ন করছে।

বিএনপি দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী ১৭ বছর সীমাহীন নিপীড়ন ও অত্যাচার সহ্য করে আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনি জানেন, জনগণ কী চায়। সে অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনীতি এবং সরকার পরিচালনা পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছেন। সরকারের সব কার্যক্রমে একটি জনবান্ধব আবহ তৈরির উদ্যোগ দৃশ্যমান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ সফল করতে হলে সরকারের সব মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের একই পথে হাঁটতে হবে। সেটা হচ্ছে না মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কারণে। এদের কারণে সরকার অস্বস্তিতে পড়ছে। তাই দোহাই লাগে, প্রধানমন্ত্রীকে আর বিব্রত করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী কাজ করুন। মনে রাখবেন, এ সরকার সফল না হলে গণতন্ত্র সংকটে পড়বে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

'গাজীপুর সিটি মেয়রের ঘোষণা প্রত্যাহার না করলে ব্যবস্থা' | কালের কণ্ঠ