• ই-পেপার

শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে স্পিকারের শোক

শেরওয়ানি ফেলে আসায় মাঝপথ থেকে ফিরল বিমান, ভোগান্তিতে ১০০ যাত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরওয়ানি ফেলে আসায় মাঝপথ থেকে ফিরল বিমান, ভোগান্তিতে ১০০ যাত্রী!

বিয়ের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে আনার নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বেসরকারি এয়ারলাইন্স ‘এয়ার অ্যাস্ট্রা’র একটি ফ্লাইটে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। এতে ফ্লাইটে থাকা শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।

​উড্ডয়নের মুখে নিয়ম ভেঙে বিমান থামানো ওই যাত্রীর নাম গোলাম রাব্বি প্রিন্স, যিনি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর একজন ফার্স্ট অফিসার (পাইলট)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি যখন ট্যাক্সিওয়েতে (উড্ডয়নের আগের শেষ পথ) অবস্থান করছিল, তখন হঠাৎ ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স বিমান থেকে নেমে যাওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন।

কেবিন ক্রুরা তাকে জানান যে, গুরুতর চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই। কিন্তু তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের অফিশিয়াল আইডি কার্ড বের করে চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় সব নিয়ম নীতি ও যাত্রী ভোগান্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিমানটি পুনরায় টার্মিনালে ফিরিয়ে আনেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাড়াহুড়োয় নিজের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। সেটি সংগ্রহের জন্যই তিনি এই খামখেয়ালি আচরণ করেন। পরে শেরওয়ানি এনে বিমানবন্দরে ফেরার পর দুপুর ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় যাত্রীদের বসিয়ে রাখলেও এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও করেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ঘোরানোর সুযোগ নেই। এমনকি কোনো যাত্রী নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর সমস্ত লাগেজ অফলোড করে পুনরায় সিকিউরিটি চেকের নিয়ম থাকলেও, এয়ার অ্যাস্ট্রা এই নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে ‘লিংগুয়াস্কিল’ চালু করল কেমব্রিজ

কর্মসংস্থানে ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ‘লিংগুয়াস্কিল’ চালু করল কেমব্রিজ
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা লিংগুয়াস্কিল বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করতে চালু করা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সমৃদ্ধ, অনলাইন ও অন-ডিমান্ড এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা দ্রুত, নমনীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলো বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রয়োজনীয় ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারবে।

লিংগুয়াস্কিল উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে ব্যবহারিক ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা এমন একটি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন শিল্পখাত বাস্তব জীবনের ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রয়োজন থেকেই কেমব্রিজ একটি আধুনিক ও বাজার-উপযোগী সমাধান তৈরি করেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।’

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক যোগাযোগ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে লিংগুয়াস্কিল তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান কর্মবাজারে শুধু একাডেমিক বা কারিগরি জ্ঞান যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, উপস্থাপনা দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং ইতিবাচক মানসিকতা ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি চর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই ব্যবধান কমাতে সহজলভ্য ও কার্যকর শিক্ষণ-উপকরণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডালসে লামাগনা বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি নাটক, উপস্থাপনা, প্রতিযোগিতা এবং শিল্পখাতভিত্তিক সিমুলেশনের মতো অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ম্যারিয়ট কাউন্সিল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. আল-আমিন বলেন, আতিথেয়তা খাতে কার্যকর যোগাযোগ গ্রাহকের আস্থা তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, ক্রিয়েটিভ গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ইংরেজি শুধু মানুষের সঙ্গে নয়, প্রযুক্তির সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগের একটি অপরিহার্য দক্ষতায় পরিণত হয়েছে।

সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশের কান্ট্রি এইচআর প্রধান উপালা শফিক বলেন, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পাশাপাশি ডিজিটাল সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।

আলোচনায় আরো উঠে আসে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে ইন্টার্নশিপ, শিল্পখাত-নেতৃত্বাধীন অতিথি বক্তৃতা, মেন্টরশিপ, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ইংলিশ) মো. বদরুদ্দোজা এবং মার্কেটিং ম্যানেজার রাজগীর দেওয়ান।

গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ইংলিশোলজির চিফ বিজনেস লিড সাবিহা আশালতা। ইংলিশোলজি কেমব্রিজ ইংলিশের অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের প্রথম অনুমোদিত লিংগুয়াস্কিল সেন্টার। কেমব্রিজের কৌশলগত মূল্যায়ন অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে আরো শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মপরিবেশে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাবে।

এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন শিশু প্রতিষ্ঠান ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন এবং শিশুদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, ক্রীড়াসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দুস্থ নারী, গর্ভবতী ও অসচ্ছল মায়েদের সহায়তার ক্ষেত্রে টার্গেটিং বা উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম বন্ধ করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি মাস বা তিন মাস পর পর তালিকা আপডেট করতে হবে। এখানে কোনো রাজনীতি বা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হবে নারীটি প্রকৃত অর্থেই দুস্থ বা গর্ভবতী কি না।

মন্ত্রী বলেন, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দেওয়া ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধের হার ৮২ শতাংশ। নারীদের এই চমৎকার ঋণ পরিশোধের মানসিকতা ও সততার ভূয়সী প্রশংসা করেন জাহিদ হোসেন। তিনি নারীদের এ ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

পদোন্নতির সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা পাচ্ছেন তিন বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পদোন্নতির সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা পাচ্ছেন তিন বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তাদের মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী রয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিক অবসর, বাধ্যতামূলক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পাবেন। সুবিধা পাওয়া ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেককে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা সংশ্লিষ্ট পদে চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।

কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। কারো জন্য এককালীন ৩০ লাখ, কারো জন্য ৫০ লাখ টাকা, আবার কারো জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারো জন্য প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বা বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্লট বা ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের ৩ মে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ ও তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামত পর্যালোচনা করে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে প্রত্যেক কর্মকর্তার আগের ও সংশোধিত অবসরের ধরন, অবসরের তারিখ, পদোন্নতি এবং প্রাপ্য সুবিধার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীকে ২০০৯ সালের ১২ মার্চ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার অবসর সংশোধন করে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। এতে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন তিনি।

তালিকায় রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তাকে ২০০৯ সালের ২৪ জুন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল ও ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবসরের আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও মেজর জেনারেল-উভয় পদে বকেয়া বেতন-ভাতা, বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, এক কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং বয়স ও যোগ্যতাসাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ পাবেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমকেও ২০০৯ সালের ১২ মার্চ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার অবসর সংশোধন করে ২০১২ সালের ৩০ জুন স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। এতে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদায় বকেয়া বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন তিনি।

শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে স্পিকারের শোক | কালের কণ্ঠ