kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে : বাম জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৯:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে : বাম জোট

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারেনি বরং হতাশ করেছে বলে দাবি করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজসহ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল বিশ্ববাসীর থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দিক নির্দেশনামূলক ও আশ্বস্থ হওয়ার মতো বিষয় থাকবে। কিন্তু তার প্রতিফলন ভাষণে না থাকায় দেশবাসী হতাশ হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকার শুরুতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। দিন যতো যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ যতোই বাড়ছে সরকারের ঝাড়িঝুড়ি ততোই উন্মোচিত হচ্ছে। কারণ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলাতেই কোনো ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা নেই। ঢাকার হাসপাতালে মাত্র ২৯টি ভেন্টিলেটর রয়েছে। যা খুবই নগণ্য। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে করোনা চিকিৎসায় করণীয় কিভাবে বাস্তবায়ন করবে তার কিছুই ফুটে ওঠেনি এবং প্রস্তুতির জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তারও কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। এই অবস্থায় করোনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে সর্বদলীয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধামন্ত্রী তার ভাষণে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দেশের ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমশক্তির মধ্যে বস্তিবাসী, হকার, রিকশা, ইজিবাইক, পরিবহন শ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমজীবীদের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নেই। বস্তিবাসী, হকার, রিকশা চালকসহ সকল শ্রমজীবীদের আগামী ৬ মাসের খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তার জন্য সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে এবং কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট কেটে এখাতে বরাদ্দ করতে হবে।

আরো বলা হয়, একদিকে মানুষের জীবিকা বন্ধ, অন্যদিকে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

দিনাজপুর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা : দিনাজপুরের বিরলে আওয়ামী লীগ নেতার জুট মিলে বেতন না দিয়ে বন্ধ ঘোষণা এবং বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিবর্ষণে এক জনের মৃত্যু ও ১৮ জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম জোটের নেতৃবৃন্দ।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হতাহতের জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একই সাথে নিহত-আহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা