সরকারদলীয় এমপিদের সংসদীয় সভায় জাতীয় বাজেট ঘিরে সম্ভাব্য উসকানি ও বিভ্রান্তির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি দলের সংসদ সদস্যদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিগ্রহসহ বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যেই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট দিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তবে তিনি এমপিদের আশ্বস্ত করে বলেন, সুন্দর বাজেট পাবেন, আপনারা সন্তুষ্ট হবেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসব কথা বলেন এ সংসদ নেতা।
সভা পরিচালনা করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভায় স্বাগত দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এর আগেই সংসদীয় দলের সভাটি হলো।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী টানা ৪৮ ঘণ্টা বাজেট নিয়ে কাজ করেছেন। তিনিও (প্রধানমন্ত্রী) অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ১৭ ঘণ্টা একসঙ্গে কাজ করেছেন।
দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে, উসকানিমূলক বক্তব্যও আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা ছড়ানো হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সভায় সংসদীয় দলের বৈঠকের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের সভার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্ব, মন্ত্রীদের জবাব দেওয়ার ধরন এবং জবাবদিহির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে এখান থেকেই অনেকে স্থান পাবেন। তিনি দলের সংসদ সদস্যদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সঠিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বক্তব্য দেন।
এই মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের প্রশ্ন করেন এবং মন্ত্রীরা সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।






