kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বিশেষজ্ঞ মত: সড়ক আইনে ত্রুটি

গাড়ির ফিটনেস দেখবেন মালিকরা, তাহলে চালকের কেন জরিমানা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাড়ির ফিটনেস দেখবেন মালিকরা, তাহলে চালকের কেন জরিমানা?

সড়ক পরিবহন আইন উন্নত করা হয়েছে। তার পরও এতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। যেমন গাড়ির ফিটনেস না থাকলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান রয়েছে, কিন্তু এটি নেওয়া হবে চালকের কাছ থেকে। গাড়ির ফিটনেস আছে কি না সেটা তো দেখবেন গাড়ির মালিকরা। তাহলে এখানে চালকের কাছ থেকে কেন জরিমানা নেওয়া হবে? মালিকরা গাড়ির চালকদের নিয়োগপত্র দেন না। আইনে আগে থেকে বাধ্যতামূলক থাকার পরও মালিকরা এই নিয়োগপত্র দিচ্ছেন না। ফলে আনফিট গাড়ি নিয়েই চালকদের রাস্তায় বের হতে হয়।

চালকরা বহুকষ্টে একটা চাকরি জোগাড় করেন। গাড়ি চালালে সংসার চলে, না হলে চলে না। আনফিট গাড়ি না চালালে তাঁদের সংসার চলবে না। এখানে মালিকদের দায়টা বেশি। আইনে এ ধরনের বহু কিছু আছে যাতে চালকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলার জন্য অনেক ক্ষেত্রে মালিকদের দায় বেশি, এসব ক্ষেত্রে মালিকদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ জরিমানা চালকের কাছ থেকে নেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স পাওয়া যায় না। বিআরটিএ ঘুষের আখড়া হয়ে গেছে। এখানে নতুন লাইসেন্স নিতে গেলে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা ঘুষ লাগে। লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ দিতে হয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। তার ওপর আবার নকল লাইসেন্সও দেওয়া হয়। এখানে সিন্ডিকেট আছে। নকল লাইসেন্স যারা সরবরাহ করছে সেই বিআরটিএর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শাস্তি রাখা হয়নি। বিআরটিএতে দুর্নীতিবাজদের নেটওয়ার্ক আছে। তারাই এখন লাইসেন্স দেয়। তারা চালকদের হয়রানি করছে। এটাই বাস্তবতা।

পরিবহন নেতা শাজাহান খানরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। চালকদের নিয়োগপত্র যে বাধ্যতামূলক তা দিতে মালিক সমিতি সহযোগিতা করছে না। চালকদের নিয়োগপত্র না দিয়ে তাঁদের ১৬-১৮ ঘণ্টা খাটানো হচ্ছে। পাঁচ ঘণ্টা পর চালকদের বিশ্রাম নিতে হবে। দূরপাল্লার বাসে দুইজন চালক রাখতে হবে। আট ঘণ্টার বেশি খাটানো যাবে না শ্রমিকদের। এটা মালিকরা মানছেন না।

মৌলিক বিষয় বাস্তবায়ন না হলে নতুন আইনের বাস্তবায়ন হবে না। সমস্যার সমাধান করতে হবে। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে নেতা সরাসরি ঘোষণা দেননি ধর্মঘটের। পরিবহন নেতারা সরকারকে খেপাতে চাইছেন না। কারণ তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযান হতে পারে—এই ভয়ে সরাসরি তাঁরা কর্মবিরতির কর্মসূচিতে থাকছেন না। শ্রমিকরা ভয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। এখন সরকারের উচিত পরিবহন নেতাদের সঙ্গে না বসে সরাসরি কর্মসূচিতে যাওয়া পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসা। তাঁদের মতামত নিয়ে আইন সংশোধন করা।

মনজুরুল আহসান খান, সভাপতি, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা