kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাকরির নামে অজ্ঞান করে গণধর্ষণ: ফাঁদ পাতে নাহিদ, সঙ্গী হয় ফয়েজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাকরির নামে অজ্ঞান করে গণধর্ষণ: ফাঁদ পাতে নাহিদ, সঙ্গী হয় ফয়েজ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের পর ধর্ষণের পরিকল্পনা করেই চাকরিপ্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে রাজধানীর শ্যামলীর ‘হেলথ ভিশন’ নামের প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। মেয়েটির ফেসবুক বন্ধু নাহিদ পাটোয়ারী এই ফাঁদ পেতেছিল। তার সঙ্গী হয় হেলথ ভিশনের কর্ণধার ফাহিম আহমেদ ফয়েজ। ক্লিনিকে চাকরির কথা বলা হলেও ফয়েজের শ্যামলীর ৩ নম্বর সড়কের ওই প্রতিষ্ঠান কোনো ক্লিনিক নয়, এটি বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

নাহিদ ও ফয়েজ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা কৌশলে মেয়েটিকে এমন সময় প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়ে যায় যখন সেখানে কেউ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে অচেতন করে গণধর্ষণের ঘটনার তদন্তে পুলিশ এসব তথ্য পেয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি নাহিদকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তদন্তকারীরা বলছেন, নাহিদ গা ঢাকা দিয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর আগে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। মেয়েটি বলছেন, প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষিত হওয়ার ভয়ংকর বীভৎসতার কথা তিনি ভুলতে পারছেন না।  

শেরেবাংলানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামি ফয়েজকে জিজ্ঞাসাবাদে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। সোমবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ফয়েজ ও নাহিদ অনেক দিন আগে থেকে ঘনিষ্ঠ। আর মেয়েটির সঙ্গে এক বছর আগে ফেসবুকে নাহিদের পরিচয় হয়। ফয়েজ ভ্যাকসিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি চালাত। নাহিদ অনলাইন মার্কেটিংয়ের কাজ করে বলে জানিয়েছে ফয়েজ। নাহিদকে গ্রেপ্তারে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নাহিদ যখন মেয়েটিকে চাকরির কথা বলে শ্যামলীর ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় তখন সেখানে ফয়েজ ছাড়া আর কেউ ছিল না। লম্পট নাহিদ ও ফয়েজ মেয়েটিকে ধর্ষণ করার জন্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। তারা সেখানে নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানো পানীয় রাখে। সেটি কোকের বোতলে ঢুকিয়ে মেয়েটিকে কৌশলে পান করায়। এরপর পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

নাহিদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের এফ ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর বাড়িতে থাকে সে। তার বাবার নাম মৃত হোসাইনুজ্জামান পাটোয়ারী।

শেরেবাংলানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যালের ওসিসি থেকে মেয়েটিকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁকে রিসিভ করেছি। তাঁর মানসিক চিকিৎসায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা