উসামা বিন জায়িদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করি, হে আল্লাহর রাসুল! শাবান মাসে আপনি যে পরিমাণ রোজা রাখেন, সে পরিমাণ রোজা অন্য কোনো মাসে আমি আপনাকে রাখতে দেখি না। রাসুল (সা.) বলেন, রমজান ও রজবের মধ্যবর্তী এ মাসের ব্যাপারে মানুষ উদাসীন থাকে। এটা এমন মাস, যে মাসে বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। আমি চাই, আল্লাহর কাছে আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৩৫৭) সতর্কবাণী উচ্চারণের কারণ : উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সতর্ক করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তা হলো এই মাসের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতা। সাধারণত মানুষ রমজান মাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও শাবানের ব্যাপারে তাদের মধ্যে সচেতনতা দেখা যায় না। অথচ এই মাসের গুরুত্বও কোনো অংশে কম নয়। কেননা এই মাসে মানুষের আমল তথা তার ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। রোজা মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে : উল্লিখিত হাদিস দ্বারা রোজার বিশেষ মর্যাদা প্রমাণিত। রোজার মাধ্যমে বান্দার সম্মান বাড়ে, সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। রোজা আল্লাহর প্রিয় আমলগুলোর একটি। যে সময়ের আমল পেশ করা হয় : হাদিসের ব্যাখ্যাকারীরা বলেন, উল্লিখিত হাদিসে শাবান মাসে আল্লাহর দরবারে আমল পেশ করার কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা পুরো বছরের আমল উদ্দেশ্য। কেননা এক বর্ণনায় এসেছে, ‘আল্লাহর কাছে রাতের আমল দিনের আগে এবং দিনের আমল রাতের আগে উত্থাপিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৯৫) অপর বর্ণনা থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে সোম ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক আমল পেশ করা হয়। উসামা বিন জায়িদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমলগুলো পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৪৩৬) শাবান মাসের করণীয় : প্রাজ্ঞ আলেমরা শাবান মাসকে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের মাস বলেছেন। এই মাসে মুমিনরা বেশি বেশি রোজা রেখে, অধিক পরিমাণ নফল ইবাদত করে, পাপ কাজ বিরত থেকে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আসন্ন রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আল্লাহ সবাইকে শাবান মাসের আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।