সৌদি আরবের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক স্বাবলম্বিতা প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তরুণদের কেউ বিয়েতে আগ্রহী হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতেও আর্থিক স্বচ্ছলতা সামাজিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে তরুণদের দ্রুত বিয়ের করার চাপ নিয়ে পুনরায় ভাবা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। গবেষণায় দেখা যায়, ২৫ বছর পর্যন্ত বিয়ের অপেক্ষার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ তালাকের সংখ্যা কমে যাবে। মনোবিজ্ঞানি থেরেসা দিদোনাত বলেন, উপযুক্ত বয়স হওয়ার পর বিয়ের মাধ্যমে তালাকের হার কমবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’ ম্যারেজ ডটকমের জীবন বিষয়ক লেখিকা শেলিন ওয়ারিন বলেন, অবিশ্বস্ততার পর তালাকের প্রধান কারণ, আর্থিক অস্বচ্ছলতা। তাছাড়া নানা রকমের ব্যায়ের অভ্যাস থাকায় স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন অর্থ উপার্জনের কারণে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ফলে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের মতো ঘটনা তৈরি হয়। তাই সৌদি আরবের তরুণ প্রজম্মের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও দ্রুততর সময়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চিন্তাকে লালন করে থাকে। বিশেষজ্ঞ আমজাদ আল হারতি বলেন, আত্মনির্ভরশীলতা, আর্থিক স্বাবলম্বীতা ও স্বাধীন থাকা প্রত্যেকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ আমার জন্য আলাদিনের প্রদীপের মতো নয় যে আমার সব আশা সে পূর্ণ করবে। বরং নিজেই নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করব। আর্থিক দায়িত্ব শুধুমাত্র স্বামীর ওপর বর্তায় না। তাই দায়িত্ব পূরণে তাকে চাপ দেওয়া হলে সম্পর্ক বিনষ্ট হতে পারে। তরুণ প্রজম্মের বৈবাহিক চাহিদা প্রকটভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। আত্মনির্ভরশীলতার কারণে নারীদের উন্নত ক্যারিয়ার ও শিক্ষার সুযোগেরও বেড়েছে। বৈবাহিক জীবনে ছেলে-মেয়ের অর্থ ও আবেগ সম্পর্কে আল হারতি বলেন, দাম্পত্য জীবনে আবেগ ও অর্থের প্রাপ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে আবেগহীন হলে সম্পর্কের জন্য তা খুবই ভয়াবহ হয়। তাই উভয়টি বিদ্যমান থাকা দরকার। সূত্র : আরব নিউজ