• ই-পেপার

নীলফামারীতে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে আয় আট লাখ টাকারও বেশি

  • নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বসে ফ্রিল্যান্সিং করে কোটিপতি হয়েছেন রায়হান মিয়া। মাসে তাঁর সর্বোচ্চ আয় আট লাখ টাকারও বেশি। নিজ খরচে অনেক তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিংও শেখাচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে রায়হানের সফলতার গল্প জানাচ্ছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বন্যাকবলিত এলাকায় জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রাণ সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক
বন্যাকবলিত এলাকায় জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রাণ সহায়তা

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি সহায়তায় ১২ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। এ সময়ে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিজেডএম এ তথ্য জানিয়েছে। 

সিজেডএম জানায়, বন্যার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৮ কেজি ওজনের প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেজে চিড়া, মুড়ি, খেজুর, চিনি, গুড়, বিস্কুট, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানিসহ ১২টি জরুরি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করলে তাৎক্ষণিক চাহিদার পরিবর্তন বিবেচনায় সিজেডএম ১২.৫ কেজি ওজনের খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করে, যাতে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল ও লবণের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এই ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে সিজেডএম-এর বন্যা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। 

সিজেডএম আরো জানায়, সংস্থাটি জরুরি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বাঁশখালী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘরবাড়ি মেরামত, জীবিকা পুনর্বাসন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সহায়তার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ণবকে বাঁচাতে প্রয়োজন সহযোগিতা

অনলাইন ডেস্ক
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ণবকে বাঁচাতে প্রয়োজন সহযোগিতা
সংগৃহীত ছবি

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অর্ণব আচার্য (২৭)। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্ল্যাড ক্যান্সার। বিভিন্ন সময়ে তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় পরিবার। এমন অবস্থায় অর্ণবকে বাঁচাতে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা।

অর্ণব একটি প্রতিষ্ঠানের সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দুরারোগ্য ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্তের পর দ্রুত তার শরীরের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অর্ণবের বড় ভাই সুস্ময় সুমন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই অর্ণব ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ওকে বাঁচাতে পারব কি না জানি না। ওর আট সাইকেল কেমো শুরু হবে সামনে। এটাই শেষ বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। কেমোর খরচ, এমআরডি টেস্ট, বোনম্যারো টেস্টসহ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো খরচ। আমাদের সব টাকাই শেষ। আপনাদের সহায়তা না পেলে আট সাইকেল কেমো দেওয়া কোনোভাবেই আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ কেউ ৫০০-১০০০ টাকা সহায়তা করলে চিকিৎসা শুরু হবে। আমাদের পরিবার, আমার অসুস্থ ভাইটার পাশে দাঁড়ানোর বিনীত অনুরোধ রইল। মহাখালী ক্যান্সার হসপিটালে আমার ভাই আজ এক বছর ধরে চিকিৎসাধীন আছে। আপাতত কেমোর টাকাটা জোগাড় হলেই ওর শেষ এবং আট সাইকেল কেমো শুরু করতে পারব।

 সবাই একটু দয়া করবেন। আপনাদের সহায়তা আমার পরিবারের খুব দরকার।’

সহায়তা পাঠানোর পারসোনাল বিকাশ নম্বর :
 0194-6282439

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-

Susmoy Acheria 

Ac no : 0220094412811, Ific, Malibagh branch

পদ নয়, আদর্শই ছিল রাজনীতির প্রেরণা!

মো. তরিকুল ইসলাম তারিক
পদ নয়, আদর্শই ছিল রাজনীতির প্রেরণা!
মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

রাজনীতি আমার কাছে কখনোই ক্ষমতার সিংহাসনে পৌঁছানোর সোপান ছিল না। এটি ছিল আমার রক্তে বহমান এক আদর্শ, আত্মার গভীরে লালিত এক বিশ্বাস, বিবেকের সঙ্গে করা এক আজীবনের অঙ্গীকার।

এই অঙ্গীকার রক্ষা করতে গিয়ে কতবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি, কতবার হামলার শিকার হয়েছি, কতবার কারাগারের নির্জন অন্ধকারে কাটিয়েছি—তার কোনো হিসাব রাখিনি। পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছি; সেই গুলির ক্ষত আজও শরীরে যেমন বহন করি, তেমনি তার যন্ত্রণা প্রতিদিন হৃদয়ের গভীরেও অনুভব করি। প্রতিটি ব্যথা আমাকে শুধু একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—আদর্শের পথে হাঁটার মূল্য কখনোই সহজ নয়।

আমি কখনো প্রাপ্তির হিসাব কষে রাজনীতি করিনি। পদ-পদবির মোহ আমাকে টানেনি; করতালির শব্দও আমার পথচলার প্রেরণা ছিল না। আমার একমাত্র শক্তি ছিল বিশ্বাস—দুঃসময়ে যে বিশ্বাস আমাকে রাজপথে দাঁড়াতে শিখিয়েছে, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।

তবু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বারবার বঞ্চিত হয়েছি। কখনো মনে হয়েছে, যাদের রক্তে সংগ্রামের ইতিহাস লেখা হয়, সুসময়ের আলোয় তাদের নামই সবচেয়ে আগে মুছে যেতে বসে। এই বঞ্চনা কষ্ট দেয়, বুকের ভেতর নীরব রক্তক্ষরণ ঘটায়; কিন্তু আমার আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও নত করতে পারেনি।

আজও আমার আস্থা অটুট। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমার বিশ্বাস অবিচল। কারণ আমি মনে করি, সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য আড়াল করা যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা যায় না। ত্যাগের মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস কখনো প্রকৃত ত্যাগীদের সঙ্গে অবিচার করে না।

আমি আজও সেই পথের পথিক—যে পথ রক্তে রঞ্জিত, অশ্রুতে সিক্ত, তবু বিশ্বাসে আলোকিত। যদি আবারও বেছে নিতে বলা হয়, তবু আমি আদর্শের এই পথই বেছে নেব। কারণ কিছু বিশ্বাসের মূল্য পদে নয়, কিছু ত্যাগের মূল্য প্রশংসায় নয়—সেগুলোর মূল্য লেখা থাকে ইতিহাসের গভীরতম পাতায়।

মো. তরিকুল ইসলাম তারিক
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং
সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা : রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা

এম. আরিফুজ্জামান
শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা : রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা
এম আরিফুজ্জামান

বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা বর্তমান সরকার তার ঘোষিত ৩১ দফার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, তার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ২৫ নম্বর দফা—‘শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন’। এই দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং উচ্চশিক্ষায় জ্ঞান ও গবেষণানির্ভর পরিবেশ তৈরি করাই হবে সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবকাঠামোগত অসামঞ্জস্য এবং শিক্ষকদের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বঞ্চনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছিল। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর। অথচ দুঃখজনকভাবে, এই স্তরের শিক্ষকরাই আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও উপেক্ষিত। শিক্ষকদের বেতনকাঠামো ও পেশাগত মর্যাদার বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে অস্থির থাকেন, তবে তাদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স আশা করা দুষ্কর। তাই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বেতনকাঠামো নিশ্চিত করাই হতে হবে সংস্কারের প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন।

বর্তমান সরকারের উচিত শিক্ষা খাতকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শিক্ষা খাতে যে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করা জরুরি। এই বিনিয়োগই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণ, উন্নত গবেষণাগার স্থাপন এবং আইসিটি অবকাঠামো নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করবে।

একই সঙ্গে, একটি যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত কারিকুলাম প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমকে হতে হবে আনন্দদায়ক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমমুখর। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক সমন্বয় ঘটাতে হবে। এটি কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং দেশজ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচ্য বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বর্তমানে অকার্যকর ও শিক্ষার্থীস্বল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় ছোট ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে পার্শ্ববর্তী বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত (Amalgamate) করে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার তদারকি বা মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শিক্ষা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সেখানে পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে, বর্তমান সরকারের ২৫ নম্বর দফার বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি জাতির টিকে থাকা ও বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লড়াই। শিক্ষা খাতের এই সংস্কার যদি যথাযথ গবেষণানির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজকের এই বিনিয়োগই হবে আগামীর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। শিক্ষা খাতের এই পুনর্জাগরণই ৩১ দফার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জিয়ানগর, পিরোজপুর।
Email: [email protected] 

নীলফামারীতে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে আয় আট লাখ টাকারও বেশি | কালের কণ্ঠ