kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন দেওয়ানবাগী পীর

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন দেওয়ানবাগী পীর

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের প্রয়াত পীর, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য জানাজার শেষে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি  অংশগ্রহণ এবং সেনাবাহিনীর ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। গার্ড অব অনার দেওয়ার সময় দেওয়ানবাগ শরীফের অফিশিয়াল পেইজ থেকে লাইভ করা হবে বলে জানা গেছে।

সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগীর জানাজা শেষে বাবে মদিনা দেওয়ানবাগ শরীফে তার স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেওয়ানবাগী পীরের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ মেহেদী।

দেওয়ানবাগের পরিচালক ড. আরসাম কুদরত এ খোদা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে দেওয়ানবাগী পীর ৩ নম্বর প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি সেনাবাহিনীর ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টে রিলিজিয়াস টিচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি সর্বমোট ১১টি দরবার ও শতাধিক খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন।

গতকাল সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ৪৮ মিনিটে ইন্তেকাল করেন দেওয়ানবাগী পীর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। সকাল পৌনে সাতটার দিকে তিনি নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন। পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেওয়ানবাগী পীরের নাম মাহবুব-এ-খোদা। তবে তিনি 'দেওয়ানবাগী' নামে পরিচিত। ১৯৪৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ আবদুর রশিদ সরদার। মা সৈয়দা জোবেদা খাতুন। ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। নিজ এলাকার তালশহর কারিমিয়া আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

ফরিদপুরে চন্দ্রপাড়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা আবুল ফজল সুলতান আহমেদ চন্দ্রপুরীর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন দেওয়ানবাগী পীর। এরপর তার মেয়ে হামিদা বেগমকে বিয়ে করেন দেওয়ানবাগী। এর সুবাদে শ্বশুরের কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। তার কিছুদিন পর নিজেই নারায়ণগঞ্জে দেওয়ানবাগ নামক স্থানে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং নিজেকে সুফি সম্রাট পরিচয় দিতে থাকেন মাহবুব-এ-খোদা। আস্তে আস্তে তার অনুসারী বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মতিঝিলের ১৪৭ আরামবাগে স্থায়ী দরবার গড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দেওয়ানবাগী পীর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা