kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

ভারতে লকডাউন

করোনায় উল্টে গেল চিত্র; মানুষ ঘরে, বানর-ময়ূর-কুকুরদের দখলে রাজপথ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় উল্টে গেল চিত্র; মানুষ ঘরে, বানর-ময়ূর-কুকুরদের দখলে রাজপথ

ভারতে রয়েছে প্রায় এক দশমিক তিন বিলিয়ন মানুষ। আর রয়েছে লক্ষ লক্ষ গাড়ি। করোনার কারণে দেশটিতে চলছে লকডাউন। লকডাউনের জেরে রাস্তাঘাটে চলছে না যানবাহন। মানুষ না থাকায় ভিড়ও কম। তার জেরে কমেছে দূষণ। সে জন্যই বিভিন্ন প্রাণী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বচ্ছন্দে। দেশটির রাষ্ট্রপতির ভবনের আশেপাশের রাস্তাগুলো দখল করে নিয়েছে শত শত বানর।

ভারতের মুম্বাইয়ের রাস্তায় সম্প্রতি ঘুরতে দেখা গিয়েছে ময়ূর। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন মানব মাঙ্গলানি নামের এক আলোকচিত্রী। ফেসবুকে ময়ূরের ছবি পোস্ট করে ওই আলোকচিত্রী লিখেছেন, ময়ূররা বেরিয়ে এসেছে এবং নাচছে মুম্বাইয়ের ফাঁকা রাস্তায়। বিরল দৃশ্য। 

লকডাউনের সুযোগে সাবওয়েগুলো দখলে নিয়েছে বানরের দল। ভারতীয় ফরেস্ট সার্ভিসের এক তরুণ কর্মকর্তা সুশান্ত নন্দা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে উড়িষ্যার উপকূলে অলিভ রিডলে কচ্ছপগুলো মানুষের নজর এড়িয়ে অনেক শান্তিতে ডিম পাড়তে পারছে। দিল্লির রাস্তাও দখল করে নিয়েছে বানররা। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন ধরনের জিনিস-পত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের শরীরে আঘাত করছে না। 

উত্তরাখন্ড রাজ্যের দুই ব্যস্ত শহর হরিদ্বার আর দেরাদুনের বেশ কাছেই রাজাজি ন্যাশনাল পার্ক। লকাডাউনে সবকিছু যখন সুনসান, হাইওয়েগুলো স্তব্ধ তখন সেই অভয়ারণ্য থেকে হাঁটতে হাঁটতে একপাল বড় শিংওয়ালা হরিণ চলে এসেছিল হরিদ্বার শহরে। দেরাদুনে বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলার মাঝে ঢুকে পড়ে তারা। 

চন্ডিগড়েও এক হরিণ দলকে শহরের রাস্তা পেরোতে দেখা গেছে। দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি মন্দিরে যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তায় এখন অবাধে বিচরণ করছে স্পটেড ডিয়ার বা চিতল হরিণের পাল। দিল্লির সীমানাঘেঁষা শহর নয়ডার ব্যস্ততম এলাকা জিআইপি মল ও তার সংলগ্ন রাস্তা। বৃহস্পতিবার ফাঁকা সেই রাস্তায় ভরদুপুরে দাপিয়ে বেড়াল একটা বিশালদেহী নীলগাই (অ্যান্টিলোপ)। আসাম ও অরুণাচল সীমান্তে পাসিঘাট ফরেস্ট এলাকায় নিশ্চিন্তে ও দুলকি চালে রেললাইন পেরোতে দেখা গেছে দাঁতাল হাতির বিশাল এক পালকেও। একটি রাস্তায় কুকুরদেরও দেখা যায়।

লকডাউন যেমন বন্যপ্রাণীদের জন্য সব কিছু মুক্ত করে দিয়েছে, তেমনি কিছু প্রাণীর জন্য খারাপ সময়ে বয়ে নিয়ে এসেছে। যে প্রাণীগুলোকে পর্যটকদের দেখানোর জন্য বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের জন্য নেমে এসেছে অন্ধকার। প্রাণী অধিকার কর্মী সুস্মিতা রায় বলেন, বন্দি প্রাণীগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তাদের দেখার মতো কেই নেই।

সূত্র: আরএফআই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা