kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১ বার না পারিলে দেখো হাজার বার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১ বার না পারিলে দেখো হাজার বার!

পারিব না, এ কথাটি বলিও না আর, কেন পারিবে না তাহা ভাব একবার; পাঁচ জনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা, পার কি না পার কর যতন আবার একবার না পারিলে দেখ শতবার; কথাগুলো কালীপ্রসন্ন ঘোষের হলেও ষোলআনা নিজের জীবনে কাজে লাগিয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক চা সা-সুন। বার বার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তার পরও হাল ছাড়েননি তিনি। ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ধৈর্য ধরে টানা ২০০৯ সাল পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন। অবশেষে ৯৫০ বারের চেষ্টায় তিনি গাড়িচালকের লাইসেন্স পাওয়ার লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কোরিয়ান ড্রাইভারস লাইসেন্স এজেন্সির নিয়ম অনুযায়ী গাড়িচালকের লাইসেন্স পাওয়ার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৬০ নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়। ৫০ মিনিটের ওই লিখিত পরীক্ষায় রাস্তার নিয়মকানুন ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ের ওপর ৫০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকে। এই পরীক্ষায় তিনি ৬০ নম্বর পান ৯৫০তম বারের চেষ্টায়। 

চা সা-সুন বার্তা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনড় থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা অর্জন করতে পারবেন। তাই আপনারা আপনাদের স্বপ্নকে ব্যর্থ হতে দেবেন না এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান।

সুন পরীক্ষা দিতে সত্যি বিখ্যাত বনে গেছেন। শুধুমাত্র এজেন্সির কর্মচারীদের কাছে নন, তিনি অনেক পরীক্ষকের কাছেও পরিচিত মুখ। তার হার না মানা মনোভাব অনেকের কাছেই যেমন বিস্ময়কর তেমনি উৎসাহদায়ক। অনেকে মনে করেন, অধ্যবসায়ের অবতার স্কটিশ স্বাধীনতার বীর রবার্ট ব্রুসকেও হার মানিয়েছেন তিনি। কেননা রবার্ট ব্রুস সাত বার চেষ্টা করে রাজ্য জয় করেছিলেন। আর তিনি সাত বার কিংবা দশ বার নয়; ৯৫০ বার চেষ্টা করে জয় করেছেন ড্রাইভিং পরীক্ষা। 

এদিকে, এতো বার চেষ্টা করে তিনি যেমন অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছেন তেমনি প্রমাণ করেছেন সততার সঙ্গে চেষ্টা করে গেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আরো একটি বিষয় স্পষ্ট যে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দুর্নীতি নয় বরং যোগ্যতার বলেই পেতে হয় গাড়িচালকের লাইসেন্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা