kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন

২০২০ এর মধ্যে প্রতিটি বাড়ির একজন ক্যানসারের শিকার হবেন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২৩:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০২০ এর মধ্যে প্রতিটি বাড়ির একজন ক্যানসারের শিকার হবেন!

প্রতি বছর ক্যানসারের ছোবলে ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়৷ নতুন করে ক্যানসার আক্রান্ত হন ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ৷ বিশেষজ্ঞদের মত, এই হারে বাড়লে ২০২০ সালের মধ্যে মহামারীর চেহারা নেবে কর্কটরোগ৷  এমন কোনও পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ক্যানসার নেই৷ এই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার কলকাতায় উদযাপিত হল 'বিশ্ব ক্যানসার দিবস'৷
বাইপাস লাগোয়া 'অ্যাপোলো গ্লেনাগেলস হাসপাতাল' থেকে ঠাকুরপুকুরের 'সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেণ্টার ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট', হাজরার চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতাল থেকে 'ক্যালকাটা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল', সর্বত্রই নেওয়া হল লড়াইয়ের শপথ৷ পদযাত্রা, আলোচনাসভা-সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতন করা হল শহরের মানুষকে৷ থিম 'ইউ ক্যান, আই ক্যান'৷ অ্যাপোলোর অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া, অভিনেতা-গায়ক খরাজ মুখোপাধ্যায়-সহ বহু বিশিষ্ট চিকিৎসক৷ হাসপাতালের সিইও ডা. রূপালি বসু জানান, 'ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়৷ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বেশিরভাগ ক্যানসার রোগীকেই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধের সাহায্যে সারিয়ে তোলা যায়৷ তবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই তখনই সফল হবে যখন আমরা সবাই এগিয়ে আসব৷ ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াব৷'
সরোজ গুপ্ত ক্যানসার হাসপাতালের অনুষ্ঠানেও এদিন তারকা সমাবেশ হয়েছিল৷ প্রখ্যাত অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, ঈষিতা মুখোপাধ্যায়, গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী, প্রত্যেকেই ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন৷ হাসপাতালের তরফে ডা. অর্ণব গুপ্ত ও অঞ্জন গুপ্ত জানান, 'বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা (হু)-এর মতে, এক-তৃতীয়াংশ ক্যানসারই নিরাময়যোগ্য৷ প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্লাড ক্যানসার সেরে যায়৷ ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের মনে এই ভরসা জোগাতে এদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় দেড়শো ক্যানসারজয়ী মানুষ হাজির ছিলেন৷ ক্যানসার ঠেকাতে ধূমপানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর অঙ্গীকারও নেওয়া হয়৷'
এদিন হাওড়ার নারায়ণন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও আয়োজিত হয় 'ক্যানসার সারভাইভারস মিট'৷ ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাঁরা বেঁচে রয়েছেন তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান৷ সংস্থার জোনাল ডিরেক্টর (পূর্ব) দীপক বেণুগোপাল বলেন, 'উন্নতমানের ক্যানসার চিকিৎসা আমরা দিতে পারছি৷'
'ক্যালকাটা হোমিওপ্যাথি কলেজ'-ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ অনুষ্ঠানে হোমিওপ্যাথির সাহায্যে ক্যানসার নিরাময় নিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্রিটেনের অ্যালেন হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ তথা কলেজের প্রাক্তনী সুব্রতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ জানেট বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অনুষ্ঠানে জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাইল্যান্ড-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন৷ ছিলেন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ কাজল ভট্টাচার্য৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের প্রাক্তনী ডা. অখিলেশ খাঁ৷

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা