বর্তমানে দেশে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই অন্য কোনো কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্টে প্রথম জানতে পারেন, তাদের লিভারে চর্বি জমেছে। রিপোর্টে যখন ‘গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার’ লেখা থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কতটা গুরুতর? একবার ফ্যাটি লিভার হলে কি আর পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কারণ গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার হলো রোগটির প্রাথমিক ধাপ। এ পর্যায়ে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করলেও সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি হয় না। সময়মতো জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারলে লিভারের অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
ফ্যাটি লিভার কী?
ফ্যাটি লিভার বলতে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে বোঝায়। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে। সমস্যার বড় দিক হলো, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের লিভারে চর্বি জমছে। বেশিরভাগ সময় এটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই ধরা পড়ে।
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ৫টি অভ্যাস বদল
১। ওজন কমানো
যাদের ওজন বেশি, তাদের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
২। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। চিনি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৩। নিয়মিত ব্যায়াম করা
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ওজন ও বিপাকক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে ফ্যাটি লিভারের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৫। অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা
অ্যালকোহল লিভারের জন্য ক্ষতিকর। যাদের ফ্যাটি লিভার বা লিভারের অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
সূত্র : আনন্দবাজার




