kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

দাওয়াই

টিউমার শুনলেই ঘাবড়াতে নেই

২৭ জুন, ২০২২ ১০:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টিউমার শুনলেই ঘাবড়াতে নেই

মিসেস রমিলা (ছদ্মনাম), বয়স ৪০-৪২। আমার কাছে এসেছেন মাসিকের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, তলপেট ভারী ভারী লাগা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের ইনফেকশনের উপসর্গ নিয়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরা পড়ল ওই রোগীর জরায়ুর টিউমার হয়েছে। জরায়ুর টিউমারকে বলে ফাইব্রয়েড।

বিজ্ঞাপন

আজকে আমরা ফাইব্রয়েড ইউটেরাস নিয়ে কথা বলব। তার আগে বলি, জরায়ু বা ইউটেরাস কী?

আমাদের অর্থাৎ মেয়েদের পেটের ভেতর থলেজাতীয় একটা অঙ্গ থাকে যেখান থেকে মাসিক হয়, বাচ্চা হয়, সেটাকে জরায়ু বা ইউটেরাস বলে।

২০ বছর বয়সে শতকরা ২০ শতাংশ মানুষের, ৪০ বছর বয়সে শতকরা ৪০ শতাংশ মহিলার এই টিউমার হয়ে থাকে। বাচ্চা না হওয়া নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। স্থূলতা, জেনেটিক কারণ, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের বেশি হয়।

উপসর্গ

♦ অতিরিক্ত মাসিকের রক্তক্ষরণ

♦ মাসিকের সময় ব্যথা

♦ তলপেটে চাপ ধরে থাকা

♦ ভারী ভারী লাগা

♦ বন্ধ্যাত্ব

টিউমার বেশি বড় হলে—

♦ পেটে চাকা লাগা

♦ প্রস্রাব-পায়খানা করতে সমস্যা হয়

♦ প্রস্রাবে ইনফেকশন এবং আরো বহুবিধ সমস্যা হতে পারে

ডায়াগনসিস

আলট্রাসনোগ্রাম করে শতকরা ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি নির্ণয় করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমআরআই লাগে। যার যা সমস্যা সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হয়। টিউমার ছোট থাকলে চিকিৎসা না করালেও চলে। কিন্তু সাইজ বড় হয়ে গেলে উপসর্গ থাকুক আর না থাকুক, চিকিৎসা করাতে হবে। কারো কারো এত রক্ত যায় যে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। সে ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে রক্তশূন্যতা পূরণের পাশাপাশি রক্তও লাগতে পারে।

এতক্ষণ যা বললাম, এগুলো সবই কনজারভেটিভ চিকিৎসা। ডেফিনিটিভ চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন। অপারেশন আবার অনেক ধরনের হয়। জরায়ু রেখে, জরায়ু ফেলে দিয়ে। আরো অনেক লেটেস্ট পদ্ধতি আছে চিকিৎসা করার।

রোগী যদি বয়স্ক হন এবং অন্য চিকিৎসায় কাজ না হয় এবং ফ্যামিলি কমপ্লিট থাকলে অপারেশন করা সবচেয়ে ভালো।

বছরের পর বছর থাকলেও ক্যান্সার হওয়ার চান্স মাত্র ০.২%। কাজেই টিউমার শুনেই প্যানিক হওয়ার কিছু নেই।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. ছাবিকুন নাহার

প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।



সাতদিনের সেরা