• ই-পেপার

বায়ু বিশুদ্ধ করতে করণীয়

সকালের নাশতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

জীবনযাপন ডেস্ক
সকালের নাশতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দিনের শুরুটা কেমন হবে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে সকালের নাশতার ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সকালের নাশতা করা উচিত। সাধারণভাবে সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে নাশতা সম্পন্ন করা সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) সক্রিয় হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালের নাশতা খান, তারা সারাদিন অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করেন না এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কম থাকে। পাশাপাশি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সকালের নাশতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সকালের নাশতায় কী কী খাওয়া যেতে পারে?

বাংলাদেশি খাবারের মধ্যেই স্বাস্থ্যকর নাশতার অনেক বিকল্প রয়েছে। যেমন—

  • আটার রুটি ও সবজি
  • ডিম (সিদ্ধ, পোচ বা অমলেট)
  • ডাল ও রুটি
  • চিড়া, দুধ ও কলা
  • ওটস বা লাল আটার পোরিজ
  • মৌসুমি ফলের সালাদ
  • সবজি খিচুড়ি
  • ছোলা, শসা ও সালাদ
  • পাউরুটির সঙ্গে ডিম ও সবজি স্যান্ডউইচ

যেসব খাবার সীমিত রাখা ভালো

  • অতিরিক্ত তেলেভাজা পরোটা
  • মিষ্টি পেস্ট্রি ও কেক
  • অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সিরিয়াল
  • কোমল পানীয় ও প্রসেসড খাবার

পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটি আদর্শ সকালের নাশতায় শর্করা, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশের সুষম সমন্বয় থাকা উচিত। তাই শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতেই দিনের শুরুতে স্বাস্থ্যকর নাশতার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

মন খারাপ হলেই জাংক ফুড? কিভাবে সামলাবেন ‘ইমোশনাল ইটিং’

অনলাইন ডেস্ক
মন খারাপ হলেই জাংক ফুড? কিভাবে সামলাবেন ‘ইমোশনাল ইটিং’
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রেমে ব্যর্থতা, সম্পর্ক ভাঙন, মানসিক চাপ বা গভীর মনখারাপের সময় অনেকেরই খাবারের প্রতি আচরণ বদলে যায়। কেউ খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, আবার কেউ অতিরিক্ত খাওয়া শুরু করেন। বিশেষ করে পিৎজা, বার্গার, চিপস, পেস্ট্রি বা ভাজাপোড়ার মতো মুখরোচক খাবারের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। মন খারাপের মুহূর্তে এসব খাবার সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগের বশে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস বা ‘ইমোশনাল ইটিং’ বর্তমানে বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে মানুষের মানসিক অবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি যেমন মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে, তেমনি অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার উদ্বেগ, অবসাদ এবং মানসিক অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

খাওয়ার আগে একটু থামুন

মন খারাপের কারণে হঠাৎ করে চিপস, চানাচুর বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছা হলে সঙ্গে সঙ্গে খেতে শুরু না করাই ভালো। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন- সত্যিই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি শুধু আবেগের কারণে খেতে ইচ্ছা করছে? অনেক সময় এই ছোট্ট বিরতিই অপ্রয়োজনীয় খাওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত খাবারের অভ্যাস বজায় রাখুন

মন খারাপ থাকলেও সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। ক্ষুধা কম থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে অল্প করে হলেও খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে শরীর যেমন পুষ্টি পায়, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উপকার হয়। বিশেষ করে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক ও ফোলেট মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাংক ফুড হাতের নাগালের বাইরে রাখুন

ঘরে যদি সবসময় চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, পেস্ট্রি বা ভাজাপোড়া খাবার মজুদ থাকে, তাহলে সেগুলো খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। তাই এসব খাবার কম কিনুন এবং সহজে হাতের কাছে না রাখাই ভালো। এর পরিবর্তে বাদাম, মাখানা, শুকনো ফল, ডার্ক চকলেট, ঘরে তৈরি হালকা নাশতা বা ফলমূল কাছে রাখুন। ক্ষুধা লাগলে এগুলো খেলে শরীরও ভালো থাকবে, অতিরিক্ত ক্যালরিও জমবে না।

শরীরচর্চাকে গুরুত্ব দিন

মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করলে শরীরে এন্ডোরফিনসহ বিভিন্ন ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট শরীরচর্চার অভ্যাস মানসিক অস্থিরতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

খাওয়ার ইচ্ছা হলে অন্যদিকে মনোযোগ দিন

অনেক সময় খাবারের প্রতি আকর্ষণ আসলে ক্ষুধার কারণে নয়, বরং আবেগের কারণে তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এরপর নিজেকে কিছুটা সময় দিন। পছন্দের বই পড়া, গান শোনা, বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা কিংবা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিলে অতিরিক্ত খাওয়ার তাগিদ অনেকটাই কমে যেতে পারে।

সাময়িক স্বস্তির বদলে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা

মন খারাপের সময়ে জাংক ফুড হয়তো কয়েক মুহূর্তের জন্য ভালো লাগা এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে তা ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, ক্লান্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের আরও অবনতির কারণ হতে পারে। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবারের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুধু হালুয়াই নয়, সহজেই বানিয়ে নিন সুজির দেশ-বিদেশের নানা স্বাদের রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক
শুধু হালুয়াই নয়, সহজেই বানিয়ে নিন সুজির দেশ-বিদেশের নানা স্বাদের রেসিপি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গম, চাল বা ভুট্টা থেকে তৈরি প্রক্রিয়াজাত দানাদার খাদ্য উপাদান হলো সুজি, যা আন্তর্জাতিকভাবে সেমোলিনা নামে পরিচিত। হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি সকালের নাশতা থেকে শুরু করে অসুস্থ অবস্থার খাদ্যতালিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

সুজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডায়েটারি ফাইবার ও প্রোটিন, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। পাশাপাশি এতে থিয়ামিন, ফোলেট, রাইবোফ্ল্যাভিন ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও থাকে, যা শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। সহজে হজম হওয়ায় এটি দ্রুত শক্তি পাওয়ার একটি ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সময়ে অনেকেই ময়দা এড়িয়ে চলেন, আবার ওটস বা কর্নফ্লেক্সেও একঘেয়েমি চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সকালের নাশতায় ভিন্ন কিছু খুঁজলে সুজি একটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। সাধারণত আমাদের দেশে সুজি বলতে হালুয়া বানানোর কথাই বেশি মনে হয় অথবা এটাকে শিশু বা রোগীর খাবার হিসেবে ধরা হয়।  কিন্তু এটি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার। 

সুজির ঝাল উপমা
সকালের নাশতা বা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে সুজির ঝাল ঝাল উপমা খুবই জনপ্রিয়। এটি তৈরি করতে প্রথমে একটি প্যানে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে আধা চা চামচ সরিষা ফোড়ন দিন। এরপর একটি মাঝারি আকারের পেঁয়াজ কুচি, আধা কাপ গাজর কুচি, আধা কাপ ক্যাপসিকাম কুচি এবং ২-৩টি কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে ২-৩ মিনিট ভেজে নিন। সবজি কিছুটা নরম হয়ে এলে ১ কাপ সুজি দিয়ে মাঝারি আঁচে ৪-৫ মিনিট নাড়তে নাড়তে ভাজুন। সুজি হালকা সোনালি রং ধারণ করলে আড়াই কাপ গরম পানি ও স্বাদমতো লবণ যোগ করুন। এরপর অনবরত নাড়তে থাকুন যাতে দলা না বেঁধে যায়। পানি শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। চাইলে পরিবেশনের আগে সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

সুজির চিলা
সুজির চিলা এক ধরনের স্বাস্থ্যকর ও মজাদার প্যানকেক, যা সবজি দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রথমে একটি বড় পাত্রে ১ কাপ সুজি, আধা কাপ টক দই এবং প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। এরপর এতে আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, আধা কাপ টমেটো কুচি, আধা কাপ গাজর কুচি, ২টি কাঁচামরিচ কুচি, আধা চা চামচ জিরা গুঁড়ো, সামান্য চিলি ফ্লেক্স ও স্বাদমতো লবণ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন, যাতে সুজি ফুলে নরম হয়ে যায়। এবার একটি নন-স্টিক তাওয়া গরম করে সামান্য তেল ব্রাশ করুন। এক চামচ ব্যাটার ঢেলে গোল করে ছড়িয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ৩-৪ মিনিট রান্না করে এক পাশ সোনালি হলে উল্টে দিন। অন্য পাশও মচমচে করে ভেজে গরম গরম পরিবেশন করুন। টমেটো সস বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।

ইতালিয়ান সেমোলিনা নিয়াকি
ইতালির জনপ্রিয় এই খাবারটি বাইরে থেকে মুচমুচে এবং ভেতরে নরম হয়। এটি তৈরির জন্য প্রথমে একটি সসপ্যানে ২ কাপ দুধ, ২ টেবিল চামচ মাখন, সামান্য লবণ এবং এক চিমটি জায়ফল গুঁড়ো নিয়ে ফুটিয়ে নিন। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে ১ কাপ সুজি ঢালুন এবং একটানা নাড়তে থাকুন যাতে দলা না বাঁধে। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর এতে ১টি ডিম ও আধা কাপ গ্রেট করা চিজ মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। একটি মাখন মাখানো ট্রেতে মিশ্রণটি ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। শক্ত হয়ে গেলে ছোট গোল বা চৌকো টুকরো করে কেটে নিন। একটি বেকিং ডিশে টুকরোগুলো সাজিয়ে ওপর থেকে আরও কিছু চিজ ও সামান্য মাখন ছড়িয়ে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন। উপরে সোনালি রং ধরলেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

মরোক্কান প্যানকেক
মরক্কোর এই ঐতিহ্যবাহী প্যানকেকের বিশেষত্ব হলো এর ওপরে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয়। এটি বানাতে একটি পাত্রে দেড় কাপ সুজি, ৪ টেবিল চামচ ময়দা, এক চিমটি লবণ এবং হালকা গরম পানি মিশিয়ে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। ব্যাটারটি ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। রান্নার ঠিক আগে এতে ১ চা চামচ বেকিং পাউডার বা ইনো মিশিয়ে নিন। একটি নন-স্টিক প্যান মাঝারি আঁচে গরম করে তাতে এক হাতা ব্যাটার ঢেলে দিন। কোনো তেল বা মাখন ব্যবহার করবেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্যানকেকের ওপর অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হবে। উপরের অংশ শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন। এটি উল্টানোর দরকার হয় না। পরিবেশনের সময় মধু, মাখন বা খেজুরের সিরাপ ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরো বেড়ে যায়।

তিসি দিয়ে বেকড সুজির ধোকলা
এই রেসিপিটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। প্রথমে একটি পাত্রে ১ কাপ সুজি, ২ টেবিল চামচ বেসন, ১ কাপ টক দই, সামান্য লবণ, ১ চা চামচ আদা কুচি ও ২টি কাঁচামরিচ কুচি মিশিয়ে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন। মিশ্রণটি ৩০ মিনিট রেখে দিন যাতে সুজি ফুলে যায়। এরপর ব্যাটারে ১ চা চামচ ইনো এবং ১ টেবিল চামচ তিসির দানা মিশিয়ে নিন। একটি বেকিং ট্রেতে সামান্য তেল মেখে ব্যাটার ঢেলে দিন। ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগে থেকে গরম করা ওভেনে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন। ওভেন না থাকলে ভাপেও রান্না করা যায়। রান্না হয়ে গেলে ওপরে সর্ষে, কারিপাতা ও শুকনা মরিচের ফোড়ন ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। এটি চাটনি বা সসের সঙ্গে খেতে খুবই সুস্বাদু। 

ভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচ কামড়ে খেলে মিলবে যেসব উপকার

জীবনযাপন ডেস্ক
ভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচ কামড়ে খেলে মিলবে যেসব উপকার
সংগৃহীত ছবি

বাঙালির খাবারের পাতে ভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচ যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডাল, ভর্তা, মাছ কিংবা মাংস—যে খাবারই হোক না কেন, পাশে একটি কাঁচা মরিচ থাকলেই অনেকের খাওয়াটা জমে ওঠে। তবে শুধু স্বাদ ও ঝালের জন্য নয়, ছোট্ট এই সবুজ মরিচে লুকিয়ে আছে নানা পুষ্টিগুণও। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে কাঁচা মরিচ খাওয়ার অভ্যাস খাবারে শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরকেও দিতে পারে নানা উপকার।

ভাতের সঙ্গে মরিচ খেলে কত উপকারিতা পাওয়া যায় তা দ্য ওয়েলনেস কর্ণারের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

4444

ঝালের আড়ালে লুকিয়ে থাকে যত পুষ্টি

কাঁচা মরিচের ঝালের জন্য দায়ী ‘ক্যাপসাইসিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ। এই উপাদান শুধু মুখে ঝাল অনুভূতি তৈরি করে না, শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া কাঁচা মরিচে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বাড়াবে বিপাকক্রিয়ার গতি

প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম কিছুটা সক্রিয় হতে পারে। ক্যাপসাইসিন শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ঝাল খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

444

হজমে সহায়তা করে

অনেকের ধারণা, ঝাল মানেই হজমের সমস্যা। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে কাঁচা মরিচ হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে পারে। এটি লালারস ও পাচকরস নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার হজমে সহায়তা করে। যাদের হজম ধীরগতির, তাদের জন্য এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ উল্টো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী

নিয়মিত পরিমিত কাঁচা মরিচ খাওয়া রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় ক্যাপসাইসিনের সঙ্গে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

কাঁচা মরিচে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে শরীর বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশি সক্ষম হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

ত্বক ও মন রাখে ভালো 

অনেকেই জানেন না, কাঁচা মরিচ ত্বকের জন্যও উপকারী হতে পারে। এতে থাকা ভিটামিন সি ‘কোলাজেন’ উৎপাদনে সহায়তা করে। এই কোলাজেন ত্বককে টানটান ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে ঝাল খাবার খেলে শরীরে এন্ডোরফিন নামের ‘ভালো লাগার’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এ কারণেই অনেক সময় ঝাল খাবার খাওয়ার পর মন কিছুটা চনমনে হয়ে ওঠে।

222

দুই মরিচের বেশি নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভাত, ডাল, তরকারি বা ভর্তার সঙ্গে একটি বা দুটি কাঁচা মরিচ খাওয়া বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে খালি পেটে কাঁচা মরিচ না খাওয়াই ভালো। ঝালের মাত্রা কমাতে চাইলে মরিচের ভেতরের বিচিগুলো ফেলে খেতে পারেন।

eee

বেশি খেলেই যে বিপদ

কাঁচা মরিচের উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। এতে পেটে জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা, অন্ত্রে অস্বস্তি এবং আলসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ফলে যাদের অর্শ, গ্যাস্ট্রিক বা সংবেদনশীল পরিপাকতন্ত্র রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

বায়ু বিশুদ্ধ করতে করণীয় | কালের কণ্ঠ