kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

করোনায় গর্ভবতী নারীর সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ১০:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় গর্ভবতী নারীর সতর্কতা

কভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই নারীর গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন নানা সমস্যা ও সতকর্তার কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় হবু মায়েদের জন্য জরুরি কিছু পরামর্শ মেনে চলার কথা জানালেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীমা ইয়াসমীন। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন।

বাংলাদেশে শুরুতে করোনা তেমন প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও এখন সংক্রমণের মাত্রাটা বেশি। এমন অবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের যেমন সতর্ক থাকার কথা বলছেন চিকিৎসকরা, তেমনি নতুন করে গর্ভধারণেও নিরুৎসাহ করছেন অনেকেই। কারণ করোনায় আক্রান্ত মা ও শিশুর চিকিৎসাসংকট। গর্ভধারণের প্রথম সাত মাসের মধ্যে হবু মা করোনায় আক্রান্ত হলে লক্ষণগুলো সাধারণত তেমন গুরুতর হয় না। তবে সাত মাসের পর করোনা সংক্রমণ হলে কিছুটা জটিলতার ঝুঁকি থাকে। আবার করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতীদের মধ্যে পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনোর আগে সন্তান জন্মানোর হার বেশি। এ জন্যই করোনাকালে গর্ভধারণ নিরুৎসাহ ও গর্ভকালীন নানা সতর্কতার কথা জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া করোনাকালে গর্ভকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চেকআপ, প্রসবকালীন এবং প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই।

করোনায় হবু মায়েদের করণীয়

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন : হবু মাকেও অন্যদের মতো সংক্রমণ এড়াতে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। কিভাবে এই সময় করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মা এখন একা নন। মায়ের সঙ্গে তার অনাগত সন্তানের ভালো-মন্দ নির্ভর করছে।

সতর্ক থাকুন অন্যরাও : গর্ভবতী মা-ই শুধু নন, তার আশপাশের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা একটি সংক্রামক রোগ। একজনের কাছ থেকে সহজেই যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভকালে বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে বিরত থাকুন। অতিথি এলে তাদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিন।

খাবার সিদ্ধ করে খান : মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি পুরোপুরি সিদ্ধ করে রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সচেতন থাকুন স্বাস্থ্য বিষয়ে : গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক পরিবর্তন হতে শুরু করে। শরীর ভারী হওয়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে একটু অসুবিধা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের হার একটু বেশি। এ ছাড়া প্রথম তিন মাস শারীরিক দুর্বলতা, খারাপ লাগা, জ্বর জ্বর ভাব, বমি ভাব, অরুচির মতো সমস্যা হয়ে থাকে। এসব লক্ষণের সঙ্গে করোনা সংক্রমণের লক্ষণের মিল রয়েছে। তাই লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা রাখুন। করোনা সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্বসহকারে দেখুন।

পুষ্টিকর খাবার খান : হবু মায়েদের ফলিক এসিড, ভিটামিন ডি, জিংক জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া দরকার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।  চা, কফি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম : প্রতিদিন সময়মতো ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন। বাড়িতেই নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। দিনে বাড়ির টুকটাক কাজ করুন। মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করুন। বাড়িতে বাগান পরিচর্যা, বারান্দা বা ছাদে সময় কাটানো এবং বই পড়ার মতো অভ্যাস অহেতুক নানা জটিলতা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

টেলিমেডিসিন সেবা নিন : গর্ভকালীন কোনো জটিলতা বা লক্ষণ নিয়ে মনের মধ্যে ভয় কাজ করলে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন। এ ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে টেলিমেডিসিন সেবা নিতে পারেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ, ওয়েবসাইটসহ ভিডিও কলের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে। ইন্টারনেটেও এখন চিকিৎসা পাওয়া যায়।



সাতদিনের সেরা