kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

সুস্থ থাকতে জীবাণুমুক্ত রাখুন থালা-বাসন

অনলাইন ডেস্ক   

১০ মে, ২০২১ ১০:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুস্থ থাকতে জীবাণুমুক্ত রাখুন থালা-বাসন

সুস্থ থাকতে নিয়মিত থালা-বাসন জীবাণুনাশক তরল বার দিয়ে ধোয়া উচিত। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিত্সক অধ্যাপক মোহাম্মদ লুতফুল কবির। লিখেছেন এ এস এম সাদ।

প্রতিবার ব্যবহারের পর থালা-বাসন ধুয়ে রাখুন

অনেক সময় খাওয়ার পর সিংকে কিংবা রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় থালাবাটি ফেলে রাখা হয়। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। খাওয়া শেষে সঙ্গে সঙ্গে প্লেট ধুয়ে রাখুন। যার যার প্লেট নিজে  পরিষ্কার করার অভ্যাস করতে পারলে আরো ভালো হয়। একজনের ওপর পরিষ্কার করার চাপ পড়ে না। বাসায় খাওয়া শেষে হাত ধোয়ার সময় নিজের প্লেটটিও পরিষ্কার করে নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিন। এখন বদ্ধ স্থানে থালা-বাসন রাখার ব্যবস্থা করুন। ইদানীং বদ্ধ ঘরে বাতাসের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে খানিকটা ঝুঁকি থেকে যায়। এ জন্য সতর্কতা অবলম্বন করুন।

সিংক পরিষ্কারেও গুরুত্ব দিন

নিয়মিত থালা-বাসন ধুয়ে থাকলেও সিংকের দিকে অনেকে নজর দেন না। সাধারণত সিংকে রেখেই বাসার সব থালা-বাসন পরিষ্কার করা হয়। এ জন্য সিংক জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি। ময়লা সিংক ব্যবহারের ফলে অনেক সময় নানা রকম রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য প্রতিবার ব্যবহার শেষে সিংকও জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

থালা-বাসনের সাবান আলাদা রাখুন

এক সাবান দিয়ে সব ধরনের পরিষ্কারের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে এক বাসনের ময়লা ও জীবাণু অন্যত্র মিশে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।   থালা-বাসন পরিষ্কারের জন্য আলাদা ভিমবার অথবা ডিসওয়াশার ব্যবহার করুন। এতে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

রোগীর থালা-বাসন আলাদা রাখুন

বাসায় কোনো রোগী থাকলে তার ব্যবহূত থালা-বাসন আলাদা করে রাখুন। যেকোনো রোগে আক্রান্ত রোগীর থালা-বাসন রান্নাঘর কিংবা থালা-বাসন যেখানে থাকে, সেখানে না রেখে অন্য স্থানে রেখে দিন। রোগীর  থালা-বাসন শুধু রোগীর ব্যবহারের জন্যই নিশ্চিত করুন।

অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার

থালাবাটি ধোয়ার সময় বেশি সতর্কতার কথা ভেবে অতিরিক্ত সাবানের ব্যবহার করতে যাবেন না। এটি ভুল। অতিরিক্ত সাবান বা ডিসওয়াশার ব্যবহার করলে ধোয়ার সময় অনেক পানির ব্যবহার হয়। অনেক সময় ভালোভাবে ধোয়াও হয় না। উল্টো বাসন-কোসনে সাবান লেগে থাকে। এই সাবান খাওয়ার সময় মুখে চলে যায়। এ জন্য থালা-বাটি ধোয়ার সময় ডিসওয়াশার কম ব্যবহার করা ভালো।

থালাবাটি প্রথমে ভিজিয়ে নিন

অনেকেই থালাবাটি ধোয়ার সময় প্রথমেই ডিসওয়াশার ব্যবহার শুরু করে। এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। ডিসওয়াশার দেওয়ার আগে থালাবাটির ওপর পানি গড়িয়ে ওপরের ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর ডিসওয়াশার ব্যবহার করতে হবে। এতে যেমন ডিসওয়াশার কম খরচ হয় তেমনি থালাবাটি ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

খেয়াল রাখুন পানি খাওয়ার ফিল্টারেও

জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার পানির জন্য অনেকেই ফিল্টার ব্যবহার করেন। সুস্বাস্থ্যের জন্য ফিল্টারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতিও নজর রাখা উচিত। ব্যবহূত না হলেও ফিল্টারের পানি প্রতিদিন বদলে ফেলা ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু পানি বিশুদ্ধ করা। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ফিল্টারের সিরামিক পরিষ্কার করা উচিত। সাধারণ নেট ব্যাগ দিয়েই এটি পরিষ্কার করা যায়। তরল ডিসওয়াশার দিয়ে নেট ব্যাগের সাহায্যে হালকা করে ভেতরটা ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ফিল্টারের ভেতরের দিকে সাবান অথবা ডিটারজেন্টে ধোবেন না। তবে বাইরের অংশ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।



সাতদিনের সেরা