• ই-পেপার

যে উপকারগুলো পাবেন কাঁচা মরিচে

মেজো সন্তান কি পরিবারে এক ‘বিচ্ছিন্ন মানুষ’?

সঞ্জয় দে
মেজো সন্তান কি পরিবারে এক ‘বিচ্ছিন্ন মানুষ’?
প্রতীকী ছবি

পরিবারে প্রথম সন্তানকে ঘিরে থাকে প্রত্যাশা, আর সবচেয়ে ছোট সন্তানকে ঘিরে থাকে বাড়তি আদর। তাহলে মাঝখানের সন্তানের অবস্থান কোথায়?

এই প্রশ্নের জবাব অনেকদিন ধরেই খুঁজছে মনোবিজ্ঞান। সাধারণভাবে মনে করা হয়, টানাপড়েনের মাঝখানে থাকা পরিবারের মেজো সন্তান ছোটবেলা থেকে এক ধরনের উপেক্ষার অনুভূতি নিয়ে বেড়ে ওঠে। এই অনুভূতির প্রভাব থেকে যায় আমৃত্যু। পরিবারের বড় অথবা ছোট সন্তানের সঙ্গে মেজো সন্তানের মানসিক দূরত্বও তৈরি হয়। উপেক্ষার অনুভূতি একদিকে যেমন গোপন নিঃসঙ্গতার জন্ম দেয়, তেমনি আবার এ অবস্থার সুবিধা নিয়েই মেজো সন্তানের মধ্যে বেশি মাত্রায় স্বাধীনচেতা, বিদ্রোহী কিংবা জটিল কূটনৈতিক স্বভাবের বিকাশ ঘটে থাকে।  

মনোবিজ্ঞানের জগতে ‘মিডল চাইল্ড সিনড্রোম’ খুব অপরিচিত কোনো বিষয় নয়। অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার সর্বপ্রথম পরিবারের মধ্যবর্তী সন্তানের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। ১৯২০-এর দশকে তিনি দাবি করেন, পরিবারে সন্তানদের জন্মক্রম তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম সন্তান সাধারণত দায়িত্বশীল হয়, ছোট সন্তান হয় তুলনামূলক আদুরে। আর মাঝখানের সন্তান দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী জায়গায় নিজের অবস্থান খোঁজার লড়াই চালাতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের মানসিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।

১৯২৮ সালে আলফ্রেড অ্যাডলারের উপস্থাপন করা তত্ত্বে দাবি করা হয়, সন্তানেরা একই পরিবারে জন্ম নিলেও তাদের জন্মক্রম আলাদা মানসিক বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। জন্মক্রমের ভিত্তিতে শিশুর ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। অ্যাডলারের মতে, পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান তুলনামূলকভাবে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়। সাধারণত তার ওপর বাবা-মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা থাকে বলে সে নিজেকে অনেক বেশি ক্ষমতাবান মনে করতে শুরু করে। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট সন্তান পরিবারে আদুরে শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠে। আর মেজো সন্তান সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের হয়। বড় ও ছোট ভাইবোনের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার নানামুখী সমস্যায় ভুগতে পারে।

অ্যাডলারের তত্ত্বটি জন্মক্রমের ভিত্তিতে মানুষের মানসিক বিকাশকে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছিল। তবে পরবর্তী আরো অনেক গবেষণায় জন্মক্রমের প্রভাব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ফলাফলও দেখা গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মেজো সন্তানদের কথিত কিছু বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো :

ব্যক্তিত্ব 

মেজো সন্তানের ব্যক্তিত্ব সাধারণত অন্য ভাইবোনদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় বলে অনেকে ধারণা করেন। কারণ বড় ভাই অথবা বোন হয় দৃঢ়চেতা, আর ছোটজন পরিবারের আদরের সন্তান। এর মাঝের সন্তান মধ্যবর্তী একটি অবস্থানে থেকে যায়। এতে করে তার ব্যক্তিত্ব তুলনামূলকভাবে চাপা হতে পারে। স্বভাব হয়ে উঠতে পারে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ।

সম্পর্ক 

মেজো সন্তানদের কাছে কখনো কখনো মনে হতে পারে—বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা অন্য ভাইবোনদের মতো সমান গুরুত্ব পাচ্ছে না। বড় সন্তান বেশি দায়িত্ব পাচ্ছে, ছোট সন্তান বেশি যত্ন কেড়ে নিচ্ছে, আর মেজো সন্তান তুলনামূলকভাবে কম মনোযোগ পাচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

মেজো সন্তান বাবা-মায়ের মনোযোগ পাওয়ার জন্য বড় ও ছোট ভাইবোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার চাপ অনুভব করতে পারে। তবে এমন প্রতিযোগিতার ফলে আরো উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকির আশঙ্কাও থাকে। আবার পরিবারের বিভিন্ন বিরোধের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে অনেক সময় তাকে মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকাতেও দেখা যেতে পারে। 

পক্ষপাতিত্ব

মেজো সন্তান সাধারণত নিজেকে বাবা-মায়ের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান বলে ভাবতে পারে না। পরিবারে অনেক সময় বড় সন্তানকে ‘বিশেষ’ এবং ছোট সন্তানকে ‘শিশু’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে মাঝখানের সন্তান তেমনভাবে কারো প্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ নাও পেতে পারে। 

কারো কারো ধারণা, ‘মিডল চাইল্ড সিনড্রোম’-এর প্রভাব কেবল শৈশবেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও এর প্রভাব থেকে যেতে পারে। পরিবারের মেজো সন্তান হিসেবে শৈশবের নিঃসঙ্গ ব্যক্তিত্ব ও সম্পর্কগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন পরিণত জীবনেও দেখা যেতে পারে। 

যারা শৈশবে নিজেদের অবহেলিত মনে করে বড় হয়েছেন, তারা প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে কেউ কেউ আবার কর্মক্ষেত্র বা পরিবারে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পছন্দ করতে পারেন। তাদের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণ আশপাশের অন্যদের তুলনায় কম প্রকাশিত বা কম দৃশ্যমান হয়। এমনকি তারা কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে নিজেকে ভাবতেও অস্বস্তি বোধ করতে পারেন।

পুরোনো বেশ কিছু গবেষণায় জন্মক্রমের সঙ্গে বিভিন্ন মানসিক অবস্থার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি), সিজোফ্রেনিয়া, বিষণ্নতা এবং অ্যানোরেক্সিয়া। তবে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়ায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনো কঠিন। 

সম্প্রতি জাপানে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, কৈশোরে মেজো সন্তানেরা অন্য ভাইবোনের তুলনায় কিছুটা কম সুখী হতে পারে। তবে তাদের আবেগজনিত উপসর্গ বা সামগ্রিক কোনো জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জন্মক্রম থেকে বিশেষ কোনো মানসিক ফলাফলের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারে ভাই-বোনের চরিত্রবৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে জন্মক্রমের প্রভাব রয়েছে। তবে এর মাত্রা খুবই সামান্য এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

কিছু গবেষণায় অবশ্য জন্মক্রমের তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাবও দেখা গেছে। ২০২৪ সালে সাত লাখেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, মেজো সন্তানেরা গড়ে অন্য ভাই-বোনের তুলনায় কিছুটা বেশি সহযোগিতাপ্রবণ, সমঝোতামূলক এবং সহনশীল হতে পারে। গবেষকদের মতে, বড় ও ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়েই মেজো সন্তানের আলোচনার দক্ষতা তৈরি হয়। তারা সহযোগিতামূলক আচরণও বেশি রপ্ত করতে পারে। 

আরো কিছু গবেষণায় দেখা যায়, মেজো সন্তান তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনচেতা। তাদের মধ্যে প্রচলিত নিয়মকে প্রশ্ন করার প্রবণতা দেখা যায়। তারা পরিবারে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করে। 

তবে এসব প্রবণতাকে গড়পড়তা পর্যবেক্ষণ বলেও মনে করেন অনেক মনোবিজ্ঞানী। তাদের মত হলো, মেজো সন্তানের বঞ্চনাবোধের অনুভূতি অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো বাস্তব, কিন্তু এর প্রধান কারণ জন্মক্রম নয়। পরিবার যদি সচেতন থাকে এবং বাবা-মা প্রতিটি সন্তানের প্রতি সমান মনোযোগ দিলে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি শিশুই স্বতন্ত্র। সে প্রথম, মাঝের, নাকি শেষ সন্তান—সেটি পরিবারে প্রাধান্য পাওয়া উচিত নয়। শৈশবে বহু জৈবিক, সামাজিক ও পারিবারিক উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। সেই কারণেই মেজো সন্তানকে বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাকে কোনো ‘মধ্যবর্তী সন্তান’ হিসেবে বিচার না করে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখা।

রক্তে সুগার না বাড়িয়েই ডায়াবেটিক রোগীরা যেভাবে মিষ্টি খাবেন

জীবনযাপন ডেস্ক
রক্তে সুগার না বাড়িয়েই ডায়াবেটিক রোগীরা যেভাবে মিষ্টি খাবেন
সংগৃহীত ছবি

উৎসব-পার্বণে সবার সাথে ডায়াবেটিক রোগীরাও এখন মাঝেমধ্যে মিষ্টিমুখ করতে পারবেন। তবে তার জন্য মানতে হবে বিশেষ কিছু কৌশল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) জাতীয় খাবার শুধু না খেয়ে, তার সাথে ফাইবার (আঁশ) বা প্রোটিনযুক্ত করে নিলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না।

নিউইয়র্কের ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পর কার্বোহাইড্রেট বা মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়ে না। এ সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এই নিয়মে খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে শর্করার মাত্রা ২৯ শতাংশ কমেছে। ৬০ মিনিট পরে তা কমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ। ১২০ মিনিট পরে তা ১৭ শতাংশে নেমে গেছে। তাই রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল সূত্র হলো— প্রথমে খেতে হবে ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, আর একদম শেষে আসবে শর্করা বা মিষ্টি।

মিষ্টি খাওয়ার সঠিক উপায়
বাদাম খেয়ে মিষ্টি খাওয়া : মিষ্টি খাওয়ার ঠিক আগে ৪ থেকে ৫টি আখরোট বা কাঠবাদাম খেয়ে নেওয়া ভালো। বাদামে থাকা ফাইবার, প্রোটিন ও ভালো ফ্যাট মিষ্টির শর্করাকে শরীরে দ্রুত শোষিত হতে বাধা দেয়।

মিষ্টি ফলের নিয়ম : বিকেলের দিকে খালি পেটে রসালো বা বেশি মিষ্টি ফল না খেয়ে, ফাইবারযুক্ত অন্য কোনো খাবার খাওয়ার পর এই ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ।

ক্যালরির ভারসাম্য : যদি কোনো দিন একটি মিষ্টি বা আইসক্রিম খাওয়া হয়েই যায়, তবে ক্যালরির ভারসাম্য ঠিক রাখতে ওই দিনের অন্য বেলার খাবার থেকে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিয়মিত মিষ্টি খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। তবে মাঝেমধ্যে মন চাইলে এই স্বাস্থ্যকর পন্থা মেনে মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে।

সূত্র : আনন্দবাজার

কানের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে উপকারী যেসব খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক
কানের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে উপকারী যেসব খাবার

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস শুধু পেটই ভরায় না, বরং শরীর ও মনের পাশাপাশি কানের ভেতরের সূক্ষ্ম অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দারুণ ভূমিকা রাখে। যদিও একবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে কোনো খাবারই তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে না, তবে সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে এই ক্ষতির প্রক্রিয়াটিকে অবশ্যই ধীর করা সম্ভব।

শব্দতরঙ্গ কানের পর্দা কাঁপিয়ে যখন অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়, তখন সেখানকার হাজার হাজার আণুবীক্ষণিক রোমকোষ (হেয়ার সেল) সেই কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এই পুরো ব্যবস্থাটি সচল রাখতে কানের ভেতরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহের প্রয়োজন। তাই উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও দুর্বল হৃদযন্ত্রের কারণে যখন রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কানের কার্যকারিতাও দ্রুত হ্রাস পায়। সহজ কথায়, যা হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে, তা কানেরও ক্ষতি করে। তবে দৈনন্দিন কিছু সাধারণ খাবার নিয়মিত খেলে কানের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। চলুন, জেনে নিই।

চর্বিযুক্ত মাছ : স্যালমন বা ম্যাকেরেলের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ডি সরবরাহ করে কানের হাড়কে মজবুত রাখে।
শাকসবজি : পালং শাক বা অন্যান্য গাঢ় সবুজ শাকে থাকা ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়াম কানের সংবেদনশীল কোষগুলোকে রক্ষা করে।
বাদাম ও বীজ : আখরোট, কুমড়াবীজ ও কাঠবাদাম থেকে কানের জন্য উপকারী জিঙ্ক ও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।
সাইট্রাস ফল : কমলা ও জাম্বুরার মতো লেবুজাতীয় ফলের ভিটামিন সি কানের ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ডিম : এতে থাকা ভিটামিন বি১২ ও প্রোটিন শ্রবণতন্ত্রের স্নায়ুর কার্যকারিতা সচল রাখে।
শিম ও ডালজাতীয় শস্য : উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের পাশাপাশি এগুলো থেকে প্রচুর আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
ডার্ক চকোলেট : কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেটে থাকা জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম কানের কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কলা : কলার পটাসিয়াম উপাদান অন্তঃকর্ণের তরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
অ্যাভোকাডো : এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সহজে শোষণ করতে সাহায্য করে।
হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য : লাল চাল বা ওটস শব্দজনিত কারণে কানের ক্ষতি হওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়।

পুষ্টির ঘাটতি যেখানে শ্রবণশক্তি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে, সেখানে কিছু ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস এই ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে কানের ভেতরের তরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন- বেকন বা হট ডগ) ও ভাজাপোড়া খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট ধমনিগুলোকে ব্লক করে কানের সূক্ষ্ম রক্তনালির ক্ষতি করে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সজনিত বা শব্দজনিত ক্ষতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, জিনগত বা বার্ধক্যের স্থায়ী জটিলতা শুধু খাবারে ঠিক হয় না। তাই শ্রবণশক্তিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) লক্ষ্য করলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে হিয়ারিং এইডের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া জরুরি।

সূত্র : স্ট্যানফোর্ড হেয়ারিং এইডস

মাচা কি কফির জায়গা নিচ্ছে?

জীবনযাপন ডেস্ক
মাচা কি কফির জায়গা নিচ্ছে?
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

অনেকের দিনের শুরুটা হয় কফির কাপে। তবে শরীরকে একটু ‘ক্যাফেইন ব্রেক’ দিতে এবং ঘুম, অস্থিরতা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলো এড়াতে অনেকে ধীরে ধীরে কফি কমানোর দিকে ঝুঁকছেন। ঠিক তখনই সামনে আসে এক উজ্জ্বল সবুজ পানীয়—মাচা।

বিশ্বজুড়ে এখন মাচার জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত। কেউ বলছেন এটি কফির চেয়ে স্বাস্থ্যকর, কেউ আবার এটাকে নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ড হিসেবে দেখছেন। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—মাচা কি সত্যিই এতটা উপকারী?

মাচা আসলে কী?

মাচা কোনো আলাদা গাছ নয়। এটি তৈরি হয় সবুজ চা গাছ থেকেই। তবে পার্থক্যটা শুরু হয় চাষের সময়।

চা গাছগুলোকে ফসল তোলার আগে কিছু সময় ছায়ায় রাখা হয়। এতে পাতার ভেতরে ক্লোরোফিল ও অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এরপর পাতাগুলো ভাপানো, শুকানো এবং সূক্ষ্ম গুঁড়োতে পরিণত করা হয়।

এই গুঁড়োই হলো মাচা।

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—এখানে শুধু চা পান করা হয় না, পুরো পাতাটাই নেওয়া হয়। তাই সাধারণ সবুজ চায়ের তুলনায় এর উপাদান বেশি ঘন থাকে।

দদদ

মাচায় কী আছে?

বিভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাচায় রয়েছে থিয়ানিন, ক্যাফেইন, ক্যাটেকিন ও রুটিনের মতো বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও মাচা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মনোযোগ বাড়াতে, স্ট্রেস কমাতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

কফির বিকল্প হিসেবে কেমন?

মাচায় ক্যাফেইন থাকলেও তা কফির চেয়ে তুলনায় কম। ফলে যারা কফি ছাড়তে পারছেন না কিন্তু কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি মাঝামাঝি বিকল্প হতে পারে।

অনেকে বলেন, মাচা মনকে একটু শান্ত রেখে ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই অনেকে বলেন, কফি যেখানে দ্রুত জাগিয়ে তোলে, মাচা সেখানে ধীরে কিন্তু স্থায়ীভাবে সতেজ রাখে।

স্বাদের দিক থেকেও পার্থক্য আছে। কফির মতো তীব্র ও তিক্ত না হয়ে মাচার স্বাদ একটু ঘাসের মতো, হালকা উমামি এবং নরম।

মাচা কিভাবে খাওয়া যায়

মাচা সাধারণত গরম পানিতে মিশিয়ে পান করা হয়। অনেকেই এতে দুধ মিশিয়ে মাচা লাটে বানিয়ে খান, আবার কেউ আইসড মাচা হিসেবে ঠাণ্ডা করে উপভোগ করেন। শুধু পানীয়ই নয়, কেক, আইসক্রিম, স্মুদি বা ডেজার্টেও মাচা ব্যবহার করা হয়, যা খাবারে আলাদা স্বাদ ও রং যোগ করে।

তবে সতর্কতা আছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাচাকে কখনোই ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, মাচা হয়তো কোনো ম্যাজিক ড্রিংক নয়, তবে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে এটি একটি আকর্ষণীয় সংযোজন হতে পারে।

আর যারা কফির বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য এক কাপ মাচা হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার শুরু।

যে উপকারগুলো পাবেন কাঁচা মরিচে | কালের কণ্ঠ