kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ৭ পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:০৩ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ৭ পরামর্শ

মডেল : সালভী ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন সমন্বিত সাত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডাউনলোড করতে হবে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। শেষ সময়ের প্রস্তুতির ১০ পরামর্শ দিয়েছেন জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর মাহমুদ

১. হাতে যেহেতু সময় কম, তাই গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলো নোট করে নিতে পারেন, যাতে পরীক্ষার আগে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এত অল্প সময়ে সব কিছু নোট করা সম্ভব না। তাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলো নোট করে রাখুন। নোট এমনভাবে করবেন, যেন প্রিলিমিনারির পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায়ও কাজে আসে।

ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষায় কোনো বিষয়কে অবহেলা করা যাবে না। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গণিত ও ইংরেজি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এটা সত্য, তবে এগিয়ে থাকতে হলে সব বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হবে। পরীক্ষার জন্য হাতে যে সময় আছে সে সময়ের মধ্যেই সব বিষয়ে জোরালো ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

২. পরীক্ষার হলে ৮০ থেকে ১০০টি প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় পাবেন ৬০ মিনিট। গণিতের ওপর সাধারণত ২০-২৪টি প্রশ্ন থাকে। বিস্তারিত অঙ্ক করে উত্তর বের করতে গেলে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত অঙ্কের উত্তর বের করার শর্ট টেকনিক শিখে নিতে পারেন। অঙ্কের উত্তর করার জন্য অনুশীলনের বিকল্প কিছু নেই। তাই এ সময়ে বিগত বিভিন্ন সালে আসা প্রশ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো অনুশীলন করবেন। যাঁদের গণিতের বেসিক দুর্বল, তাঁদের শর্ট টেকনিকের কথা না ভেবে আপাতত বেসিক ঝালাইয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এর জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির গণিত বোর্ড বইগুলো অনুসরণ করুন। এ ছাড়া বাজারে ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন বই পাওয়া যায়।

৩.  ব্যাংকের চাকরির প্রস্তুতিতে বাংলা বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই বাংলা সমান গুরুত্ব বহন করে। প্রিলিমিনারিতে ২০-২৫ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায় ৬০-৭০ নম্বর থাকে। বাংলা প্রশ্নের ধরন কঠিন, নাকি সহজ হবে—এগুলো বর্তমান প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বা ফ্যাকাল্টির ওপর নির্ভর করে। বাংলার প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ব্যাকরণ উভয়ের ওপর সমান দক্ষতা থাকতে হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উন্মুক্ত ও তথ্যবহুল লেখার অনুশীলন করতে হবে। পত্রিকার সম্পাদকীয় ও সমসাময়িক ঘটনাবলি দেখে নিতে পারেন।

৪. ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার জন্য গণিতের পাশাপাশি ইংরেজিতে ভালো নম্বর তোলার বিকল্প নেই। প্রতিদিন  ইংরেজি নিয়ে দিনের পড়া শুরু করতে পারেন। ইংরেজিতে ভালো করতে বেশি বেশি ভোকাবুলারি পড়তে পারেন। দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখতে পারেন ভোকাবুলারির জন্য। এভাবে প্রতিদিন পড়তে থাকলে নতুন নতুন ভোকাবুলারি আপনার ভাণ্ডারে জমা হবে। আর পুরনো ভোকাবুলারিগুলোও মাথা থেকে হারিয়ে যাবে না। ব্যাংকে চাকরি পেতে ভোকাবুলারি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভোকাবুলারির পাশাপাশি ইংরেজি গ্রামারেও গুরুত্ব দিতে হবে। পরীক্ষায় ইংরেজি সাহিত্যের চেয়ে ইংরেজি গ্রামার থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। তাই ইংরেজি গ্রামার বেশি বেশি অনুশীলন করবেন। প্রতিদিন অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় অনুবাদ করতে পারেন। অনুবাদ করতে প্রথম দিকে হয়তো কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু নিয়মিত চর্চা করতে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে  সাবলীলতা ও দক্ষতা চলে আসবে অনুবাদে।

৫. বর্তমান সময়ের ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টির মাধ্যমে। তাই প্রস্তুতির জন্য ফ্যাকাল্টিভিত্তিক বিগত সালের প্রশ্নসংবলিত (সমাধানসহ) বই বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। আইবিএ, বুয়েট, আর্টস ফ্যাকাল্টি প্রভৃতির প্রশ্নগুলো আলাদাভাবে পড়ে বুঝে নিতে হবে—কোন ফ্যাকাল্টির প্রশ্নের ধরন কেমন হয়, কোন ফ্যাকাল্টির প্রশ্নে কোন টপিকস থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। এভাবে আলাদা করে পড়তে পারলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে জানা যাবে। আর যখন জানা যাবে যে পরীক্ষা কোন ফ্যাকাল্টি নেবে, তখন সে আলোকে বুঝে-শুনে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের বিগত ৮-১০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন এবং নোট করে রাখুন, যেন পরীক্ষার আগে চটজলদি দেখে যেতে পারেন। চাকরির পরীক্ষায় অনেক সময় বিগত সালের কিছু প্রশ্ন হুবহু বা ঘুরিয়ে তুলে দেওয়া হয়।

৬. সময়ের সুষম বণ্টন খুব জরুরি। করোনাকালে বাসায় মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এতে পরীক্ষার হলে সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। বিগত বছরের প্রশ্ন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নমুনা প্রশ্ন দেখে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এরপর সেটা নিজেই মূল্যায়ন করুন। পরীক্ষার হলে সময় সীমিত।

প্রশ্নের নির্ধারিত বা সীমিত সময়ের মধ্যে উত্তর দ্রুততার সঙ্গে করতে হয়। সঠিক সময়-ব্যবস্থাপনার জন্য অনেকেই ভালো প্রস্তুতির পরও পরীক্ষায় সব উত্তর সময়ের অভাবে করতে পারেন না। আবার পরীক্ষার জন্য অনেক কিছু পড়ার পরও দেখা যায়, মনে থাকে না। এ রকম নানা সমস্যা আমাদের অনেকেরই, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়া মনে রাখা জরুরী। তাই প্রচুর অনুশীলন করুন।

দৈনিক পড়াশোনার জন্য একটি রুটিন তৈরি করতে পারেন। সে রুটিন অনুসারে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে পারেন। গণিত ও ইংরেজির জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রেখে রুটিন সেট করুন। রুটিনমাফিক পড়াশোনা করলে পড়ার আগ্রহ বাড়ে এবং পড়তে বিরক্তি আসে না। প্রস্তুতিটাও গোছালো হয়।

৭.  বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ চাকরির পরীক্ষায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়। এমন সাইটগুলোর মধ্যে আছে—sawaal.com, indiabix.com, examveda.com, majortests.com, gyanjosh.com, gmatclub.com, competoid.com, affairscloud.com।ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার বিষয়ের প্রশ্ন ওয়েবসাইট থেকে হুবহু এসেছে, এমন অনেক নজির আছে। বেশির ভাগ সময় গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার বিষয়ের প্রশ্ন ওয়েবসাইট থেকে তুলে দেওয়া হয়।

অনুলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

পরীক্ষা যেভাবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন সমন্বিত সাত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষা হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় থাকবে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ। দ্বিতীয় ধাপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। সব শেষে ২৫ নম্বরের ভাইভা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটারের ওপর মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়। এ ক্ষেত্রে গণিতে ৩০, ইংরেজিতে ২৫, বাংলায় ২০, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ এবং কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তিতে ১০ নম্বর থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা