kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

গৃহকর্মী দ্বারা শিশু নির্যাতন

কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তান থাকবে কার দায়িত্বে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তান থাকবে কার দায়িত্বে?

আধুনিক যুগে অসংখ্য দম্পতি আছেন, যারা দুজনেই কর্মজীবী। চাকুরি কিংবা ব্যবসার কারণে তাদের দিনের একটা বড় সময় বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়। যাদের বাচ্চা ছোট কিংবা কম বয়সী, সেইসব দম্পতির দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কিছু পরিবারে হয়তো দাদা-দাদী, নানা-নানীরা দেখভাল করেন বাচ্চাদের। কিন্তু যেসব পরিবারে এই সুযোগ থাকে না, তার পড়ে যান অকূল পাথারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীটিকে চাকরি ছেড়ে বাসায় থাকতে হয়। কিন্তু এটা আসলে কোনো সমাধান হতে পারে কি?

এই সময়ের জীবনযাত্রার মান, দ্রব্যমূল্যসহ সকল সেক্টরের ব্যয়বৃদ্ধির কারণে সংসার চালাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই চাকরি করতে হয়। তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কারণে অনেক নারীরা চাকরি করে থাকেন। এই বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। যারা মনে করেন, বাচ্চার জন্য মায়ের চাকরি ছাড়া উচিত; তারা নিশ্চয়ই ওইসব পরিবারের ব্যয়ভার বহন করবেন না। সুতরাং, চাকরি ছাড়া কোনো যৌক্তিক সমাধান হতে পারে না। বাধ্য হয়েই এসব দম্পতি গৃহকর্মীর কাছে নিজের সন্তানকে রেখে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর্মক্ষেত্রে চলে যান। আর সেই গৃহকর্মী দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হয় শিশু!

আরও পড়ুন : অফিসে বসে বাবা দেখছিলেন- সন্তানকে বীভৎসভাবে মারছে গৃহকর্মী! (ভিডিওসহ)

সম্প্রতি রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি ঘটনায় শিউরে উঠতে হয়েছে। সন্তানকে বুয়ার কাছে রেখে চাকরি করতেন স্বামী-স্ত্রী। একদিন কিছু সন্দেহ হওয়ায় গৃহকর্তা বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগান। যে ক্যামেরার দ্বারা তিনি বাসায় বসেই স্মার্টফোনে লাইভ ভিডিও দেখতে পেতেন। একদিন তার চোখে পড়ে ভয়ংকর দৃশ্য! সেই গৃহকর্মী নারী (৪০) বীভৎসভাবে মারধর করছেন ২ বছর বয়সী শিশুটিকে। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ সেই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তারও করেছে। মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু আধুনিক দম্পতিদের এই সমস্যার সুরাহা কোথায়?

রাজধানীর পশ্চিম ভাষানটেক এলাকার কর্মজীবী দম্পতি আনিসুর বুলবুল এবং সেলিনা বৃষ্টি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিডিওটি দেখার পর থেকে ভীষণ আতঙ্কে আছি। আমাদের দুটি ছোট বাচ্চা আছে, যাদের দিনের কিছু সময় গৃহকর্মীর কাছে রাখতে হয়। সেই গৃহকর্মী যে আমার সন্তানের সঙ্গে কেমন আচরণ করে তা আমরা জানি না! এখন আমরা বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' পাশাপাশি সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে অধিক সংখ্যক ডে কেয়ার সেন্টার চালুর দাবিও জানান এই দম্পতি।

কী করবেন কর্মজীবী দম্পতিরা?

** উন্নত দেশসমূহে এমনকী এশিয়ার অনেক দেশেও সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে 'ডে কেয়ার সার্ভিস' এর ব্যবস্থা আছে। এসব জায়গায় সন্তানকে রেখে নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে যেতে পারেন বাবা-মা। বাংলাদেশে দু-একটি বেসরকারি সংস্থা এই 'ডে কেয়ার সার্ভিস' চালু করেছে, যা নিতান্তই অপ্রতুল। সরকারেরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

** অনেক দম্পতিই পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কাছে সন্তানকে রেখে বাইরে যান। তারা হতে পারেন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা অন্যান্য স্বজন। কিন্তু পারিবারিক কারণেই সব দম্পতিরা এই সুবিধা পান না। পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যেই অসুস্থতায় ভোগেন। সুতরাং, এই উপায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা যায় না। তবে সুযোগ থাকলে সেটার ব্যবহার করাই শ্রেয়।

আরও পড়ুন : অফিসে বসে বাবা দেখছিলেন- সন্তানকে বীভৎসভাবে মারছে গৃহকর্মী! (ভিডিওসহ)

** নবজাতক শিশুকে নিয়ে কর্মস্থলের ডেস্কে বসে কাজ করারও রেকর্ড আছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানই এ ব্যাপারে সদয় নয়। সব অফিস শিশুকে নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেয় না। তাছাড়া ফিল্ড ওয়ার্কে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা বলতে গেলে অসম্ভব। কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য সরকারিভাবে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে নীতিমালা তৈরি করা যেতে পারে।

** কোনো উপায়ই না থাকলে গৃহকর্মীর কাছে সন্তানকে রেখে কাজে যেতে বাধ্য হন দম্পতিরা। কিন্তু গৃহকর্মী সেই সন্তানের সঙ্গে কী আচরণ করবে তা জানার কোনো সুযোগ থাকে না। শিশুরা তো বলতেও পারে না। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে সিসিটিভি ক্যামেরা। আজকাল ৫ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের আইপি ক্যামেরা পাওয়া যায়। যা ঘরে সেট করে অফিসে বসেই সন্তানের ওপর নজর রাখা সম্ভব। তার সঙ্গে বাজে কিছু হলে সেটাও রেকর্ড হয়ে যাবে ক্যামেরায়।

** সবচেয়ে বড় কথা হলো, সন্তানকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা। তবে সরকার এক্ষেত্রে নজর না দিলে, কার্যকর কোনো নীতিমালা তৈরি না করলে তা সম্ভব নয়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। অফিসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সবাইকেই এভাবে পৃথিবীতে আসতে হয়েছে। সুতরাং একটু মানবিক বোধ থাকলেই ইতিবাচক কিছু করা সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা