kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শেখ রাসেল ওয়েবসাইট এবং অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

দেশের শিশু-কিশোরের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে চাই: পলক

অনলাইন ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০২১ ০১:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশের শিশু-কিশোরের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে চাই: পলক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবরকে শেখ রাসেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গ্রহণ করেছে বিশেষ কার্যক্রম।

এরই আলোকে রবিবার (৩ অক্টোবর) ‘শেখ রাসেল ওয়েবসাইট ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন’ শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহ, এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম-এর প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ বি এম আরশাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, 'বিশ্বে যেন আর কোনো শিশুকে শেখ রাসেলের মতো জীবন দিতে না হয়, এই রকম কলঙ্কজনক অধ্যায় যেন আর কেউ তৈরি করতে না পারে, তার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু-কিশোরের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, শেখ রাসেলের সংগ্রামী জীবন এবং তার যেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সেটি আমরা তুলে ধরতে চাই।

পলক বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ যে গত ২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিবছর ১৮ অক্টোবর তারিখ ‘শেখ রাসেল দিবস’ ‘ক’ শ্রেণীর দিবস হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই দেশের কোটি কোটি শিশু, কিশোর ও তরুণদের কাছে শেখ রাসেলের জীবন ও শৈশবকে তুলে ধরা হলো এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পরে প্রতিমন্ত্রী শেখ রাসেল দিবসের কর্মসূচি বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং শেখ রাসেল ওয়েবসাইট ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহ বলেন, পরিবারের সকলের প্রিয় ছোট্ট শোনামনি শেখ রাসেল খুব কম সময়েই তাঁর পিতাকে কাছে পেয়েছেন। তবে ছোটকাল থেকেই তাঁর হাটাচলা ছিল বঙ্গবন্ধুর মতো এবং এমনকি পোশাকটিও পরতো বাবার মতো করে। তিনি অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাযজ্ঞে পাষাণ ঘাতকের মন এতটুকু টলেনি নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলের আকুতিতে। মায়ের কাছে যাবার প্রাণপণ আর্তিতে কর্ণপাত করেনি খুনিরা।” সবশেষে তিনি শেখ রাসেলকে অত্যন্ত নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।

আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, জাতির পিতার অনুপ্রেরণায় ও আদর্শে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই পরিচালনার দায়িত্বটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে দেশের উন্নয়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শেখ রাসেল দিবস সম্পর্কে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই আয়োজনটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। আমি আশা করি, আমাদের শিশু-কিশোরদের মনে শেখ রাসেলের যে আদর্শটি প্রভাবিত করতে সহোযোগিতা করবে। আমরা চাই একটি উন্নত বাংলাদেশ যেখানে তথ্য ও প্রযুক্তি থাকবে এবং যেখানে একটি সুন্দর আদর্শের মাধ্যমে যুব সমাজ ও শিশু কিশোররা গড়ে উঠবে। এই আদর্শের মূল জায়গাটি হচ্ছে শেখ রাসেলের শিশু জীবনের জীবন আদর্শ যা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনের জন্য আগামীতে তৈরি হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ বি এম আরশাদ হোসেন স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে শহীদ শেখ রাসেলকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করছি। তিনিও বেঁচে থাকলে হয়তো বা সামিল হতেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে। ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে তার বোন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এখন যেমন দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, বেঁচে থাকলে তিনিও নিঃসন্দেহে নিজেকে দেশের জন্য নিয়োজিত রাখতেন।”

সবশেষে কুইজ প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী উপস্থাপন করেন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ) এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিসহ সকল মন্ত্রণালয় এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় “শেখ রাসেল দিবস” এর অংশ হিসেবে শেখ রাসেল (www.sheikhrussel.gov.bd ) নামক একটি ওয়েবসাইট ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্প। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিশু-কিশোর তথা বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শেখ রাসেল সম্পর্কে জানতে পারবে।



সাতদিনের সেরা