• ই-পেপার

চার‌ দিনব্যাপী সাধারণ জ্ঞান-‌ভি‌ত্তিক অনলাইন কর্মশালা

এআইচালিত ড্রোন নির্মাতা কোয়ান্টাম সিস্টেমস পেল ১২০ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
এআইচালিত ড্রোন নির্মাতা কোয়ান্টাম সিস্টেমস পেল ১২০ কোটি ডলার
প্রতীকী ছবি

জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম সিস্টেমস নতুন করে ১২০ কোটি ডলার (১.২ বিলিয়ন) যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪,৭৯৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়েছে। এই অর্থ দিয়ে কম্পানিটি এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উৎপাদন এবং গবেষণা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির বরাতে এক প্রতিবেদনে কম্পানিটি এ তথ্য জানায়।

 নতুন এই বিনিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি ডলার (৮ বিলিয়ন) যা বাংলাদেশি প্রায় ৯৮,৬২৪ কোটি টাকা হয়েছে।

কোয়ান্টাম সিস্টেমস এমন ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। এসব ড্রোন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়।

কম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রধান নির্বাহী ফ্লোরিয়ান সাইবেল বলেন, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও সামরিক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই তারা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছেন।

কোম্পানিটি জানায়, নতুন পাওয়া অর্থ দিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা, মিত্র দেশগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সফটওয়্যার ও এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে এআইচালিত ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও সামরিক সফটওয়্যার তৈরিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিলরুম জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই খাতে ১৭৪০ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি প্রায় ২,১৪,৫০৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। গত বছর এ খাতে মোট বিনিয়োগ ছিল ১১২০ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,৩৮,০৭৩ কোটি টাকা। 

কোয়ান্টাম সিস্টেমসের প্রযুক্তি ইতিমধ্যে ইউক্রেনে ব্যবহার করা হচ্ছে। কম্পানিটির দাবি, ২০২৫ সালে তাদের ড্রোন ব্যবহার করে সেখানে ১৯ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জার্মানি, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে কম্পানিটির উৎপাদন ও কার্যক্রম রয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আরো দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গাড়ি সরবরাহ করেও টেসলার শেয়ারদর ৬% কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গাড়ি সরবরাহ করেও টেসলার শেয়ারদর ৬% কমেছে
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে। তবে ভালো এই ফলাফলের পরও কম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির এল প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে টেসলা জানায়, এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছে। একই সময়ে উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি।

ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকেরা ধারণা করেছিলেন, এ সময়ে টেসলার গাড়ি সরবরাহের সংখ্যা হবে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার। কিন্তু বাস্তবে কম্পানিটি সেই পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে।

টেসলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ করা মোট গাড়ির প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি মডেল—মডেল ৩ ও মডেল ওয়াই।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় টেসলার গাড়ি সরবরাহ ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।

ভালো সরবরাহের তথ্য প্রকাশের পরও বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে টেসলার শেয়ারদর প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। কেন এমন হয়েছে, সে বিষয়ে কম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ বিক্রি, প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এর একটি কারণ হতে পারে।

বর্তমানে টেসলাকে চীনের বিওয়াইডি (BYD), নিও (Nio) ও শাওমি (Xiaomi)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই এবং ইউরোপের বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

বিক্রি বাড়াতে টেসলা ইতোমধ্যে মডেল ৩ ও মডেল ওয়াই-এর কম দামের সংস্করণ বাজারে এনেছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশে তাদের ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (সুপারভাইজড) প্রযুক্তিও চালু করেছে।

এদিকে কম্পানিটি ভবিষ্যতের জন্য নতুন কয়েকটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন সাইবারক্যাব, বৈদ্যুতিক সেমি ট্রাক এবং অপটিমাস নামে মানবসদৃশ রোবটের উৎপাদন।

উল্লেখ্য, টেসলা আগামী ২২ জুলাই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তখন কম্পানির আয়, মুনাফা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২০২৭ সালের মধ্যে ফোল্ডেবলসহ ৫টি নতুন আইফোন আনতে চায় অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
২০২৭ সালের মধ্যে ফোল্ডেবলসহ ৫টি নতুন আইফোন আনতে চায় অ্যাপল
ছবি : রয়টার্স

আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে অন্তত পাঁচটি নতুন আইফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল। একই সঙ্গে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন আইফোনের উৎপাদনও বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নতুন মডেলের আইফোন বাজারে আনবে অ্যাপল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোল্ডেবল আইফোনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ কোটি ইউনিট করেছে কম্পানিটি। আগে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট ধরা হয়েছিল।

প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আসা নতুন মডেলগুলোর জন্য প্রায় ৮ কোটি ফোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে অ্যাপল।

ধারণা করা হয়, ২০২৬ সালে অ্যাপলের মোট আইফোন উৎপাদন ২২ কোটির বেশি হবে। 

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস থেকে চীনে বিক্রি হওয়া আইফোনের জন্য মেমোরি চিপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে অ্যাপল বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।

নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আইফোন ১৮ এবং নতুন আইফোন এয়ার মডেলও বাজারে আনতে পারে অ্যাপল।

বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও নতুন পণ্যের মাধ্যমে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

এআই ডিভাইসের জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন

অনলাইন ডেস্ক
এআই ডিভাইসের জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন
সংগৃহীত ছবি

প্রযুক্তিপণ্য আরো উন্নত করতে নিজস্ব এআই চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন। কম্পানিটি তাদের ইকো, ফায়ার টিভি এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন ডিভাইসে এসব চিপ ব্যবহার করবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যামাজনের ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান প্যানোস পানাই এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অ্যামাজন ইতিমধ্যে নিজেদের কিছু ডিভাইসের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (এন্ড-টু-এন্ড) নিজস্ব সিলিকন বা চিপ তৈরি করছে। ইকো শো ৮, ইকো শো ১১ এবং ফায়ার টিভি-তে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্যানোস পানাই জানান, নিজস্ব চিপ ব্যবহারের ফলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় আরো ভালো হবে। পাশাপাশি ডিভাইসেই দ্রুত ও নিরাপদভাবে এআই সুবিধা চালানো সম্ভব হবে।

গত বছরের অক্টোবরে অ্যামাজন এ জেড ৩ (AZ3) ও  এ জেড ৩  প্রো (AZ3 Pro) নামে দুটি চিপ উন্মোচন করে। এসব চিপ ক্লাউডের বদলে সরাসরি ডিভাইসেই এআই মডেল চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে এআই আরো দ্রুত কাজ করবে এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তাও বাড়বে।

পানাই আরো বলেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে অ্যাপ ও স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে আসতে পারে। তখন কথোপকথন ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারবে এআই।

অ্যামাজন এমন নতুন এআই ডিভাইস নিয়েও কাজ করছে, যেগুলো ব্যবহারকারীরা সব সময় সঙ্গে রাখতে পারবেন। এসব ডিভাইস ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।

নতুন এসব পণ্য খুব শিগগিরই বাজারে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যামাজনের ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান প্যানোস পানাই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে অ্যামাজনের অ্যালেক্সা+ সেবা চ্যাটজিপিটি ও গুগল জেমিনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। তাই ব্যবহারকারীদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিতে নতুন এআই প্রযুক্তি ও ডিভাইস তৈরি করছে অ্যামাজন।

চার‌ দিনব্যাপী সাধারণ জ্ঞান-‌ভি‌ত্তিক অনলাইন কর্মশালা | কালের কণ্ঠ