• ই-পেপার

কেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ থাকছেন না জানালেন শিমুল

যুক্তরাষ্ট্রে স্টেডিয়াম কিনে শাহরুখ খানের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে স্টেডিয়াম কিনে শাহরুখ খানের ইতিহাস

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সাফল্যের তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনায় নির্মিত ‘নাইট রাইডার্স ক্রিকেট গ্রাউন্ড’-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নিজেদের উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ ও পরিচালনার পথে হাঁটল তারা।

নতুন এই ভেন্যুতে বুধবার রাতে প্রথমবারের মতো মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স মুখোমুখি হয়েছিল ওয়াশিংটন ফ্রিডমের। নিজেদের নতুন মাঠে অভিষেকটা সুখকর হয়নি শাহরুখ খানের দলের। আট উইকেটের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে পরাজয়ের আড়ালেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নতুন স্টেডিয়ামটি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামটি আইসিসির সব ধরনের নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। মাঠের কেন্দ্রীয় স্কয়ারে রয়েছে আটটি পিচ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত পরিমাপের খেলার মাঠ এবং ১২০ ফুট উচ্চতার ছয়টি ফ্লাডলাইট টাওয়ার। নির্মাণকাজে প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে। আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে এটিকে উত্তর আমেরিকার ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই মাঠটির গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে আরেকটি কারণে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরে আসছে বহু বছর পর, আর সেই প্রতিযোগিতার ক্রিকেট ম্যাচগুলোর অন্যতম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই স্টেডিয়াম। ফলে শুধু মেজর লিগ ক্রিকেট নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এটি।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জন্য স্থায়ী আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের সংখ্যা খুবই সীমিত। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউইয়র্কে যে মাঠে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি ছিল অস্থায়ীভাবে তৈরি করা ভেন্যু। কিন্তু পোমোনার এই স্টেডিয়ামটি বছরজুড়ে ক্রিকেট আয়োজনের জন্য স্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন নাইট রাইডার্স গ্রুপের সহ-মালিক শাহরুখ খান।

তিনি লিখেছেন, ‘যা একদিন শুধু একটি স্বপ্ন ছিল, আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফেয়ারপ্লেক্স এবং নাইট রাইডার্সের অংশীদারত্ব শুধু একটি ক্রিকেট মাঠ তৈরির জন্য নয়, বরং এমন একটি জায়গা গড়ে তোলার জন্য, যেখানে খেলাধুলার পাশাপাশি বিনোদন, পরিবার এবং মানুষের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো জায়গা করে নেবে। আমরা চাই এটি আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করুক।’

নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেঙ্কি মহীশূরও এই প্রকল্পকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি স্টেডিয়াম নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে নাইট রাইডার্সের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এমন একটি ভেন্যু গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য ছিল, যেখানে খেলোয়াড়রা খেলতে আগ্রহী হবে, দর্শকেরা উপভোগ করবেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায় এটিকে নিজেদের ক্রিকেটের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করবে।

স্টেডিয়ামটির প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)ও। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ভেন্যুর ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, মেজর লিগ ক্রিকেটে অবশেষে নাইট রাইডার্সের নতুন স্টেডিয়াম যাত্রা শুরু করল, যা দেখতে দৃষ্টিনন্দন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উদ্বোধনী আয়োজনকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে আনুষ্ঠানিক প্রথম বল করেন সাবেক এনবিএ চ্যাম্পিয়ন মেটা ওয়ার্ল্ড পিস, যিনি একসময় রন আর্টেস্ট নামে পরিচিত ছিলেন। সাবেক লস অ্যাঞ্জেলেস ল্যাকার্স তারকার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে ক্রিকেটের বাড়তে থাকা সংযোগেরই প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনে মেজর লিগ ক্রিকেটের একাধিক ম্যাচ এই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের বিশ্বাস, বিশ্বমানের এই ভেন্যুকে কেন্দ্র করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটির প্রসারে নতুন গতি যোগ হবে।

বর্তমানে শাহরুখ খানের নাইট রাইডার্স গ্রুপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। তাদের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স, যারা তিনবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা জিতেছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সও সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি। এবার সেই সফলতার পরিধি মাঠের বাইরেও বিস্তৃত হলো আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের মাধ্যমে। অনেকের মতে, এটি শুধু নাইট রাইডার্স গ্রুপের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন শাকিব, ফিরছেন ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে

বিনোদন ডেস্ক
নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন শাকিব, ফিরছেন ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে
ছবি : কালের কণ্ঠ

অনেক দিন ধরেই আলোচনা শোনা যাচ্ছিল রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের সঙ্গে আবারও ফিরছেন শাকিব খান। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। গেল বছরে মুক্তি পাওয়া ‘বরবাদ’ টিমের সঙ্গে ফিরছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টিমের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন ছবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাকিব খান। 

তিনি লেখেন, ‘বরবাদ টিম আবার ফিরছে। চলো, আরেকটা ইতিহাস তৈরি করি।’ 

এদিকে ছবিটির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের সঙ্গে নতুন সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন শাকিব খান। 

কালের কণ্ঠকে এই নির্মাতা বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই শাকিব ভাই আমাদের সঙ্গে নতুন ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ছবির নাম কিংবা বাকি অন্যান্য কাস্টিং এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা আগের কোনো ছবির সিক্যুয়াল নয়। একদমই নতুন একটা গল্প। থ্রিলার অ্যাকশন জনরার সিনেমা, এখানে কোনো পলিটিক্যাল কিছু থাকবে না। শুধু এতটুকু বলব, দর্শক একদম নতুন কিছু পাবেন।’ 

জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে সিনেমার শুটিং শুরু হবে। দেশে ও দেশের বাইরে একটানা শুটিং হবে। এরপর ২০২৭ সালের যে কোনো এক ঈদে মুক্তি পাবে। 

এর আগে ২০২৫ সালে শাকিব খানের সঙ্গে ‘বরবাদ’ সিনেমা নির্মাণ করে রীতিমতো বাজিমাত করেন মেহেদী হাসান হৃদয়। দারুণ ব্যবসাসফল এ সিনেমাটির পর গত ঈদুল আজহায় সিয়াম আহমেদের সঙ্গে তিনি নির্মাণ করেন ‘রাক্ষস’। এবার তিনি আবারও শাকিব খানের সঙ্গে ফিরছেন।

অনুমোদনের অপেক্ষায় বহু সিনেমা, কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই

ইমরুল নূর
অনুমোদনের অপেক্ষায় বহু সিনেমা, কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই
সংগৃহীত ছবি

অনেকদিন ধরেই চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির কার্যত কোনো কার্যক্রম না থাকায় বিদেশি সিনেমা আমদানি ও রপ্তানির আবেদনগুলো ঝুলে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন প্রযোজনা ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন সিনেমার অভাবে বিপাকে পড়েছেন সিনেমাহল মালিকরাও।

বছরদুয়েক আগে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের পর আমদানি-রপ্তানি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর সাফটা চুক্তির আওতায় পাঁচ শর্তসাপেক্ষে বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমোদন দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। 

তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত নির্বাচনের পর থেকে কমিটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। কয়েক মাস ধরে কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ অবস্থায় একাধিক প্রযোজনা ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশি সিনেমা আমদানি ও রপ্তানির আবেদন করলেও সেগুলোর অনুমোদন মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউ কেউ বলছেন, কমিটি ভেঙে গেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, কমিটি থাকলেও সেটি সক্রিয় নয়।

এরই মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন-উইন এন্টারপ্রাইজ প্রায় দুই মাস আগে পাঁচটি থাই সিনেমা আমদানির আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এবং সাবেক হল মালিক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই দেশি সিনেমা নেই। সিনেমা চালাতে পারছি না। আমাদের তো সিনেমাহল চালাতে হবে। বিদেশি ছবি আমদানির জন্য আবেদন করে রাখলেও মুক্তির জন্য এখনো পর্যন্ত অনুমোদন পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক দিন ধরে কমিটির কোনো সভাও পাইনি। এখন সিনেমাহল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদেশি ছবিগুলোর অনুমোদন পেলে এখন সেগুলো চালাতে পারতাম। থাই ছবি এনে সেগুলো পয়সা খরচ করে ডাবিং করে রেখেছি কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় এখন আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। দুই মাস আগে আবেদন করেছি কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি। মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। তাহলে আমরা হল মালিকরা তাদের হলগুলো রানিং রাখতে পারি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রযোজক জানান, দেশীয় সিনেমার স্বল্পতার সময়ে বিদেশি ছবি প্রদর্শন সিনেমাহল সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তিনি নিজেও কয়েকটি চলচ্চিত্র আমদানির আবেদন করে রাখলেও তা নিয়ে কোনো সাড়া পাননি। 

তবে চলচ্চিত্র আমদানি ও রপ্তানি কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হন তিনি।

শাহীন সুমন বলেন, ‘কমিটি তো ভাঙেনি, এখনো বহাল আছে। এখন চলচ্চিত্র আমদানি রপ্তানির অনুমোদনের বিষয়টি তো মন্ত্রণালয় দেখে। কেন ছবিগুলো অনুমোদন পাচ্ছে না সেটি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।’

তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অনিশ্চয়তার কারণে দীর্ঘদিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় অনুমোদন-সংক্রান্ত জটিলতাও শিগগির কাটতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি কমিটির বর্তমান অবস্থা এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলোর বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, কমিটি এখনও বহাল রয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র-২) শারমীন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত এই কমিটিই বহাল রয়েছে। যেসব আবেদন জমা পড়েছে সেসব নিষ্পত্তির জন্য ইতিমধ্যেই আগামী সপ্তাহে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সভা ডাকা হয়েছে।’ এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে চাননি। 

জানা গেছে, জমা পড়া আবেদনের প্রেক্ষিতে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ৭ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুপুর আড়াইটায় এক সভা ডাকা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসব আবেদন নিষ্পত্তি হলে বিদেশি সিনেমা আমদানির পথ আবারও সচল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন সিনেমাহলগুলো যেমন উজ্জীবিত হবে, অন্যদিকে দর্শকদেরও প্রেক্ষাগৃহমুখী করার সুযোগ তৈরি হবে।

পুষ্পা স্টাইলে মাদক পাচারের চেষ্টা, বড় চালান আটকে দিল পুলিশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পুষ্পা স্টাইলে মাদক পাচারের চেষ্টা, বড় চালান আটকে দিল পুলিশ

ভারতের ব্লকবাস্টার ‘পুষ্পা’ সিনেমায় মূল্যবান লাল চন্দন পাচার করে কোটি কোটি রুপি কামিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আল্লু আর্জুন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি অভিনব সব কৌশল বেছে নিতেন। পুষ্পা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তেমন এক অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের চেষ্টা করেছিল তেলেঙ্গানার একটি চক্র। সিনেমায় সফল হলেও বাস্তবে পাচারকারীরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেছে।

পুষ্পায় লাল চন্দন পাচারের জন্য আল্লু আর্জুন নানা কায়দা অবলম্বন করতেন। তার মধ্যে একটি ছিল দুধের ট্যাঙ্কারের নিচে গোপন কুঠুরি বানিয়ে তাতে লাল চন্দন পাচার করা। তেমনিভাবে পাচারকারীরা একটি কন্টেইনারে গোপন কুঠুরি বানিয়ে গাঁজা পাচার করছিল। কিন্তু পুষ্পা সিনেমা তো শুধু পাচারকারীরা দেখেনি, পুলিশও নিশ্চয়ই দেখেছে। তাই গোপন কুঠুরি আর গোপন থাকেনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলেঙ্গানার ঈগল ফোর্স এবং ভদ্রাদ্রি কোঠাগুদেম পুলিশ যৌথভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি কনটেইনার ট্রাক এবং সেটির পাহারায় থাকা একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করে।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ দলটি আইটিসি পেপারস বোর্ড ওয়েস্ট গেটের কাছে যানবাহন দুটিকে আটকে দেয়। গোপন কুঠুরি থেকে পুলিশ ২ কোটি ৬২ লাখ রুপি মূল্যের ৫২৫ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই গাঁজা ওড়িশার আল্লুরিকোটা বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তেলেঙ্গানায় প্রবেশের আগে তা অন্ধ্রপ্রদেশের তুলাসিপাকা হয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চালানটি খাম্মাম, ওয়ারাঙ্গল, আদিলাবাদ এবং মহারাষ্ট্র হয়ে উত্তর প্রদেশে যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ওড়িশার একজন মাদক সরবরাহকারী, অন্ধ্রপ্রদেশের একজন এসকর্ট আরোহী এবং উত্তর প্রদেশের এক ট্রাক চালক। এই চক্রের আরো কয়েকজন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছেন কন্টেইনার ট্রাকের মালিক এবং মাদকের সম্ভাব্য গ্রাহকরাও।