রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে গত ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হামজা ফাহিমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তবে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আদালত সেদিন রবিবারের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত চলাকালে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে আর এস ফাহিম চৌধুরীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তে আর এস ফাহিম চৌধুরীকে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন আসামি রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্কের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-সংলগ্ন এলাকায় একটি ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আভাস পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় রমনা থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে আর এস ফাহিমকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আটক করে বলে জানা যায়। পরে তাকে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে গুলশান থানায় নেওয়ার পর ৩০ মার্চ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।






