• ই-পেপার

মা হলেন অমৃতা রাও

অস্বস্তিকর দৃশ্য নিয়ে আপত্তি, বিতর্কের মুখে ‘পেডি’

বিনোদন ডেস্ক
অস্বস্তিকর দৃশ্য নিয়ে আপত্তি, বিতর্কের মুখে ‘পেডি’
সংগৃহীত ছবি

মুক্তির পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত সিনেমা ‘পেডি’। ছবির কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে দর্শকের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তি তুলেছেন। 

তাদের অভিযোগ, জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরে কিছু দৃশ্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অস্বস্তিকর এবং ছবির মূল গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এটি রাম চরণ ও জাহ্নবীর প্রথম বড় পর্দার জুটি। শুটিং শুরুর পর থেকেই নানা কারণে খবরের শিরোনামে ছিল সিনেমাটি। শুটিং চলাকালে চোখে আঘাত পেয়েছিলেন রাম চরণ। পরে প্রচারণার সময়ও এক ভক্তের আচরণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এবার ছবির কিছু দৃশ্যকে ঘিরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে কয়েকটি দৃশ্যে অতিরিক্ত যৌনভঙ্গিমার উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় এবং পুরো কাহিনির গতি নষ্ট করেছে। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছবির পরিচালক।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে অস্বস্তিতে ফেলা বা কাউকে অসম্মান করার ইচ্ছা কখনও আমার ছিল না। সিনেমার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শককে বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রাণিত করা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা।’

পরিচালক আরো জানান, নারীদের অবমাননা বা কেবল বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তিনি সবসময় নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল বলেও উল্লেখ করেন। 

একই সঙ্গে চলমান বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ছবির কিছু দৃশ্যে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। ফলে বিতর্ক ঘিরে তাঁর অবস্থান জানতে ভক্তদের আগ্রহ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ?

বিনোদন প্রতিবেদক
কেন শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ?
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সম্ভাবনায় ইতি টানলেন জনপ্রিয় অভিনেতা বাপ্পারাজ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

বাপ্পারাজের এই সিদ্ধান্তে শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্যানেলের সমীকরণেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে গণমাধ্যমকে বাপ্পারাজ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কিছু কারণ রয়েছে। এর মাঝে ব্যবসায়িক কারণ একটি। নির্বাচন করে যদি সময় না দিতে পারি, তাহলে বিষয়টা ভালো দেখায় না। তাই নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।’

এদিকে শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে এফডিসিপাড়ায় বাড়তে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থী, জোট ও প্যানেল গঠন নিয়ে শিল্পী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।

বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর সভাপতি পদে শেষ পর্যন্ত কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সর্বশেষ কার্যনির্বাহী পরিষদ, যার নেতৃত্বে ছিলেন মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল, তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৪ এপ্রিল। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

‘প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব’, লিখলেন দীপ্তি চৌধুরী

বিনোদন প্রতিবেদক
‘প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব’, লিখলেন দীপ্তি চৌধুরী
সংগৃহীত ছবি

জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে উদ্দেশ করে আবেগভরা একটি বার্তা শেয়ার করেছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। 

বিয়ের একাধিক ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!’। মুহূর্তেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দীপ্তি চৌধুরীর ব্যবহৃত বাক্যটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপের অনুকরণে লেখা। মূল সংলাপে ছিল, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সেই বহুল পরিচিত সাহিত্যিক আবেগকে নিজের বাস্তব জীবনের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর পরিবর্তে ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন তিনি। 

May be an image of one or more people, henna and wedding

শুক্রবার ঢাকার বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক আয়োজনে দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন। ঘরোয়া পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজনে নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানান স্বজনরা।

দীপ্তি চৌধুরীর স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব পেশায় শিক্ষক ও গবেষক। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ আক্দ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বড় আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে। সবার কাছে দীপ্তির নতুন জীবনের জন্য দোয়া চাই।’

May be an image of one or more people, henna and wedding

আক্দের পর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে আনন্দঘন মুহূর্তে দেখা যায়। তবে ছবির চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর ক্যাপশন। স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা আবেগঘন বার্তাটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরেও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা জানিয়েছেন। বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপ্তি চৌধুরীকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা, আর ভক্ত-অনুরাগীরাও তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

মস্তিষ্কে দুইবার রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন এমিলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
মস্তিষ্কে দুইবার রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন এমিলিয়া
সংগৃহীত ছবি

জনপ্রিয় হলিউড সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ‘ডেনেরিস টারগারিয়েন’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক তার জীবনের এক দুঃসহ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিশের কোঠায় থাকার সময় তিনি দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেন হেমোরেজ) শিকার হয়েছিলেন, যা দীর্ঘদিন তিনি সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত ভ্যারাইটি-র ‘পাওয়ার অব উইমেন’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত হওয়ার পর এক বক্তৃতায় তিনি নিজের এই কঠিন লড়াইয়ের কথা শেয়ার করেন।

৩৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, ২০১১ সালে প্রথমবার এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। ২০১১ সালে যখন প্রথমবার এই রোগ ধরা পড়ে, তখন তিনি ভীষণ লজ্জিত ও হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন এবং চাননি কেউ এটি জানুক। এমিলিয়া বলেন, মস্তিষ্কের এই দুইটি আঘাত আমার কী ক্ষতি করেছিল, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ আমি কখনোই পাইনি। কারণ আমি হাঁটতে, কথা বলতে, সংলাপ মনে রাখতে পারতাম এবং অসুস্থতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্যামেরার সামনে ফিরে এসেছিলাম। তিনি তার চরম ক্লান্তি, হরমোনের সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের পর জ্ঞান হারানোর মতো গুরুতর উপসর্গগুলোকে কাজের মানসিক চাপ মনে করে অবহেলা করেছিলেন। এমনকি চিকিৎসকেরাও তখন এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ধরতে পারেননি, যার কারণে এমিলিয়া নিজেকেই দোষ দিতেন।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এমিলিয়া তার এই অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, আমার সত্যটা মেনে নিতে বহু বছর লেগেছে। প্রথম রক্তক্ষরণের পনেরো বছর পর, আমি এখন বুঝতে পারি যে সেই সময়টা আসলেই কতটা কঠিন ছিল। মস্তিষ্কের আঘাত মানুষের ব্যক্তিত্ব, স্মৃতিশক্তি ও আত্মবিশ্বাসকে কতটা নাড়িয়ে দিতে পারে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন। তবে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের স্নায়ুবিজ্ঞানী ডেভিড পুত্রিনোর চিকিৎসায় তিনি এখন তার বিশ বছর বয়সের মতো শক্তি ও ইতিবাচকতা ফিরে পেয়েছেন।

নিজের আরোগ্যের জটিলতার সাথে লড়াই করার পাশাপাশি, এমিলিয়া ক্লার্ক ‘সেমইউ’ নামে একটি মস্তিষ্ক পুনরুদ্ধার দাতব্য সংস্থা চালু করেছেন। ব্রেন ইনজুরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এটি কাজ করে। সমাজে এই রোগে আক্রান্ত অন্য ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতেই তার এই প্রয়াস।

সূত্র : সিএনএন

মা হলেন অমৃতা রাও | কালের কণ্ঠ