• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইনসহ একই পরিবারের ৪ সদস্য আটক

সাভারে ডিবির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ডিবির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০
সংগৃহীত ছবি

সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তক্ষক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি জীবিত তক্ষক ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম।

ডিবি জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে পাঁচজন তক্ষক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ একটি ধূসর রঙের জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মঞ্জুরুল হোসেন (৩৮), হযরত আলী রিপন (৩৯), রায়হান আহম্মেদ রনি (৩৮), আ. রহিম (৪২) ও সাগর শেখ। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, আশুলিয়ার গণকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—আসাদুজ্জামান আকাশ (২৬), মাসুদ রানা (৩৪) ও নাজমুল (৩৩)।

এ ছাড়া আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে দুইজন কথিত পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন হুমায়ুন তালুকদার ওরফে আকাশ (৩৮) এবং সুজন রানা (৩৫)।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে ডিবির বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহে যুবককে গলা কেটে হত্যা, আটক ২

অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহে যুবককে গলা কেটে হত্যা, আটক ২
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন রনি ও সজল।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টায় নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকার ভাড়া বাসার নিজ কক্ষ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

নিহত রাজিব আহম্মেদ রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তার মায়ের নাম মৃত খাদিজা বেগম।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় প্রায় এক মাস আগে নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন। সেখানে নিজের বন্ধুদের নিয়ে থাকতেন। এরপর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রুবেলকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এর আগে বাসার সামনের সড়কে থাকা রুবেলের চাচাতো ভাই মো. শুভর একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয় হামলাকারী একটি দল। কলোনির ভেতর পারুল আক্তারের ৫ কক্ষের একটি বাসার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন রাজিব আহম্মেদ।

পুলিশ জানিয়েছে, বিছানায় রুবেলের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথার কাছে রয়েছে একটি মদের বোতল পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, আমরা একটি গলাকাটা মরদেহ পেয়েছি। কিছু তথ্যও পেয়েছি, সেই অনুযায়ী আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।

কালাই এলজিইডির ওয়েবসাইটে উপজেলা আ.লীগ সভাপতির ছবি, স্থানীয়দের ক্ষোভ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
কালাই এলজিইডির ওয়েবসাইটে উপজেলা আ.লীগ সভাপতির ছবি, স্থানীয়দের ক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি দপ্তরের সকল কার্যক্রম ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের সুফল নাগরিকরা ভোগ করে আসছে। দেশ পরিচালনার স্বার্থে সবকিছুরই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ করার পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক ও পুরোনো তথ্য অপসারণেও নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সারাদেশের সরকারি দপ্তর এই সরকারের নিয়মনীতি মেনে চললেও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) সরকারি ওয়েবসাইটের চিত্র আলাদা এক আঙ্গিকে দেখা যাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ওই ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারিতে এখনো বহাল রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিভিন্ন কর্মসূচীর ছবি। অথচ এলজিইডি’র ওই ওয়েবসাইটটি গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিকেল ৫ টা ৪৮ মিনিট এবং সর্বশেষ আজ রবিবার ৫ জুলাই সকালেও আপডেট করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। 

কালাই উপজেলা এলজিইডির সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, কনটেন্ট ফটো গ্যালারিতে মাত্র দুটি ছবি রয়েছে। ছবি দুইটি মহান বিজয় দিবস ২০১৪ সালে প্রকাশিত। ছবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের দেখা যাচ্ছে। ফটো গ্যালারির ওই ছবিগুলো অপরিবর্তিত অবস্থায় আজ রবিবার বিকেল ২টা ৯ মিনিটেও বহাল দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন আগের ছবিগুলো পরিবর্তন করা হয়নি আজও ? এটি কি শুধুই দায়িত্বের অবহেলা, নাকি প্রশাসনিক তদারকির অভাব? সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি বহাল থাকায় প্রসাশনের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির এক কর্মচারী জানান, সরকারি ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও হালনাগাদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের। কনটেন্ট আপডেট হওয়ার পরও যদি এমন ছবি বছরের পর বছর বহাল থাকে, তাহলে তা রাখা ঠিক হয়নি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও সরানো উচিত ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কালাই মহিলা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের সকল দপ্তরের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করেছে সরকার। কিন্তু কালাই এলজিইডির ওয়েবসাইটে এখনো বিতর্কিত ছবিগুলো কেন দেখা যাচ্ছে। এর জবাব অবশ্যই দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, এটি শুধু একটি ছবি নয়, এটি সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ওয়েবসাইটে কী আছে, তা জানবেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদি এটি অবহেলা হয়, তাহলে সেটিও তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা। আর যদি অন্য কোনো কারণ হয়, তাহলে সেটিও তদন্ত করে জনগণকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি।

স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. লেবু মিয়া বলেন, ‘বিগত সরকারের পতনের পর কিভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে তাদের ছবি আজও দেখা যায় ? আমাদের এলাকার এমপি মহোদয় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এলাকায় বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইচ্ছে করলে ওই ছবিগুলো সেখানে সংযুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু প্রকৌশলী তা না করে নিজের ইচ্ছেমত যা খুশি তা মনে করে সরকারি ওয়েবসাইটে বিগত সরকারের লোকজনদের ছবিগুলো রেখেছেন। এটি প্রশাসনিক অবহেলার স্পষ্ট উদাহরণ ছাড়া কিছুই না।’ 

কালাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন মন্ডল বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ছবি দীর্ঘদিন বহাল থাকা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সরকারি দফতরের কাজই হবে যখন যে সরকার দেশ পরিচালনা করবে তখন সে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডই তুলে ধরা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এই এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এসবের কোনো ছবি আজও ওই ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়নি। এটা মেনে নেওয়ার মত না।’ এ বিষয়ে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার দা্ি জানান তিনি। 

কালাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আব্দুল আলিম জানান, এটা কেউ মেনে নিতে পারেনা। হয়তো তিনি হৃদয়ে অন্যধারার কিছু লালন করে আসছেন। এ কারনে বিগত সরকারের কর্মকান্ডের ছবিগুলো ওই দপ্তরের ওয়েবসাইটে আজও রেখেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আসলে দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ছিল না। গত সপ্তাহে পাসওয়ার্ড পেয়েছি। ভালমত পুরো ফাইল এখনও দেখতে পারিনি। আজ মাত্র একটি বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করেছি। সে কারনে আগের ছবি থাকতেই পারে। ওয়েবসাইটের ছবিগুলো অবশ্যই পরিবর্তন করা হবে ‘

নবাবগঞ্জে নসিমন-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আটক ১

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
নবাবগঞ্জে নসিমন-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আটক ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নসিমন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক কাজল কুমার রায় (৪৯) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমন চালক মানিক (৪৫)কে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার টিকরপুর এলাকায় এন মল্লিক পাম্পের সামনে ঢাকাবান্দুরা আন্ত জেলা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাজল কুমার রায় জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সুনীল কুমার রায়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের পর সিএনজি চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় জড়িত নসিমনটি জব্দ করে এবং চালক মানিককে আটক করে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।