• ই-পেপার

জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে অভয়নগরে মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ

সন্দ্বীপ

কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা, যুবকের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা, যুবকের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কুকুরকে পানিতে চুবিয়ে মারার অপরাধে আব্দুল হান্নান (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ করবে না মর্মে তার কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল হান্নান উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের হাজীর হাট এলাকার বাসিন্দা।

​স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় হাজীর হাট এলাকায় নিজের বাড়িতে কুকুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুল হান্নান নামের ওই ব্যক্তি একটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানিতে চুবিয়ে কুকুরটির মৃত্যু পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সর্বত্র তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

​ভিডিওটি নজরে আসার পর থেকেই সন্দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে। গতকাল থেকে বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানকে আটক করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তিকে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বন্যপ্রাণী ও পশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।

রাজবাড়ীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর পাংশায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. ইকবাল হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেন পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নাছনা মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ৩১ বছর বয়সী এক নারী বৃহস্পতিবার পাংশা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর প্রতি অশালীন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে আসছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লজ্জা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুক্তভোগী তখন বিষয়টি কাউকে জানাননি।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী বাড়িতে অবস্থানকালে অভিযুক্ত আবারও তার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর তিন বছর বয়সী ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহারিয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে নাছনা মুরাদপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদসংলগ্ন চর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে এসে মরদেহটি দুধকুমার নদের চরে আটকে গিয়েছিল।

তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা নদীর চরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। পরে বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় মরদেহটি চরের কাদায় আটকে ছিল।

তিনি আরো বলেন, এখনো মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, এটি কোনো ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ হতে পারে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মরদেহটি ভারত থেকে ভেসে এসেছে। পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটি দাফনের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আবু বক্কর ওরফে হৃদয় (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ জুন দুপুরে হৃদয়কে তার বন্ধু সালমান মিয়া (২৭), উজ্জ্বল মিয়া (২২) ও আরমান মিয়া (২১) মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হৃদয় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে তারা হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

হৃদয়ের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এলাকার মুরব্বি মানিক মিয়া, আমির হোসেন, রিপন মিয়া ও মো. রুমন মিয়া। তারা বলেন, বন্ধুদের ডাকে যাওয়ার পর হৃদয়ের মরদেহ ফিরে আসার ঘটনা রহস্যজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’