• ই-পেপার

বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ গেল কৃষকের

পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো কৃষকদল নেতা সাদ্দামের লাশ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো কৃষকদল নেতা সাদ্দামের লাশ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে কবর খুঁড়ে কৃষকদল নেতা সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩২) মারা যান। দাফনের ২ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে আদালতের নির্দেশনায় তার লাশটি উত্তোলন করা হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান, নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছলেহ উদ্দীন ও পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামসুল হক মিঠুসহ একদল পুলিশ সদস্য।

নিহত সাদ্দাম হোসেন ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন দর্জি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নারান্দী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মো. গোলাপ মিয়া ও মো. মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাদ্দাম হোসেন ব্যাবসায়িক কাজ শেষে ছোট আজলদী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বাড়ির উঠানে পৌঁছা মাত্র পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া, আজিজুল ও মানিকসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলে। এসময় আজিজুল হকিস্টিক দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যরা দা ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। উঠানে হইচই শুনে স্ত্রীসহ স্বজনরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

পরে সেখান থেকে ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ২৭ প্লাস হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন তাঁর পরিবার। সেখানে তাঁর মাথায় অপারেশন করা হয়। তখন চিকিৎসক বলেছিলেন, ৭২ ঘন্টা পার না হলে কিছুই বলা যাবে না। তবে ৭২ ঘন্টা পার হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে সেখান থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে ১ মাস আইসিইউতে রাখার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা চলাকালীন গত ২ মে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান সাদ্দাম । পরে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা বাদি হয়ে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু এ মামলায় কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থান থেকে সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাদ্দামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে ‘ 

সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যাবে রেল : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যাবে রেল : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সিলেট থেকে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই রেলওয়ে প্রকৌশলীরা সিলেট এসে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন।’

বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের পূর্ব জিন্দাবাজারে একটি ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত ওয়াগন (ট্রেনের পণ্যবাহী কোচ) চালু হলে জাফলং-সিলেট রুটে সহজে ও কম খরচে পণ্য আনা নেওয়া করা যাবে। এ ছাড়া পর্যটকসহ যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।’ 

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে এই সড়কের কাজ আটকে ছিল। সার্ভেয়ার সংকটের কারণে ভূমি অধিকরণ কাজে দেরি হচ্ছিল। সম্প্রতি আমি ভূমি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিলেটে ৬ জন সার্ভেয়ার নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। এখন আর সার্ভেয়ারের দোহাই দেওয়া যাবে না। আশা করছি, দ্রুতই ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জের যেকোনো জায়গায় একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এটি নির্মাণ করা গেলে পুরো সিলেটবাসী উপকৃত হবে।’

জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দিসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুতই এ কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক সংকট দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

দাওয়াত খেতে যাওয়া হলো না বাবা-ছেলের, ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
দাওয়াত খেতে যাওয়া হলো না বাবা-ছেলের, ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাত বছরের নাতি। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। আহতের নাম বন্ধন চন্দ্র রায় (৭)। সে নির্মল চন্দ্রের নাতি। বর্তমানে সে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়রা জানায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলযোগে তুলশীহাটে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবা নির্মল চন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বন্ধন চন্দ্র রায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছবুর জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান ওসি।

চট্টগ্রামে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৪০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৪০ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৩ হাজার ৮৬৩ জন। এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭২ হাজার ৫২৩ জন। এই হিসেবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর হার ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় ১১৪টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো বহিষ্কার নেই। অনুপস্থিত ছিল ১ দশমিক ৮১ শতাংশ ছাত্রছাত্রী।  

তিনি আরো জানান, ১৫টি সাধারণ ভিজিল্যান্স টিম এবং ৮টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়, এই বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মোট ২৮৩টি কলেজের এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১১ হাজার ২৫৫ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রীসহ মোট পরীক্ষার্থী ২৩ হাজার ৯০৩ জন; মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন (ছাত্র ১৬ হাজার ৩৪২ জন ও ২৭ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী); ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্র এবং ১৫ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রীসহ মোট ৩১ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী; গাহর্স্থ্য বিভাগে ৮ জন ছাত্রী। 

অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার পরীক্ষার্থী ৭০ হাজার ৯৭৪ জন; কক্সবাজার ১২ হাজার ২৫৫; রাঙামাটি জেলায় ৫ হাজার ৪৩৯; খাগড়াছড়িতে সাত হাজার ৩৫৩ জন; বান্দরবান জেলায় তিন হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।