• ই-পেপার

‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে চিরকুটে হুমকি!

মহানন্দা নদীতে নিখোঁজের ৩৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
মহানন্দা নদীতে নিখোঁজের ৩৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদীতে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু রিয়াজের মরদেহ ৩৪ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নৌ পুলিশ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগাঁ এলাকা (নতুন মহানন্দা সেতুর ইসলামপুর প্রান্তে) থেকে শিশু রিয়াজের প্রায় অর্ধগলিত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদরের পদ্মা নদীতে ডুবে ২ কিশোর এবং সদরের মহানন্দা নদীতে ডুবে প্রবাসী এক যুবক, ১ শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পদ্মার  মরদেহ দুটি ওই দিনই রাজশাহী থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার করে। মহানন্দায় ডুবে যাওয়া দুজনের মরদেহ পরদিন বুধবার ভেসে ওঠার পর ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নানার বাড়ি সদরের বেহুলা গ্রাম থেকে সকলের অগোচরে নিখোঁজ হয় রিয়াজ। তার নানার বাড়ির প্রায় দুই শ গজ দূরেই মহানন্দা নদী। বুধবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় শিশুর মরদেহ ভাসার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শনাক্ত করে। রিয়াজ জেলার নাচোল উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের আল আমিনের ছেলে। সে সদরের বেহুলা গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত।

দায়িত্বশীল রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই জীবন চন্দ্র  রায় বলেন, ‘বুধবার নতুন মহানন্দা সেতুর ইসলামপুর প্রান্তের প্রায় ২০০ গজ দূর থেকে  প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতেই শিশুর পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রামিকভাবে নদীতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় নদীতে মাছ ধরার সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি কচুরিপানার মধ্যে মরদেহ ভাসতে দেখে ৯৯৯-এ সংবাদ দিলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে নৌ পুলিশ ডাকা হয়।’

পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি দেওয়া হলো না ২ ছাত্রীর!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি দেওয়া হলো না ২ ছাত্রীর!
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের দুই ছাত্রী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজের এক পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই পরীক্ষা দিতে না পেরে ছাত্রীরা কলেজ গেটের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা হলেন মনিমুক্তা আক্তার ও ইসমাত আরা বেগম।

এ সময় ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মনি ও মুক্তা জানান, তারা দুজন নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নিয়মিত ছাত্রী। এইচএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় তারা দুজন দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন। এই কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি। পরবর্তীতে কলেজের পিয়ন মো. শাহজাহান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে শর্ত দেন যে, এই বিষয়টি কলেজের অন্য কাউকে জানানো যাবে না। ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র এনে দেওয়ার বাবদ পিয়ন শাহজাহান দুই ছাত্রীর কাছ থেকে মোট ২২ হাজার ৪০০ টাকা নেন। কিন্তু পরীক্ষার আগে অন্য সহপাঠীরা প্রবেশপত্র পেলেও মনিমুক্তা আক্তার ও ইসমাত আরার নামে কোনো প্রবেশপত্র আসেনি।

বিষয়টি জানতে পেরে দুই ছাত্রী পিয়ন শাহজাহানের পা ধরে আকুতি জানান। তখনও পিয়ন শাহজাহান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, তিনজন লোককে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন।

এসময় তিনি তাদের নিশ্চিত করে বলেন, ‘তোরা নিশ্চিত থাকতে পারিস, প্রবেশপত্র পেয়ে যাবি।’ এই আশ্বাসে দুই ছাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ গেটে এসে প্রবেশপত্র পাওয়ার জন্য শাহজাহানের মোবাইল নম্বরে কল করেন। কিন্তু বারবার কল দিলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে দুই ছাত্রী কলেজ গেটেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে, ঘটনার পর পিয়ন শাহজাহানকে কলেজে গিয়ে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেনি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইনামুল হক বলেন, ‘শাহজাহান আমাদের কলেজের পিয়ন। কিন্তু সে তো পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার মতো কেউ নন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে উক্ত পিয়নের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে ওই পিযনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সিলেটে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সময় তর্কাতর্কির জেরে চাচাতো ভাইকে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সময় তর্কাতর্কির জেরে চাচাতো ভাইকে খুন
প্রতীকী ছবি

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি থেকে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলম উপজেলার লামারগ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের চাচাতো ভাই অভিযুক্ত পারভেজ আহমদকে (৩২) আটক করেছে।

জকিগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার শেষ সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে পারভেজ ও আলমের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ ঘর থেকে ছুরি এনে আলমকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলমকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘাতক পারভেজ আহমদকে আটক করে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’ এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক যুবককে আটক করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি লাশ  ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

বাগেরহাটে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চার হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ ২৬ মামলার আসামি মাদক কারবারি মনির শেখসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার এ তথ্য জানান।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত সাত দিনে মোট ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফকিরহাট মডেল থানার বারাশিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় মনির শেখের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় মনির শেখ (৪৭), মো. সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ (৩০), মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা ওরফে হাফিজুল (৩৭) এবং তৌহিদুল ইসলাম শেখ তামিমকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফকিরহাট মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার মনির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে এবং আরো একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।’