মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের হোসনাবাদ-বিলাসছড়া সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উন্নতমানের উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে তারা এই দায়সারা কাজ বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের ভিটি বালু, পাথর ও প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজ’ পুরোনো ইটের খোয়া (রাবিশ) ও বালু ব্যবহার করছে।
ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পদ্ধতি যেমন রোলার বা ভাইব্রেটর দিয়ে সঠিকভাবে কমপ্যাকশন না করা এবং রাস্তার পাশে গাইডওয়ালের ওপর ইট-পিলার ও বালু-সিমেন্টের বস্তা ব্যবহারের ফলে কাজ শুরুর আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ পাচ্ছে।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নাম- কালিঘাট-মনু-দলই সার্কুলার রোড সংস্কার। মোট বরাদ্দ ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা। মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সানি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান দাবি করেন, দরপত্র অনুযায়ী সরকার তাদের কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকায় ‘সেলবেজ’ (পুরোনো ইট) কিনে নিয়েছে, যা তারা কাজে ব্যবহার করছেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় পন্ডিত স্বীকার করেছেন যে, কাজে কিছুটা ‘উনিশ-বিশ’ হয়েছে এবং শতভাগ মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
তবে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করবেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা অপসারণের ব্যবস্থা নেবেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে বর্তমানে ওই সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। চা শ্রমিকসহ ৭টি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র এই প্রধান সড়কটির টেকসই উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়রা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক মানের নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




