• ই-পেপার

চট্টগ্রামে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

হবিগঞ্জে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর দায়ের কোপে স্ত্রী মারা গেছেন। রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ভাটি শেরপুর ভূমিহীন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

মৃত গৃহবধূর নাম রিপন আক্তার (৩২)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা আশিক মিয়ার স্ত্রী। 

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আশিক মিয়া দা দিয়ে তার স্ত্রী রিপন আক্তারকে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত আশিক মিয়াকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আশিক মিয়াকে আটক করা হয়েছে। 

ওসি আরো বলেন, এ বিষয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বড় ভাইয়ের কোপে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বড় ভাইয়ের কোপে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের
প্রতীকী ছবি

বরিশালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বড় ভাই। রবিবার (২১ জুন) দুপুরে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. নজরুল সরদার (৪৫) আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদারের ছেলে। অভিযুক্ত বড় ভাই হারুন সরদার বর্তমানে পলাতক।

পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চন সরদারের বড় ছেলে হারুন সরদার ও চতুর্থ ছেলে মজিবুর সরদারের মধ্যে জমিজমার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তৃতীয় ভাই সৌদিপ্রবাসী মো. নজরুল সরদার তার চতুর্থ ভাই মজিবুর সরদারের পক্ষে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হন বড় ভাই হারুন সরদার। জোহরের নামাজ পড়া অবস্থায় মো. নজরুল সরদারকে এলোপাতাড়ি পেটে ও শরীরে কুপিয়ে জখম করেন হারুন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাজিরহাট থানা পুলিশের ওসি মো: সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

ডিমের উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলার পোল্ট্রি খামারিরা। তাদের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

রবিবার (২১ জুন) জেলার খামার মালিকরা জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে শনিবার সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় অনুষ্ঠিত খামারিদের এক বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিদের কাছ থেকে ডিম কেনা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৭০ পয়সা দরে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও উঠে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ লোকসান বহন করতে না পেরে তারা ডিম বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খামারিদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খামারি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ডিম উৎপাদন করছেন খামারিরা, অথচ মূল্য নির্ধারণ করছেন কিছু ব্যবসায়ী। তারা কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকসহ খামার পরিচালনার সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের দাম বাড়েনি। ফলে অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ করে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে খামারিদের ডিম বিক্রি বন্ধের কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শহরের এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, ‘খামার থেকে আগের মতো ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

ক্রেতাদের ভাষ্য, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য। বাজারে সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে। তাই দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ডিমের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাপারী ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। বর্তমানে বাজারে ডিমের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দামও কম রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝুলছে ৫ যুবকের ভাগ্য

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝুলছে ৫ যুবকের ভাগ্য
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার পাঁচ বাংলাদেশি যুবক টানা আট দিন ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ চললেও এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা, খাদ্য সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) এলাকার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় নয় বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।

সূত্র জানায়, ওই ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী কন্যা ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু ফাহিমাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। মানবিক বিবেচনায় পরে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন পাঁচ বাংলাদেশি যুবক। গয়টাপাড়া সীমান্তে রয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সজিব হোসেন (২৫) ও হিমেল মিয়া (১৮)। অন্যদিকে শৌলমারী ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থান করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুন জহিরুল, পারভেজ ও নাঈম সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে এক দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণের সময় তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিনজিরা নদীর ব্রিজের নিচ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬/৭-এস সংলগ্ন নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদুল হক ও আলম মিয়া জানান, টানা আট দিন ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঁচ যুবক খোলা মাঠে অবস্থান করছেন। স্থানীয়রা মানবিক কারণে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। রাতের বেলায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সীমান্তের খোলা মাঠেই তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ যুবক এখনো সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’