পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দরপত্র অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করার অভিযোগে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। কাজ বন্ধ করার আধাঘন্টা ব্যবধানে প্রভাব খাটিয়ে ওই কাজ চালু করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের গালমন্দ ও হুমকি দেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের সড়কের নির্মাণ কাজে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালাইয়া বন্দরের ল্যাংড়া মুন্সীর পুল থেকে পূর্ব দিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের সড়কের ৯৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করেন পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কের সিসি ঢালাই কাজ শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা। সড়কের সিসি ঢালাই কাজে নিম্নমানের লবণাক্ত সিলেকশন বালু, ঢালাই ৩ ইঞ্চির কম ও সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুটের কম সহ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী কাজের মান তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন এবং জনসম্মুখে নির্মাণ কাজের দরপত্র মেনে কাজ করার অনুরোধ করেন। দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ বন্ধের আধা ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করতে শ্রমিকদের নির্দেশ দেন ফাহাদ। পরে শ্রমিকরা সেই নির্মাণ মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়েই কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে , ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ১৮ ফুট প্রস্থের আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণ কাজটির দায়িত্ব পান মেসার্স কহিনুর এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
উত্তম নামে একজন সাব ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। অনিয়মের কারণে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিলে বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদকে জানানো হয়। ফাহাদ আধাঘন্টা ব্যবধানে ঘটনাস্থলে এসে ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে পুনরায় কাজ চালু করার নির্দেশ দেন। পরে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজে সিলেকশন বালু বা সিলেট চান বালুর পরিবর্তে ময়লাযুক্ত চট্টগ্রামের লবণাক্ত বালু ব্যবহার করে। ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের সিসি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলে দেড় ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখার জন্য বললে, তিনি না দেখার ভান করেন। পরে এলাকাবাসি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এসে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন, শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন।'
স্থানীয় মো. মনজু বলেন, ‘দরপত্র অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করছেন। নির্মাণ কাজের শিডিউল দেখতে চাইলেও তিনি দেননি। কাজে দুর্নীতি অনিয়ম করার জন্যই শিডিউল হাইড রেখে মনগড়া ভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজে বাধা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রভাব ঘাটিয়ে ঠিকাদার অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
এদিকে, নির্মাণ কাজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এম এ হান্নান ও এইচএম বাবলুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের অশ্লীন ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেন।
এ বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ কিংবা চালু করা কোনো ঘটনার সঙ্গেই আমি জড়িত না। সাংবাদিকদের গালাগাল কিংবা হুমকীর অভিযোগও সত্য না।’
নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহাকরী প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণ কাজের শিডিউল আমার কার্যালয়ে রয়েছে।’ আর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
আর ঠিকাদারের পক্ষে নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উত্তম বলেন, ‘তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে কাজ করান। মালামল সরবরাহ করেন ঠিকাদার।’
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কহিনুর এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সাথে সরাসরি কথা বলবো।’
পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল বলেন, ‘সড়কের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ হবে। তা কাউকে দেখাতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। লুকোচুরি করে কাজ করার সুযোগ নাই। এ বিষয়টি আমি দেখবো। ’




