কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি ঘিরে এক তরুণীকে মারধর, আটকে রাখা এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী (২৭) রবিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আল আমিনের (২৬) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আল আমিন তাকে বিয়ের আশ্বাসে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলার পর সম্প্রতি বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আল আমিন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে গত ৬ জুন সন্ধ্যায় আল আমিনের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন আল আমিন। বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে আমাকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় আল আমিনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করেন।
ওই নারী দাবি করেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, আল আমিন আমার সব শেষ করে দিয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার গভীর সম্পর্কে জড়িয়েছে। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। আমি একবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। তখন আল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে আমাকে বলা হয়। কিন্তু এরপরও তারা নানাভাবে আমার সঙ্গে তালবাহানা করছে। আল আমিনকে না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো পথ থাকবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আল আমিন বলেন, মেয়েটির সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর কথাবার্তা ও দেখা সাক্ষাৎ হতো। আমি তাকে বিয়ে করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেই নাই। কোনো শারীরিক সম্পর্ক আমাদের হয় নাই। তাকে মারধর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, অভিযোগের পর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




