• ই-পেপার

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ নিহত

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ নিহত
সংগৃহীত ছবি

 

নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. জাফর (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল আনুমানিক ৫টার সময় লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃদ্ধ জাফর  উপজেলার দক্ষিণ লালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোভ্যান চালক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুরগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের পেছনে একই দিকে আসা গরুবোঝাই ইঞ্জিনচালিত লম্বা বডির ভুটভুটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোভ্যান চালক মো. জাফর সড়কে ছিটকে পড়ে মাথা, কান ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে নেওয়ার পথে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ভুটভুটি চালক উপজেলার ভাটপাড়া চামটিয়া এলাকার মো. এস্কেন মন্ডল ছেলে মো. আনিসুর রহমান গরুভর্তি ভুটভুটিসহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিরোজপুরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণিল শোভাযাত্রা

পিরোজপুর প্রনিতিধি
পিরোজপুরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণিল শোভাযাত্রা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরে ফুটবলপ্রেমীদের অংশগ্রহণে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের সমর্থকদের পৃথক আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুই দলের সমর্থকেরা নিজ নিজ ব্যানার, পতাকা ও জার্সি নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে র‌্যালিতে অংশ নেন।

প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ফুটবলপ্রেমী শহরে জড়ো হন। কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। রঙিন পতাকা, ফেস্টুন ও খেলোয়াড়দের জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা বহন করে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রাজুড়ে স্লোগান, গান এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার নানা প্রকাশ দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষও এ আয়োজন উপভোগ করেন।

00

অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকেরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করেন। সাউন্ড সিস্টেমে বাজতে থাকা সংগীতের তালে তালে নাচ-গান এবং উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সবুজ-হলুদ পতাকা ও জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতি শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মতে, বিশ্ব ফুটবলকে ঘিরে পিরোজপুরে প্রতি আসরেই এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির এই সংস্কৃতি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের সাফল্যের প্রত্যাশায় দিনভর চলা এই আয়োজন পিরোজপুরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবির ৩ ব্যাটালিয়ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবির ৩ ব্যাটালিয়ন
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি উপজেলার স্থল ও নদী এবং কাঁটাতারের বেড়া ও বেড়াবিহীন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মোতায়েন বিজিবির ৩টি পৃথক ব্যাটালিয়ন রাত-দিন এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয়  সীমান্তবাসী জনগণও এ ব্যাপারে বিজিবিকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। বাড়ানো হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিজিবির জনবল।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে পুশ ইনের ব্যাপারে কোনো ঢিলেমি করা হবে না। সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৫৩ বিজিবি) লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আওতাধীন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি সতর্ক নজর রাখছে। পুশ ইনের ব্যাপারে শৈথিল্যর সামান্য কোনো সুযোগ নেই। বিএসএফ পুশ ইনের কোনো চেষ্টা করলেই কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একাংশ নিয়ে পাহারা দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি। কাজ করছে ১৭টি বিওপি ও ২টি চেক পয়েন্টে। সীমান্তে কখনো কোনো পয়েন্ট দিয়ে গোপনে পুশ ইন করানোর কোনো সুযোগ রাখছে না বিজিবি। গত প্রায় ২ বছরে এই সীমান্তে একবার পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯) অধিনায়ক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি এই সীমান্তে পুশ ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জেলার ভোলাহাট ও শিবগঞ্জের একাংশ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এই বিজিবি। ১৭টি বিওপি ও ২টি চেকপোস্ট  থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২ বছরে  ৫৯ বিজিবির আওতাধীন ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা সীমান্ত পাহারা দেওয়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘এখন এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইনের জন্য কারো অবস্থান বা সমাবেশ দেখা যাচ্ছে না। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর প্রতিরোধে ২ দিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাঁদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সীমান্তে টানা ৩ দিন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গোমস্তাপুর সীমান্তে ৬টি বিওপি কাজ করছে। এই সীমান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ নিকটে হওয়ায় বারবার এ সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করে বিএসএফ।

বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মারা গেছেন

একাত্তরে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন (মনি) মারা গেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বলেন, আলী হোসেন শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একজন সাক্ষী ছিলেন। তার মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সকালে মৃত্যুর পর আলী হোসেনের মরদেহ নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজার পর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, আলী হোসেন ষাটের দশকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই ভারতে গিয়ে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

স্বাধীনতার পর আলী হোসেন জাসদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং জেলা জাসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলীয় বিভক্তির পর জাসদের (ইনু) জেলা সভাপতি হন। ১৯৯৭ সালে জাসদ পুনরায় একীভূত হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।