• ই-পেপার

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

পুলিশ পরিচয়ে অপহরণচেষ্টায় দু’জন কারাগারে

বারহাট্টা  (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
পুলিশ পরিচয়ে অপহরণচেষ্টায় দু’জন কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

পুলিশ পরিচয়ে নেত্রকোণার বারহাট্টা থেকে সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল রবিবার নেত্রকোণার ভারতীয় সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আটবাড়িবাজার থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বারহাট্টা থানায় পাঠায় কলমাকান্দা থানার পুলিশ। 

সোহরাব হোসেন (২৮) বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর-পালপাড়া গ্রামের ওয়ারেছ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের ঠাকুরাকোণা গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৩) ও সিজন মিয়া (৩৫)। 

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদি হয়ে ৪ জন জ্ঞাত ও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে বারহাট্টা থানায় মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয়সূত্র থেকে জানা যায়, পালপাড়া গ্রামের মামুন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি সোহরাব হোসেনকে তার বাড়িতে ঝগড়া লাগার মিথ্যে অজুহাতে  দ্রুত বাড়ি ফিরতে ফোন করেন। সোহরাব হোসেন এলাকার নৈহাটীবাজারে দোকান পরিচালনা করেন। মামুনের ফোন পেয়ে বাড়ি আসার পথে দুটি মোটর সাইকেল আরোহী ৫ ব্যক্তি সোহরাব হোসেনের গতিরোধ করে এবং হ্যান্ডকাপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তার নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে দ্রুত গাড়িতে উঠায়। ওদের হেলমেট ও মোটর সাইকেলের পিছনে পুলিশ লিখা ছিল। পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সোহরাব হোসেনকে মারধর করে জোর করে ওদের মোটরসাইকেলের চড়ায়। পরে কলমাকান্দা উপজেলার প্রত্যন্ত আটবাড়িবাজার এলাকায় একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। জীবন বাঁচানোর তাগিতে সোহরাব হোসেন ওদের টাকা দিতে চাইলে একপর্যায়ে তাকে আটবারিবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে  কৌশলে স্থানীয়দের কাছে নিজের অপহরণের ঘটনা জানান তিনি। স্থানীয়রা সুজাত মিয়া ও সিজন মিয়াকে একটি মোটর সাইকেলসহ আটকে রেখে পুলিশে খবর পাঠান। পরে কলমাকান্দা পুলিশ এসে সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার ও ওই দুইজনকে আটক করে।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চম্পক দাম বলেন, পুলিশ সেজে অপহরণের ঘটনায় দুইব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তার ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জোর তৎপরতা চলছে।

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সদরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৬৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো।    

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে রবিবার (৭ জুন) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরো পড়ুন
সিলেটে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭১

সিলেটে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭১

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরো জানান, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লায় বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লায় অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রায় ২০০ কেজি রুটি ও বিস্কিট উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দিনব্যাপী মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যৌথ উদ্যোগে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

মুরাদনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

অভিযানে মুরাদনগরের ‘মেসার্স বাদল ফুড এন্ড বেভারেজ’-কে অবৈধভাবে অনুমোদনহীন এডিবল জেল (অরেঞ্জ ও স্ট্রবেরি) উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণের দায়ে বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এছাড়া শ্রীকাইল রোডের ‘মেসার্স বি বাড়িয়া বেকারি’কে অবৈধভাবে ব্রেড ও বিস্কুট উৎপাদন এবং বিক্রয়-বিতরণের দায়ে বিএসটিআই আইন-২০১৮ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মানহীন থেকে প্রায় ২০০ কেজি ব্রেড ও বিস্কুট জব্দ করে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মুরাদনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান, প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই কুমিল্লা অফিসের ফিল্ড কর্মকর্তা (সিএম) মো. ইকবাল আহম্মদ এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী আরিফ উদ্দিন প্রিয়।

সিলেটে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭১
সংগৃহীত ছবি

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সিলেট মহানগর পুলিশের পৃথক অভিযানে গত ৩২ ঘন্টায় ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টা য় আটক হন ১৪০ জন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছিনতাইকারী, চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী রয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ৩২ ঘন্টায় এসব অভিযান চালানো হয়। মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র, ফাঁড়ি ও ডিবি এসব অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩২ ঘণ্টার অভিযানে মোট ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জন এবং এর আগের ৮ ঘণ্টায় আরো ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছিনতাইকারী, চোর, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি, বিনা পরোয়ানার আসামি, সন্দেহভাজন ও মেট্রো অধ্যাদেশ মোতাকে গ্রেপ্তারকৃতরাও রয়েছেন। এসব অভিযানের সময় ১৫৫ পিস ইয়াবা, ৭৫ বস্তা ভারতীয় জিরা, ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকার ভারতীয় ফেসওয়াশ, ক্লপ-জি ক্রিম, প্র্যাকটিন সিরাপসহ একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’ নগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে মহানগর পুলিশের নিয়মিত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।