পাবনায় পৃথক ঘটনায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে দুজন খুন হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার প্রধান গেটের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে।
এর আগে একইদিন বিকেলে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে মনিরুল ইসলাম নামের এক কলেজছাত্র নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা।
গুলিতে নিহত আলী হোসেন সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে। তিনি চরমপন্থী দল নকশালের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর নিহত কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম সাঁথিয়া থানার শিবরামপুর পশ্চিমপাড়ার মুন্নাফ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করেছে পুলিশ। রাকিব একই এলাকার আলম হুজুরের ছেলে।
আরো পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষকের ইজারা নেওয়া জমি বিএনপি নেতার দখলে
পুলিশ জানায়, আলী হোসেনের ছেলে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের মতো আজও সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে রিকশায় করে ছেলেকে মাদরাসায় নামিয়ে দিতে এসেছিলেন আলী হোসেন। তাদের বহনকারী রিকশাটি জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার প্রধান গেটে এসে পৌঁছালে রিকশা থেকে নামার মুহূর্তে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন যুবক এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এদিন বিকেলে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার পাবনা পেট্রোলিয়াম পাম্পের পেছনে নিহত মনিরুল ও রাকিবের মধ্যে ঝামেলা বাধে। এ সময় রাকিব মনিরুলকে ছুরিকাঘাতে জখম করে পাশের একটি কচুরিপানা আচ্ছাদিত পুকুরে লুকিয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে। এদিকে মনিরুলকে আহতাবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, আমরা আলী হোসেন হত্যার ঘটনাস্থলে রয়েছি। ঘটনাস্থলের পাশের একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি রিকশা থেকে নামবেন—এমন সময় দুটি মোটরসাইকেলে অল্প বয়সী চার তরুণ এসে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছে। নিহত আলী হোসেন নকশালদের সঙ্গে চলাফেরা করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আর বিকেলে কলেজছাত্র মনিরুল হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। উভয় হত্যা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। পরে এ বিষয়গুলোতে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।