• ই-পেপার

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে দুই পরিবহনকে জরিমানা

রংপুর মেডিক্যালে রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে ভাড়া বাণিজ্য, আটক ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুর মেডিক্যালে রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে ভাড়া বাণিজ্য, আটক ৭
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট সার্ভিস ব্যবহার করতে বাধ্য করার অভিযোগে একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান ফটক ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর উত্তর ফতেহপুর এলাকার ওমেদ আলী (২৬), ধাপ কেল্লাবন্দ এলাকার রানা মিয়া (৩৪), কাউনিয়া উপজেলার রাজু মিয়া (৪০), বখতিয়ারপুর এলাকার বিপ্লব মিয়া (২৪), কদমতলা এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪২), চিকলী ভাটা এলাকার আরাফাত হোসেন আপলে (২২) এবং কেল্লাবন্দ এলাকার মারুফ হোসেন (২৬)।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। রোগী বা তাদের স্বজনরা অন্য কোনো অ্যাম্বুল্যান্স নিতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগী আসেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যেত।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি পুলিশ জানায়, হাসপাতাল এলাকায় দালালি, চাঁদাবাজি ও ভাড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তি জানান, ‘চিকিৎসা সেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোগীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যাতে ব্যবসা বা অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে কেউ পার পাবে না।’ 

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজার জব্দের পাশাপাশি ৩ জনের কারাদণ্ড

ছবি : কালের কণ্ঠ
মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজার জব্দের পাশাপাশি ৩ জনের কারাদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং তিনজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার মধ্য চারভাঙা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে আশরাফুল আলম সরকার (৩৮), চর সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকার দাদান মিয়া মোল্লার ছেলে কুদ্দুস আলী (৩২) এবং আলী হোসেনের ছেলে আক্কাস ফকির (৪৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত আশরাফুল আলম সরকারকে তিন মাস এবং কুদ্দুস আলী ও আক্কাস ফকিরকে এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও অমিত রায় ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় তিনটি ড্রেজার মেশিন ও তিনজনকে আটক করা হয়।

জব্দ করা ড্রেজার মেশিনগুলো নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী চরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ইউএনও অমিত রায় বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরের পানিতে ডুবে সাইরা মনি নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের শৈলকূপা গ্রামের পরানপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইরা মনি (৫) স্থানীয় আবুল বশর মেম্বার বাড়ির আব্দুল হালিমের কন্যা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলছিল শিশু সাইরা মনি। খেলার একপর্যায়ে সে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে সাইরা মনির মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন স্বজনরা।

নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি সদস্য) মো. নাসির উদ্দিন জানান, শিশুটি সবার অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুশ ইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)।

শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান।

আরো পড়ুন
ঈদের আমেজের মাঝেই ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানার সামনে বিক্ষোভ

ঈদের আমেজের মাঝেই ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানার সামনে বিক্ষোভ

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার (৫ জুন) থেকে জেলার স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে অস্থায়ী ভিত্তিতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে—এমন ৩৩ জন দক্ষ আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে বিজিবির সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. আশিকউজ্জামান জানান, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান ও চোরাপথগুলো সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই কৌশলকে কাজে লাগাতেই আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা মাত্র বা বিজিবির ডাক পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।