• ই-পেপার

তিন কারখানায় ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে দেখেন চাকরি নেই

যৌতুক ও মাদকের নির্মম বলি

তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় জেসমিন আক্তার বিথী নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও মাদকাসক্ত স্বামীর যৌতুকের দাবি ও ক্রমাগত নির্যাতনে বিথী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার বাবার দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কুনিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় অচেতন বিথীকে উদ্ধার করা হয়। পরে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইলিয়াস ব্যাপারী বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের মাদকাসক্ত স্বামী আল আমিন ব্যাপারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন আল আমিন ও জেসমিন আক্তার বিথী। বিয়ের প্রথম কিছুদিন তাদের সংসার ভালোই চলছিল। আল আমিন তার বড় ভাইয়ের মাছের আড়তে কাজ করতেন। স্বামীকে ব্যবসায় সহযোগিতা করার জন্য বিথী নিজে ব্যাংক থেকে ৬২ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আল আমিনকে দিয়েছিলেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাদল গোমস্তা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। বিথীর দেওয়া ঋণের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে আল আমিন মাদক সেবনে নষ্ট করেন বলে স্ত্রী সন্দেহ করতেন। প্রায় প্রতি রাতেই আল আমিন মাদকাসক্ত হয়ে বাসায় ফিরতেন এবং এই নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটত। পারিবারিক এই অশান্তি ও নির্যাতনের কারণে বিথী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা ইলিয়াস ব্যাপারী উল্লেখ করেন, প্রেমের বিয়ে হলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আল আমিন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বিথীর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকার জন্য তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।

গত ৪ জুন রাতেও টাকার জন্য বিথীকে বেদম মারধর করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরদিন শুক্রবার সকালে বিথী বাবার বাড়িতে চলে যান। কিন্তু সেখানেও আল আমিন ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, টাকা না নিয়ে ফিরলে তিনি আর সংসার করবেন না। বাবার আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিথী টাকা ছাড়াই আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে যাওয়ামাত্রই তার ওপর পুনরায় নির্যাতন শুরু হয়।

বিথীর বাবা জানান, ঘটনার দিন রাতে বিথী রুমের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাকে ফোন করে জানান যে, টাকা-পয়সা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছে। খবর পেয়ে ইলিয়াস ব্যাপারী তার এক বন্ধুকে নিয়ে দ্রুত মেয়ের বাসায় যান। রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ডাকাডাকি ও ফোনে চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে আল আমিন বাসায় এসে দরজা খুললে দেখা যায়, বিথী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলছেন। প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিথীর বাবা মো. ইলিয়াস ব্যাপারী বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েকে তো আর কোনোদিন ফেরত পাব না। আমি শুধু আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

পুলিশ জানায়, এই মামলায় আল আমিন ও মোক্তার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে জেসমিন আক্তার বিথী (২৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও হ্যাপি হোমস এলাকার ২২/৫/১, বন্ধু বেকারির গলির আব্দুস সাত্তার মিয়ার বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জেসমিনের পরিবারের দাবি যৌতুকের ৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে। যৌতুকের জন্য তারা প্রায়ই বিথীর ওপর অত্যাচার করত।

আরো পড়ুন
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে আল আমিনের সঙ্গে জেসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আল আমিন জেসমিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। গতকাল রাত ৯টা ৭ মিনিটে জেসমিন মোবাইল ফোন বাবাকে যৌতুকের টাকার জন্য তার ওপর নির্যাতনের কথা জানায়। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর স্বামী আল আমিন ও তার বড় ভাই মোক্তার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের দুই হাত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়ছে

রাতে মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রবিবার (৭ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ডিএমটিসিএলের তথ্য মতে, রবিবার থেকে মেট্রো রেলের চলাচলের সময় রাতের দিকে উভয় প্রান্তে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশে শেষ ট্রেন রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাবে, যা বর্তমানে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, যেখানে বর্তমানে শেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতের চলাচলের সময় বাড়ানোর আগে এ বিষয়ে গত এক মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রবিবার থেকে বর্ধিত সময়সূচিতে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ২০ মিনিটে মাত্র একটি করে ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ একটি ট্রেন মতিঝিলের দিকে এবং আরেকটি ট্রেন উত্তরার দিকে চলাচল করবে। ফলে এ সময় এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের মধ্যে ১০ মিনিটের বিরতি থাকবে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে ২ দিক থেকেই মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, রবিবার থেকে রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট বাড়তি চলাচল করবে।

বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি

বুড়িগঙ্গা নদীর দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও পরিকল্পিত খনন কাজ পরিচালনার জন্য জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ‘বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের পক্ষ থেকে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় ৫ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসূল, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েসের কো-ফাউন্ডার হুমায়ুন কবির সুমন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের শাকিল আহমেদসহ অনেকেই।

1

উত্থাপিত ৫ দফা সুপারিশে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ ও নদীর সীমানা পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। জাতীয় বাজেটে নদী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। বুড়িগঙ্গার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও বৈজ্ঞানিক ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী রক্ষায় স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী নদী রক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও বাজেট দিতে হবে।

সমাবেশে আমিনুর রসুল বলেন, বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার জীবনরেখা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় এটি মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য টেকসই ড্রেজিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আলাদা বাজেট কাঠামো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কঠোরতা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মিহির বিশ্বাস বলেন, অবৈধ দখল, শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে বুড়িগঙ্গা নদী। নদী দখলমুক্ত করা ও নিয়মিত খনন ছাড়া বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তাই এ খাতে জাতীয় বাজেটে পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি। শুধু ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।