• ই-পেপার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি

গলাচিপায় বজ্রাঘাতে এক দিনে দুই কৃষকের মৃত্যু

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গলাচিপায় বজ্রাঘাতে এক দিনে দুই কৃষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে এক দিনে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নে এবং দুপুরে চরকাজল ইউনিয়নে এ দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের উত্তর আমখোলা গ্রামের মো. খলিল হাওলাদারের ছেলে মো. রিয়াজ হাওলাদার (৩০) এবং চরকাজল ইউনিয়নের পশ্চিম চরকাজল গ্রামের আলমগীর সরদার (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন রিয়াজ হাওলাদার। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই দিন দুপুরে নিজের গরু আনতে মাঠে যান আলমগীর সরদার। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিকেলের দিকে মাঠে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আমখোলা এলাকায় বজ্রপাতে আহত এক কৃষকের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ গলাচিপায় আনার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, চরকাজল এলাকায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী মো. আইনুদ্দীন এবং তার ছেলে রাশেদ মিয়া।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাম্পে কাজ করছিলেন আইনুদ্দীন। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তার ডোবার পানিতে পড়ে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

বাবাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন ছেলে রাশেদ মিয়া। তবে তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকতার মিয়া বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার ‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত কড়ই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে প্রশাসন। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি গোড়া থেকে অপসারণ করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরে গাছটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়ার পর গাছটি আবার দাঁড়িয়ে গেছে—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেন, আবার অনেকে এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। গাছটির গোড়ায় আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো, মানত করা এবং শিকড় সংগ্রহের ঘটনাও দেখা যায়।

আরো পড়ুন
ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

 

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া এটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি জানান, গাছের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে মালিক সম্মতি দিয়েছেন।

এদিকে গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। আখাউড়া বড়বাজারের বাসিন্দা মির্জা মারুফ ফেসবুকে লেখেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের ওপরের অংশ কেটে ফেলার ফলে ওজন কমে গিয়ে এবং শিকড় ও মাটির স্থিতিস্থাপকতার কারণে গাছটি আংশিকভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। বিষয়টিকে রহস্যময় বা অলৌকিক হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ঘটনাটিকে সৃষ্টিকর্তার কুদরত হিসেবে দেখছেন। গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, ‘কিভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। গাছটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছিল। অনেকে মানত করছিলেন, শিকড় সংগ্রহ করছিলেন।’

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া জানান, ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর মাটিতে থাকা অবস্থায় তিনি গাছটি কাটতে শুরু করেন। ডালপালা কেটে ফেলার পর গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তার মতে, ওপরের অংশের ভার কমে যাওয়ায় এমনটি ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ও সাবেক অধ্যক্ষ বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, ‘কিছু গাছ ভারসাম্যের কারণে আংশিকভাবে সোজা হয়ে যেতে পারে। তবে কড়ই গাছের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়। এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, মাস দেড়েক আগে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছটি কাটার সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়ার দাবি সামনে এলে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে গাছটিকে ঘিরে ধর্মীয় আচরণ ও জনসমাগম বাড়তে থাকায় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে।

নদীতে গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল বেরোবি শিক্ষার্থীর

রংপুর অফিস
নদীতে গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল বেরোবি শিক্ষার্থীর
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মহানগরীর তাজহাট পানবাড়ি এলাকায় ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে শিহাব শাহরিয়ার নামের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রংপুর নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে তিন বন্ধুর সঙ্গে নগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাড়ি ব্রিজসংলগ্ন ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নামেন শিহাব। একপর্যায়ে তিনি নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিহাব নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে শিহাবকে নদী থেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ফারুক জানান, নদী থেকে উদ্ধারের সময় শিহাবের হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিহাবের অকাল মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।