• ই-পেপার

নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ শিশু

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া এলাকায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান বিরোধ ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ জারি করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় মাত্র দুই শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ভূঁইয়া ও পাশের নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

জারি করা আদেশে বলা হয়, খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অস্ত্রের মহড়া ও দাঙ্গাহাঙ্গামার ঘটনা ঘটছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ আদেশের আওতায় খারুয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, মাইক ব্যবহার, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। তাই দুই পক্ষের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি। তাদের নিয়ে আমরা বসব। তাদের সমস্যা জানব। এরপর থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। বুধবার আব্দুর রউফ ভূঁইয়ার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পরদিন দুই গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।

পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যকে “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future” ধারণ করে কার্বন নিঃসরণরোধী পশুখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন সম্প্রসারণ প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাংলাদেশ।

দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে মহিষের খাদ্য তালিকায় ঘাসের সঙ্গে ডালজাতীয় পশুখাদ্য অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডালজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে থাকা নডিউল বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন মাটিতে স্থির করে, ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে এবং মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহিষের মিথেনসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব, যা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

একদিকে মহিষের গোবরকে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয়, কৃষি উৎপাদন আরও টেকসই হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। অন্যদিকে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যে লালিত মহিষ থেকে প্রাপ্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য মানুষের জন্য উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহিষের দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে সহায়ক।

প্রকল্প পরিচালক ড. সুমনা আক্তার বলেন, ‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে পরিবেশবান্ধব মহিষ পালন, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করছি, অন্যদিকে তেমনি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও অবদান রাখছি। দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই কার্যক্রম টেকসই কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতি আমাদের প্রেরণা, সুস্থ পরিবেশ ও সুস্বাস্থ্য আমাদের অঙ্গীকার।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণ মামলায় পুলিশের চার্জশিট জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণ মামলায় পুলিশের চার্জশিট জমা
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের আদালতে চার্জশিট জমা দেন বাকলিয়া থানা পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, মামলা দায়েরের সাত কার্যদিবসের মধ্যে এবং ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলার নথি ডকেট শাখা থেকে ষষ্ঠ আমলি আদালতে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল রিপোর্ট, আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। সবার সহযোগিতার কারণে দ্রুত তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, চার্জশিটে গ্রেপ্তার মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে এবং এতে ১০ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরদিনই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আসামি মনির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়।

পরে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২২ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মনির হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার পাঘাচং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রেলওয়ে পুলিশ ও ট্রেনের যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্ত নগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর অনতিদূরে অবৈধ লেভেলক্রসিংটি অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। এ সময় মাইক্রোবাসটি রেললাইনে আটকে যায়। ট্রেন আসতে দেখে এর চালক ও যাত্রীরা নেমে যান। তবে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে খাদে গিয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনা খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি খাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে তিনি জানান।