খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমির ধলা পাহাড়কে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন মাজারের খাদেমরা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তারা একটি আলোচনাসভা করেছেন। সভা শেষে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার ও এর দিঘিতে থাকা কুমিরের দেখভাল করা ফকিরদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রায় ৫০০ বছর ধরে তারা এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ বর্তমানে মাজারের প্রধান আকর্ষণ কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য কষ্টের বিষয়।
তিনি বলেন, কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে মাজারকেন্দ্রিক হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর আগে কুমিরের দ্বারা কুকুর শিকারের ঘটনা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তখন আমরা মাজারের নিরাপত্তার জন্য আটজন দারোয়ান নিয়োগ দিয়েছি। একটি দুর্ঘটনার কারণে শত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস মুছে ফেলা হবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।
কুমির না থাকলেও চলছে মানত
এদিকে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে কুমির না থাকলেও এখনো ভক্ত ও দর্শনার্থীরা হাঁস, মুরগি ও ছাগল নিয়ে মানত পূরণ করতে আসছেন। ভক্তদের দেওয়া এসব মানতের প্রাণী সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে মাজারের খাদেমদের।
মাজারে মানত নিয়ে আসা মোল্লাহাট উপজেলার কাচনা গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, আমি মানতের একটি মুরগি নিয়ে এসেছি। শুনেছি এখন মাজারে আর কুমির নেই। তারপরও মানত পূরণের জন্য মুরগিটি নিয়ে এসেছি। কারণ আমার মানত ছিল, আশা পূরণ হলে মাজারে একটি মুরগি দেব। তাই মুরগিটি দিঘিতে ছেড়ে দিয়েছি। পরে দেখলাম একজন সেটি তুলে নিয়ে গেল। এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার মানত পূরণ হয়েছে, এখন মুরগিটি কুমির খাক বা মানুষ খাক, সেটা আমার বিষয় নয়।
বন বিভাগের অবস্থান
খুলনা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, মাজার থেকে আনা কুমিরটি বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। এটি একটি মিঠাপানির কুমির। সে কারণে কোনোভাবেই এটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে না। কারণ সুন্দরবনের লবণাক্ত পানিতে এ ধরনের কুমির বাঁচতে পারবে না। আমরা চেষ্টা করছি কুমিরটিকে তার উপযোগী পরিবেশে রাখার। এ মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে কোথায় রাখা বা অবমুক্ত করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।